Published : 12 Jul 2026, 10:48 PM
ভারতের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ওপর আরোপিত নতুন অ্যালকোহল সংক্রান্ত নির্দেশিকা শিথিল করেছেন প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তিনি বলেছেন, ক্রিকেটাররা পান করলে তার কোনো আপত্তি নেই, ‘যতক্ষণ না কেউ খবরের শিরোনামে আসে।’
গত বছর থেকে ইংলিশ ক্রিকেটকে বিতর্কিত করা একের পর এক অ্যালকোহল সংক্রান্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) খেলোয়াড়দের জন্য নতুন বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করে, যা শুক্রবার প্রথম দা টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত হয়। নির্দেশিকাটিতে জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ হারের পর জারি করা ‘মিডনাইট কারফিউ’ বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগের ও পরের দিন এবং ম্যাচ চলাকালীন সময়ে মদ্যপান না করার জন্য বলা হয়।
তবে সেখানে একটি শর্তও ছিল যে, ম্যাককালাম ও ক্রিকেট পরিচালক রব কি যদি উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তারা এই নিয়মটি শিথিল করতে পারবেন। সাউথ্যাম্পটনে শনিবার ভারতের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে জিতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার পর সেই সিদ্ধান্তের কথাই জানান প্রধান কোচ ম্যাককালাম, যাকে রোববার টেস্ট দলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়, তবে সাদা বলের দলের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।
“প্রথমত, আমাদের দলের খুব বেশি খেলোয়াড় পান করে না, কিন্তু যে কেউ বিয়ার খেতে চাইলে তা খেতে পারে, হ্যাঁ। নির্দেশিকা কার্যকর আছে। সবাই এই নির্দেশিকা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত। এগুলো সবার কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়দের যত্ন নেওয়া হয় এবং তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ম্যাককালাম বলেন, তাদের ‘সাফল্যের উষ্ণতা অনুভব’ করতে হবে।
“আমি খেলোয়াড়দের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখি। সকল তথ্য তাদের কাছে আছে। সাফল্যের উষ্ণতা অনুভব করতে হবে এবং যদি কেউ বিয়ার পছন্দ করে, তাহলে আজ রাতটা নিজেকে উপভোগ করার দারুণ সুযোগ, যতক্ষণ তা পরিমিত হয় এবং মাত্রাতিরিক্ত না হয়। গত ১০ দিনে তারা যা অর্জন করেছে, তা নিজের মতো করে উদযাপন করার সুযোগ।
“তবে সবাই এই (নির্দেশিকা) নিয়ে খুব সচেতন এবং আমি মনে করি, আমরা শান্তভাবে বিয়ার পান করব এবং এই সাফল্য উপভোগ করব, যতক্ষণ না কেউ খবরের শিরোনামে আসে।”
গত অক্টোবরে নিউ জিল্যান্ড সফর থেকে ইংল্যান্ড দল অ্যালকোহল সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের আগের দিন ওয়েলিংটনের এক নাইটক্লাবের বাউন্সারের হাতে ঘুষি খেয়েছিলেন সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। পরে তাকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়। ব্রিজবেনে অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর, উপকূলীয় শহর নুসায় অবকাশ যাপনের সময় অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ওঠে।
সবশেষ ঘটনাটি বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে নিয়ে। গত মাসে লর্ডসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের পর তারা দলের ‘মিডনাইট কারফিউ’ ভঙ্গ করেন। লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে রাগবি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত চলাকালীন ওভালে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য এই দুজনকে দলে বিবেচনা করা হয়নি।
তৃতীয় টেস্টের জন্য এই দুজনকে দলে ফেরানো হয়। অধিনায়ক হিসেবেই ফেরেন স্টোকস। নাইটক্লাব কাণ্ডে দুজনের কেউ কোনো শাস্তি পাননি। ভবিষ্যৎ আচরণের বিষয়ে স্রেফ লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় তাদের। যাদের কাছে ইসিবি বিষয়টি পাঠিয়েছিল, সেই ক্রিকেট রেগুলেটরও দুজনের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ট্রেন্ট ব্রিজের সেই টেস্টের মাঝেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান স্টোকস। ওই ম্যাচ হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে স্বাগতিকরা।