Published : 02 Oct 2025, 12:39 PM
স্কোয়াডেই ছিলেন সান্দিপ লামিছানে। তার পরও তাকে খেলতে দেখা গেল না একটি ম্যাচেও। দলের সবচেয়ে বড় তারকা মাঠের বাইরে থাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছিল অনেক, জেগেছিল প্রশ্ন। তার চোটের কোনো খবরও জানা যায়নি। অবশেষে সেটি খোলাসা করল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (সিএএন)। সিরিজের প্রথম ম্যাচে একদম শেষ সময়ে নিজে থেকেই সরে দাঁড়ান এই লেগ স্পিনার, পরের দুই ম্যাচ থেকে তাই বরখাস্ত করা হয় তাকে!
বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্রকে ছাড়াই অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য পায় নেপাল। শারজাহতে সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-১ ব্যবধানে হারায় এশিয়ার উঠতি শক্তি আইসিসির এই সহযোগী দেশটি।
বিবৃতিতে সিএএন জানায়, গত সোমবার সিরিজের প্রথম ম্যাচের টসের স্রেফ ১৫ মিনিট আগে লামিছানে জানান, তিনি ম্যাচটি খেলতে পারবেন না।
দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারের সেই সিদ্ধান্ত গোটা দল ও বৃহত্তরভাবে নেপাল ক্রিকেটের ওপর ‘গুরুতর প্রভাব’ ফেলেছিল বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। টিম ম্যানেজমেন্টের সুপারিশেই পরের দুই ম্যাচ থেকে লামিছানেকে বাইরে রাখা হয়।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পরে লামিছানের সঙ্গে কথা বলা হয় প্রথম ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ নিয়ে। ২৫ বছর বয়সী লেগ স্পিনার বলেন, ম্যাচটি খেলার জন্য মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে নেই তিনি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৯ রানে জেতে নেপাল। আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে যা তাদের প্রথম জয়। সেই সাফল্যের পথ ধরে পরের ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের গুঁড়িয়ে ৯০ রানের জয়ে সিরিজও জিতে নেয় তারা। পরে হেরে যায় শেষ ম্যাচটিতে।
নেপালের প্রথম ও এখনও পর্যন্ত একমাত্র বৈশ্বিক তারকা বলা যায় লামিছানেকে। বিশ্বের নানা দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়ান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তার রেকর্ড অসাধারণ। ৪২ ম্যাচে ১০০ উইকেট ছুঁয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান তিনি। সেখানে পেছনে ফেলেন তিনি রাশিদ খানকে।
টি-টোয়েন্টিতে রাশিদের বিশ্বরেকর্ড ছুঁতে পারেননি অল্পের জন্য। এই সংস্করণে ১০০ উইকেট স্পর্শ করেন তিনি ৫৪ ম্যাচে। রাশিদের রেকর্ড ৫৩ ম্যাচে।
তবে মাঠের বাইরে বিতর্ক নতুন কিছু নয় লামিছানের জন্য। ধর্ষনের অভিযোগে নেপালে জেলে যেতে হয়েছিল তাকে, নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ক্রিকেট থেকে। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি পরে।