Published : 04 Apr 2026, 09:02 PM
রান তাড়ায় প্রথম দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়। চাপের মুখে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পেতে সামির রিজভির লাগল ১০ বল। প্রথম ১৭ বলে তার রান ছিল ১১। তিনিই পরে ঝড় তুললেন। আরেকটি বিধ্বংসী ইনিংসে আবারও দলকে জেতালেন ২২ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
আইপিএলে শনিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৬ উইকেটে হারায় দিল্লি ক্যাপিটালস। ১৬৩ রানের লক্ষ্য ১১ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় আকসার প্যাটেলের দল।
‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে নেমে সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৫১ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ রিজভি।
আইপিএলের দুই আসর মিলিয়ে তার টানা তৃতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস এটি এবং তিনটিতেই রান তাড়ায় দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরা তিনি।
আইপিএলের প্রায় দুই যুগের ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন রিজভির আগে কেবল সাত জন। এর বেশি ম্যাচে পাননি কেউই।
গত আসরে দিল্লির শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ২৫ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রিজভি।
গত আসরে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন চলতি আসর শুরু করেন তিনি। লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে দিল্লি। এরপর, পাঁচ চার ও চার ছক্কায় ৪৭ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন রিজভি।
এবার মুম্বাইয়ের বিপক্ষেও চাপের মুখে ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, এই তিনটি ম্যাচেই দিল্লির জয় ৬ উইকেটে!
দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় প্রথম ওভারে লোকেশ রাহুলকে হারায় দিল্লি। তিনে নেমে পরের ওভারে রান আউট হয়ে যান নিতিশ রানা। এরপর ব্যাটিংয়ে যান রিজভি।
শুরুতে তিনি ছিলেন সতর্ক। অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন পাথুম নিসাঙ্কা। ৩০ বলে ৪৪ রান করে দশম ওভারে ফেরেন এই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান। এরপরই শুরু হয় রিজভির তাণ্ডব।
একাদশ ওভারে কর্বিন বশকে দুটি করে চার ও ছক্কায় তিনি তোলেন ২০ রান। পরের ওভারে টানা দুটি ছক্কা মারেন মায়াঙ্ক মারকান্ডেকে। ফিফটি পূর্ণ করেন ৩১ বলে।
দিপাক চাহারকে চার ও ছক্কার পর, শার্দুল ঠাকুরের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৮৭ রানে পৌঁছে যান রিজভি। সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল তার সামনে। জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন ৩০ বলে ২৫ রান।
পরের ওভারে একটি বল খেলার সুযোগ পেয়ে রিজভি নেন সিঙ্গল। সপ্তদশ ওভারে বশের প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পর, ছক্কার চেষ্টায় লং অফে ক্যাচ দিয়ে সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
চলতি আসরে রিজভি দুটি ম্যাচই খেললেন ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে। এবার তার ৯০ রান আইপিএলে ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তার ওপরে আছে ২০২৪ সালে জস বাটলারের অপরাজিত ১০৭ ও ২০২৫ সালে সাই সুদার্শানের অপরাজিত ১০৮ রান।
ভারতের উত্তর প্রদেশে রিজভিকে বলা হয় ‘ডানহাতি সুরেশ রায়না।’ ২০২৪ আইপিএলের নিলামে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। আট কোটি ৪০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস।
আইপিএলে প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই আফগান তারকা রাশিদ খানকে স্লগ সুইপে ছক্কায় উড়িয়ে সামর্থ্যের ঝলকও দেখান তিনি। পরে যদিও ভালো করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ওই আসরে আট ম্যাচে করেন কেবল ৫১ রান। পরে তাকে ছেড়ে দেয় চেন্নাই।
২০২৫ আইপিএলের মেগা নিলামে তাকে পেতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। আগেরবার প্রায় সাড়ে আট কোটিতে দল পাওয়া ব্যাটসম্যানকে এবার স্রেফ ৯৫ লাখ রুপিতেই পেয়ে যায় দিল্লি।
সেবার নিজের প্রথম চার ম্যাচে যদিও ৬৩ রানের বেশি তিনি করতে পারেননি। শেষ ম্যাচে অপরাজিত ফিফটিতে জেতান দলকে। সেই ফর্ম তিনি বয়ে আনলেন চলতি আসরেও।