Published : 29 May 2025, 01:09 PM
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে বিসিবি পরিচালক হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বোর্ড সভাপতি হওয়ার আলোচনা নিয়ে অবশ্য তিনি সরাসরি কিছু বলতে চান না। তবে দেশের ক্রিকেটের জন্য বিসিবিতে যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
আইসিসির ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা আমিনুল অনেক দিন ধরেই পরিবার নিয়ে থাকেন মেলবোর্নে। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন পারিবারিক এক প্রয়োজনে। তবে সেই সফরই এখন রূপ নিতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পালাবদলের এক অধ্যায়ে।
আমিনুলের বিসিবি সভাপতি হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে মূলত ফারুক আহমেদকে নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভাবনার প্রেক্ষিতে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ফারুক জানিয়েছেন, বুধবার রাতে তার সঙ্গে বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়ে দিয়েছেন, বোর্ড সভাপতির দায়িত্বে পরিবর্তন চান তিনি।
ফারুক নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে অবশ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কিছু করা কঠিন। বোর্ডে সরকারী হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেলে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা একরকম অবধারিত। তবে কেউ নিজ থেকে দায়িত্বে ছাড়লে সমস্যা নেই। ফারুকের অবশ্যই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছে নেই। বরং আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে লম্বা সময়ের জন্য সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এখন তার জন্য এলো বড় ধাক্কা। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ফারুক দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। তিনি বলেছেন, ভাবার জন্য কিছুটা সময় নিতে চান।
ফারুক পদত্যাগ করলে দুয়ার খুলে যাবে আমিনুলের জন্য। দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, বোর্ডে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।
“যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েক দিন আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল যে, আমি সার্ভ করতে রাজি আছি কি না। আমি বলেছি, বোর্ডে কোন কোন জায়গায় কাজ করা উচিত, বেশ কিছু জায়গা আছে যেখানে অনেক কিছু করার আছে। তখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, দেশে আসব কবে। আমি বলেছিলাম, ব্যক্তিগত এক কাজে এমনিতেই কদিন পর আমার দেশে আসার কথা।”

“আমাকে তখন বলা হয়েছে, তারা আমাকে বিসিবি পরিচালক পদে চান। সভাপতি নিয়ে কথা হয়নি। সভাপতি তো কেউ এভাবে চাইতে পারেন না। বোর্ড পরিচালকদের ভোটে সভাপতি হতে হবে। তবে পরিচালক পদে তারা চান। আমি বলেছি, দেশের ক্রিকেটের জন্য যে কোনো দায়িত্ব নিতে রাজি আছি।”
সেই দায়িত্বটি যে বোর্ড সভাপতিরই হতে যাচ্ছে, তা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। তবে লম্বা সময়ের জন্য কোনো দায়িত্ব নিতে চান না ৫৭ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার।
“দেখুন, আমি আইসিসিতে একটা দায়িত্বে আছি। ওটা আমার পেশা, আমার জীবিকা। লম্বা সময় বিসিবিতে থাকার ইচ্ছে আমার নেই। দেশের ক্রিকেট আমাকে চেয়েছে। আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। বিসিবি নির্বাচন পর্যন্ত কাজ করতে চাই। তবে নির্বাচন করা বা দীর্ঘমেয়াদে থাকার ইচ্ছে নেই। জীবিকার কথাও তো ভাবতে হবে।”
আমিনুল এখন দায়িত্ব পালন করছেন আইসিসির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে। এছাড়া হাই পারফরম্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক সাজানো, বিভিন্ন ট্রেনিং এডুকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিবার মেলবোর্নে থিতু হলেও তাকে নিয়মিত ছুটে বেড়াতে হয় বিভিন্ন দেশে।
তার বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পথে আইসিসির কোনো আপত্তি নেই বলেও জানালেন ৫৭ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার। বিসিবির দায়িত্ব শেষে আইসিসিতে ফিরে যাওয়ার দুয়ারও তার খোলা থাকবে।
“ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর আইসিসিতে কথা বলেছি আমি। ওদের কোনো বাধা নেই, ওরা বরং খুশিই। ওরাও তো চায় সদস্য দেশগুলিকে যেভাবে পারা যায় সহায়তা করতে।”
“ওরা বলেছে, বিসিবির দায়িত্ব শেষে আবার আইসিসিতে যোগ দিতে পারব। বরং আরও বেটার রোল আমাকে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ওরা। এমনিতে আমি যে সেক্টরে আছি, এখানে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজারই শেষ, ওপরে কিছু নেই। তবে অন্যান্য জায়গায় কাজ করার সুযোগ আছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যে ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক, সেটি আমারই করা। হয়তো ওই সংক্রান্ত কোনো কাজ বা দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আমাকে।”
কয়েক মাসের জন্য কেন বিসিবির দায়িত্ব নিতে চাইছেন বা এত অল্প সময়ে কতটা পার্থক্য গড়তে পারবেন, সেটিও জানালেন দেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক।
“দেখুন, ১৮ বছর ক্রিকেট খেলেছি। দেশের ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। বলতে পারেন এসব আবেগের কথা। কিন্তু দেশের ক্রিকেটকে সার্ভ করার সত্যিকারের সুযোগ পেলে ‘না’ বলার জায়গা নেই। এবার সত্যিকারের সুযোগ আছে বলেই মনে হয়েছে আমার।”
“অনেক কিছু হয়তো করে ফেলতে পারব না। তবে কিছু করতে চাই, যা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পথ দেখাবে।”