Published : 03 Jan 2026, 12:14 AM
জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৩ রান। যেন ছক্কায় ম্যাচ শেষ করতে চাইলেন সাকিব আল হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে আজায় কুমারের স্লোয়ার ডেলিভারি ঠিকমতো খেলতে পারলেন না তিনি। মিড-অফে ক্যাচ নিলেন ফিল্ডার। তার আগেই অবশ্য ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন সাকিব।
আইএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবু ধাবি নাইট রাইডার্সকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সাকিবের এমআই এমিরেটস।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার নাইট রাইডার্সকে ১২০ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দেন এমিরেটসের বোলাররা। সেখানেও অবদান আছে সাকিবের। কোনো উইকেট না পেলেও আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৪ ওভারে কেবল ২০ রান দেন বাংলাদেশের স্পিনিং অলরাউন্ডার।
রান তাড়ায় ৫ চার ও এক ছক্কায় ২৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে টম ব্যান্টনের সঙ্গে সাকিবের ৫৩ বলে ৮২ রানের জুটিতে ম্যাচের ফল একরকম চূড়ান্ত হয়ে যায়।
৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান ব্যান্টন। ২৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে এমিরেটস।
ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন সাকিব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৬৯ ম্যাচে এই নিয়ে ৪৬ বার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হয়ে কাইরন পোলার্ড ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের আরও কাছে পৌঁছে গেলেন তিনি।
৭৩২ ম্যাচ খেলে ৪৮ বার সেরা হয়েছেন পোলার্ড, ৪৯২ ম্যাচ খেলে ৪৮ বার ম্যাক্সওয়েল। টি-টোয়েন্টির অনেক রেকর্ডের মতো এখানেও অনেকটা এগিয়ে থেকে সবার ওপরে ক্রিস গেইল। ৪৬৩ ম্যাচ খেলে ৬০ বার সেরার পুরস্কার জিতেছেন ‘ইউনিভার্স বস।’
দ্বিতীয়বারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে উঠল এমআই এমিরেটস। দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটি শিরোপা লড়াইয়ে রোববার ডেজাট ভাইপার্সের মুখোমুখি হবে, যাদের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরেছিলেন সাকিবরা।
রান তাড়ায় এমিরেটসের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে তারা হারায় আন্দ্রে ফ্লেচারকে। আরেক ওপেনার মুহাম্মাদ ওয়াসিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
অষ্টম ওভারে ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব। প্রথম বলে সুনিল নারাইনকে চার মেরে শুরু করেন তিনি।
স্পিনারদের বেশ ভালোভাবে সামলান সাকিব। পরপর দুটি চার মারেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার পীযুষ চাওলাকে। লিয়াম লিভিংস্টোনকে কাট শটে চার মারার পরের বলে বিশাল ছক্কা মারেন তিনি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে। ওই ওভারে চার মারেন আরেকটি।
ব্যান্টন একই ওভারে জেসন হোল্ডারকে টানা চারটি চার মারার পথে ফিফটি পূর্ণ করেন ৪৯ বলে। সাকিবের বিদায়ের পর জয়সূচক রানও আসে তার ব্যাট থেকে।
এবারই প্রথম এই টুর্নামেন্টে খেলছেন সাকিব। এর আগে তিন ম্যাচে ব্যাটিং পেয়ে তার সর্বোচ ইনিংস ছিল অপরাজিত ১৭। সেদিন ২টি উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন তিনি।