Published : 30 Jun 2026, 08:40 AM
লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফ্রি কিকে কেমন ছিলেন? থিয়েরি অঁরির অকপট উত্তর-অতটা ভালো নয়! এতটাই ‘খারাপ’ ছিলেন যে, সাবেক এই ফরাসি তারকার কখনও মনেই হয়নি, মেসি কোনোদিন ‘ফ্রি কিক স্পেশালিস্ট’ হতে পারবেন!
সবশেষ জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রি কিকে বাঁ পায়ের চেনা জাদু আবারও দেখান মেসি। দৃষ্টিনন্দন শটে জাল খুঁজে নেন। চলতি উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত পাওয়া ছয় গোলের মধ্যে ওই একটি তিনি করেন ফ্রি কিকে।
সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ফ্রি কিকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭২টি। এর মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৫০টি, আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২টি, ইন্টার মায়ামির হয়ে ৮টি ও পিএসজির হয়ে ২টি।
ফ্রি কিকে শুরুতে যিনি ‘অতটা ভালো’ ছিলেন না, সেই মেসি কীভাবে দুর্দান্ত হয়ে উঠলেন, সে গল্প শোনালেন অঁরি। বার্সেলোনায় একসময় দুজনে ছিলেন সতীর্থ। বলা ভালো, কাতালুনিয়ার ক্লাবটিতে অঁরির সময় তখন মাঝামাঝি, মেসির তখন সবে শুরু। তবে, ওই কয় বছরে, খুব কাছ থেকে মেসির চলাফেরা, অনুশীলন, ফ্রি কিক, সবই দেখেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিন্যান্ডের পডকাস্টে সেই দেখার সময়ের মেসির মানসিকতা, ফ্রি কিকে ‘মাস্টার’ হয়ে ওঠার অদ্যপান্ত তুলে ধরলেন অঁরি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে নিয়ে তার শুরুর দিকের সংশয়ের কথাও আড়াল করেননি ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড।

“ফ্রি কিকে তার শুরুটা দেখেছিলাম আমি। সে অনুশীলনে আসত, ফ্রি কিক নিত এবং শুরুর দিকে সেগুলো ভালো হত না। ওই সময় আমার মনে হত: মনে হয় না সে ফ্রি কিকে ভালো করতে পারবে।”
শুরুর সেই এলোমেলো শটগুলো মেসি নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন, নিখুঁত করে তুলেছিলেন কীভাবে, অঁরি আওড়ালেন সেই স্মৃতি। সেখানে মেসির নিবেদন, প্রচেষ্টা, লেগে থাকার মানসিকতা ফুটে উঠল।
“তার শটগুলো রক্ষণ দেয়ালে বাধা পেত; দিনের পর দিন। এখন তার ফ্রি কিক হয় গোলকিপার সেভ করে, নয়তো গোল হয়, কিংবা পোস্টে বা ক্রসবারে লাগে। হ্যাঁ, তার মাঝে (ঈশ্বর প্রদত্ত) একটি উপহার আছে, কিন্তু সেজন্যও পরিশ্রম করা লাগে।”
অনুশীলনে মেসি এমন কিছু করত কিনা, যা কেউ দেখেনি, এমন প্রশ্নে অঁরি দিয়েছেন দারুণ উত্তর। সেখানে বাকিদের সাথে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের পার্থক্য স্পষ্ট।
“কখনও কখনও আপনি গ্রেটদের গোল করতে দেখবেন, কেননা, আপনি তার সাথে খেলছেন; আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, অনুশীলনে ওই খেলোয়াড় এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি করছে। লিওর ক্ষেত্রে সেটা উল্টো। সে ম্যাচেই করছে।”
গোল ও সাফল্যের প্রতি মেসির দুর্নিবার ক্ষুধার কথাও উঠে এলো দুই সাবেকের আলাপচারিতায়। নিজে গোল না পেলে মেসি হতাশ হতেন, বললেন অঁরি। সবশেষে তিনি, সবাইকে পরামর্শ দিলেন, আর্জেন্টাইন জাদুকরকে বোঝার চেষ্টা না করে, বরং তাকে উপভোগ করার।
“যদি সে চারটি গোল করত, তখন সে পাঁচটি, ছয়টি, সাতটি, আটটি পেতে চাইত। নিজে গোল না পেলে হতাশ হতো।”
মেসির এই মনোভাবকে অঁরি তুলনা করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ব্রুনো ফের্নান্দেসের মানসিকতার সঙ্গে।
“যারা ভিন্নভাবে চিন্তা করে, তারা ভিন্নভাবেই চিন্তা করে। কেউ যদি নিখুঁত কিছু খোঁজে, যেটা আসলে পাওয়া অসম্ভব, কিন্তু তারা সেটাই করতে চায়। কখনই একজন জিনিয়াসকে বুঝে ওঠা যায় না, তাকে উপভোগ করতে হয়।”