জাতীয় ক্রিকেট লিগ
Published : 28 Oct 2025, 08:57 PM
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় স্বাদ পাওয়ার হাতছানি ছিল জিশান আলমের সামনে। কিন্তু খুব কাছে গিয়েও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাওয়া হলো না তরুণ ব্যাটসম্যানের। ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে।
সিলেটে জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ স্পর্শ করেন জিশান। কিন্তু একবারও কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখতে পারেননি ঢাকার ব্যাটসম্যান।
প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা জিশান দ্বিতীয়বার ব্যাটিং করতে নেমে থামেন ৯৭ রানে। তার ১৫৮ বলের এবারের ইনিংসটি গড়া ১৪ চারে। শেষ দিকে ৪২ রান করেন রিপন মন্ডল। তাদের নৈপুণ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৩ রান করে রংপুরকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দেয় ঢাকা।
রান তাড়ায় রংপুর ২৬ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান করার পর আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ।
শেষ দিনে ৮০ রান নিয়ে খেলতে নেমে আর ১৭ রান যোগ করতে পারেন জিশান। তানবির হায়দারের বলে ক্যাচ দিয়ে হতাশা নিয়ে ফেরেন তিনি।
৪৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা আশিকুর রহমান শিবলি পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ১২০ বলে। এরপর আর টিকতে পারেননি তিনি। ১ ছক্কা ও ৪টি চারে ৫১ রানে বিদায় নেন রবিউল হকের বলে। শেষ দিকে রিপনের ব্যাটে তিনশ ছাড়ায় ঢাকার রান।
রংপুরের হয়ে ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন লেগ স্পিনার তানবির হায়দার। তিনটি প্রাপ্তি পেসার রবিউলের।
দিনের দ্বিতীয় সেশনের মাঝপথে ঢাকাকে গুটিয়ে জয়ের লক্ষ্যে ছোটার চ্যালেঞ্জ নেয় রংপুর। ১ ছক্কায় ২২ বলে ১৯ রান করেন মিম মোসাদ্দেক। আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ আল মামুন ২ চারে ৩৩ বলে করেন ২৫ রান।
তিনে নেমে আলাউদ্দিন বাবু ৪টি চারে করতে পারেন ৩৮ রান। অধিনায়ক আকবর আলি ২০ রান করে ফেরেন। এরপর নাসির হোসেন রানের খাতা খুলতে পারেননি।
দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উল্টো কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় রংপুর। শেষ পর্যন্ত যদিও অমীমাংসিত থেকে যায় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা ১ম ইনিংস: ২২১
রংপুর ১ম ইনিংস: ৩৫৮
ঢাকা ২য় ইনিংস: ১১৩.৩ ওভারে ৩৩৩ (আগের দিন ২১২/২) (শিবলি ৫১, জিশান ৯৭, মার্শাল ২২, মাহিদুল ০, তাইবুর ১৮, মাহফুজুর ০, রিপন ৪২, এনামুল ১৫, শাকিল ০*; রবিউল ১৯-২-৭৯-৩, মেহেদি হাসান ১৩-১-৪২-০, হাসিম ৩৫-১২-৭১-১, নাসির ১২-৩-৩৩-০, আলাউদ্দিন ১১-২-২৯-১, আল মামুন ৮-২-১৫-০, তানবীর ১০-১-৪৩-৪, মিম ৩-০-১২-০, আকবর ২.৩-০-৩-১)
রংপুর দ্বিতীয় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৯৭) ২৬ ওভার ১১৫/৬ (মোসাদ্দেক ১৯, আল মামুন ২৫, আলাউদ্দিন ৩৮, আকবর ২০, হাসিম ২, নবীন ৬*, নাসির ০, তানবির ০*; রিপন ৬-০-২৯-২, শাকিল ৬-০-৩৬-১, এনামুল ৩-০-১৭-০, তাইবুর ৭-১-২১-২, মাহফুজুর ৪-০-১২-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাঈম ইসলাম
আরিফুলের ৬২, নাবিলের ৪ উইকেট
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আরিফুল ইসলাম দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে করলেন ফিফটি। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন মোহাম্মদ নাঈম শেখও। অনুমিতভাবেই ড্রয়ে শেষ হলো ময়মনসিংহ ও সিলেটের লড়াই।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে ড্র মেনে নেয় দুই দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২৭২ রান করে ময়মনসিংহ। প্রথম ইনিংসে ৪০১ রান করেছিল তারা। সিলেট একমাত্র ইনিংসে করে ৪৮৯ রান।
ময়মনসিংহের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেন আরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ চারে ৬২ রান। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে না পারা নাঈম শেখ এবার করেন ৫৮ রান। তার ৮৩ বলের ইনিংসে ১ ছক্কার সঙ্গে চার ৬টি।
সিলেটের হয়ে ১৩৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন নাবিল সামাদ। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য ছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
ম্যাচটির ভাগ্য মূলত নির্ধারণ হয়ে যায় আগের দিনই। ৫৮ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করে ময়মনসিং, তাদের হাতে ছিল সবকটি উইকেট। আগের দিন ৩০ রানের সঙ্গে আর ১৫ রান যোগ করে বিদায় নেন মাহফিজুল ইসলাম। টিকতে পারেননি আইচ মোল্লা।
১৯ রান নিয়ে খেলতে নেমে ৬৫ বলে পঞ্চাশের ঠিকানায় পা রাখেন নাঈম শেখ। তাকে আর ইনিংস বড় করতে দেননি আসাদউল্লাহ আল গালিব। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ময়মনসিংহ।
এক প্রান্ত ধরে রেখে সাবধানী ব্যাটিং করেন আরিফুল। ১৪৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। তাকেও বিদায় করেন অফ স্পিনার আসাদউল্লাহ। দুই ইনিংসেই তিনটি করে শিকার ধরেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৪০১
সিলেট ১ম ইনিংস: ৪৮৯
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: ৮৭ ওভারে ২৭২/৯ (আগের দিন ৫৮/০) (মাহফিজুল ৪৫, নাঈম শেখ ৫৮, আইচ ৫, মজিদ ১৫, আরিফুল ৬২, তাহজিবুল ২১, শুভাগত ৪, আবু হায়দার ০, রকিবুল ২০, শহিদুল ২৩*, মারুফ ০*; খালেদ ১১-৪-২২-০, রাজা ৭-১-৩১-১, নাবিল ৩৬-৬-১৩৫-৪, ইবাদত ১১-২-২২-১, আসাদউল্লাহ ২১-৪-৫০-৩, তোফায়েল ১-০-২-০)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: আরিফুল ইসলাম