Published : 12 Jan 2026, 04:33 PM
দুপুরের আগেই চোখে পড়ল শহর থেকে স্টেডিয়ামমুখী জনস্রোত। সিলেট পর্বের শেষ দিনে সিলেটের ম্যাচ। স্থানীয় দর্শকেরা তো আর ঘরে বসে থাকতে পারেন না! একদম টইটম্বুর না হলেও গ্যালারিতে দর্শকের ভীড় দেখা গেল যথেষ্টই। সেই দর্শকদের আনন্দে ভাসিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স এ দিনই মেলে ধরল সিলেট। দারুণ ব্যাটিং-বোলিংয়ে তারা হারিয়ে দিল ফেভারিট রংপুরকে।
রংপুর রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ঘরের মাঠে এবারের বিপিএল অভিযান শেষ করল সিলেট টাইটান্স। রংপুরকে টপকেই পয়েন্ট তালিকার তিনে উঠে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার পেস-স্পিনের যৌথ আক্রমণে রংপুরকে ১১৪ রানেই গুটিয়ে দেয় সিলেট।
১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা সিলেটেরই সন্তান নাসুম আহমেদ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নেমে তিন উইকেট শিকার করেন পেসার শহিদুল ইসলামও।
মইন আলিকে তো খেলতেই পারছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। চার ওভারে একটি মেডেনহ স্রেফ আট রানে দুটি উইকেট নেন ইংলিশ এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
রান তাড়ায় সিলেট জিতে যায় ওভারে। ব্যবধান বড় হতে পারত আরও। জয়ের দুয়ারে গিয়ে দুটি উইকেট হারায় তারা।
জয়ের পথে সিলেটে ছোটার শুরু টস জয় দিয়ে। ম্যাচের প্রথম ওভারটিই মেডেন নেন মইন। আগের দিন ৯৭ রানের ইনিংস খেলা তাওহিদ হৃদয়কে ক্রিজে আটকে রাখেন তিনি। পরের ওভারেই নাসুম বিদায় করে দেন কাইল মেয়ার্সকে (০)।
দ্রুতই তাকে অনুসরণ করেন হৃদয়। টুর্নামেন্টে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে তৃতীয় ডেলিভারিতেই উইকেট পান শহিদুল।
লিটন দাসের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, অবশেষে হয়তো নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই আভাস মিলিয়ে যায় দ্রুতই। শহিদুলের স্লোয়ার ডেলিভারিকে বোল্ড হয়ে যান তিনি ১২ বলে ২২ রান করে।
আসরের আট ম্যাচে কোনো ফিফটি করতে পারলেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ চেষ্টা করেন ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ার। পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দেন তারা।
তবে দলকে পুরোপুরি উদ্ধার করার আগেই হাল ছেড়ে দেন ইফতিখার। মইনের ক্যারম বল উড়িয়ে মেরে আউট হন তিনি ২০ বলে ১৭ করে।
পরের ওভারে আরও বড় ধাক্কা খায় রংপুর। দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টায় ইথান ব্রুকসের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান ভালো খেলতে থাকা খুশদিল। তার ২৪ বলে ৩০ রানই দলের সর্বোচ্চ।
ব্যর্থতার বলয় ভেঙে বের হতে পারেননি অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নামা নাঈম হাসান বোল্ড হয়ে যান নাসুমের বলে বাজে শটে। শেষের তিন ব্যাটসম্যানের কেউ রানের দেখা পাননি।

৯৬ রানে ৯ উইকেট হারানো দল ১১৪ রান পর্যন্ত যেতে পারে মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে। ২৩ বলে ২৯ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মাহমুদউল্লাহ।
রান তাড়ায় সিলেটকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতেই কাজ অর্ধেক সেরে ফেলেন তৌফিক খান তুষার ও পারভেজ হোসেন ইমন।
স্থানীয় দর্শকদের মাকিয়ে চার ছক্কায় ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হয়ে যান তৌফিক। তিনে নামা আরিফুল ২১ রান করতে বল খেলেন ২৬টি। কিন্তু তার ইনিংসে ছিল চোখধাঁধানো কয়েকটি শট।
পারভেজ আর আফিফ হোসেন মিলেই খেলা শেষ করবেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু জয়ের একদম কাছে গিয়ে নাহিদ রানার বলে সীমানায় ধরা পড়েনে আফিফ। পরের বলে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান ইখান ব্রুকস।
পারভেজ দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন। ছক্কায় দলকে জেতানোর পাশাপাশি পূর্ণ হয় তার ফিফটি।
ম্যাচ শেষে গোটা মাঠ ঘুরে গ্যালারির দর্শকদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানায় গোটা সিলেট দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর রাইডার্স: ১৯.১ ওভারে ১১৪ (হৃদয় ৪, মেয়ার্স ০, লিটন ২২, ইফতিখার ১৭, খুশদিল ৩০, সোহান ৯, মাহমুদউল্লাহ ২৯, নাঈম ২, মুকিম ০, মুস্তাফিজ ০, নাহিদ ০*; মইন ৪-১-৮-২, নাসুম ৪-০-১৯-৩, শহিদুল ৪-০-৩৬-৩, রুয়েল ২-০-১২-০, মিরাজ ২-০-১৫-০, ইরশাদ ৩.১-০-২৪-১)।
সিলেট টাইটান্স : ১৭.৩ ওভারে ১১৯/৪ (তৌফিক ৩৩ , পারভেজ ৫২*, আরিফুল ২১, আফিফ ১২, ব্রুকস ০, মইন ০*; নাঈম ৪-০-২৩-১, মুস্তাফিজ ৩-০-২৮-১, খুশদিল ১-০-১১-০, মুকিম ৪-০-১১-১, নাহিদ ৩-০-১৮-২, ইফতিখার ২.৩-০-২৮-০)।
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসুম আহমেদ।