১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বেবি উইলো’ জিসানের দিকে নজর আছে নির্বাচকদের

২০ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় আগ্রাসী ব্যাটসম্যানকে জাতীয় দলে আনার আগে আরও পোক্ত করে তুলতে চান নির্বাচকরা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2025, 04:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:38 PM

অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হতাশার আঁধারে একটু আশার ঝিলিক জিসান আলম। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন জানালেন, এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দল নির্বাচনের বৈঠকেও বেশ ভালোভাবেই উঠে এসেছে এই তরুণের নাম। তবে জাতীয় দলে আনার আগে তাকে পোক্ত হওয়ার আরও সময় দিতে চান তারা।

আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই নিজেকে আলাদা করে চেনান জিসান। সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও এখানকার কোচ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে হিসেবেও তাকে নিয়ে বাড়তি কৌতূহল সবসময়ই ছিল অনেকের। জিসান তার সেই ব্যাটিংয়ের ঘরানাকে আলিঙ্গন করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। 

গত জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি করে হইচই ফেলে দেন তিনি। ওই আসরে প্রায় ১৫৯ স্ট্রাইক রেটে রান করেন তিনি আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮১। 

পরে বিপিএলে অবশ্য ভালো করতে পারেননি তিনি। তবে তার প্রতিভা, প্রভাববিস্তারি ব্যাটিং আর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় নেই বলেই সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলার। গত মে মাসে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে এক ম্যাচে ফিফটি করেন তিনি ৩২ বলে। 

এবার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি দিয়ে প্রথমবার সুযোগ পান বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। অস্ট্রেলিয়ার এই টুর্নামেন্টে দলের চরম ব্যর্থতার সিরিজে একমাত্র ব্যতিক্রম বলা যায় জিসানকে। দলের সর্বোচ্চ ২০৮ রান করেন তিনি ৩৪.৬৬ গড় ও ১৩৮.৬৬ স্ট্রাইক রেটে। টুর্নামেন্টের ছয় ম্যাচে বাংলাদেশের ফিফটি কেবল তিনটি, এর দুটিই করেন জিসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার জন্য এখনও তিনি নিশ্চিতভাবেই যথেষ্ট পরীক্ষিত নন। তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের শক্তির যে গভীরতা, এশিয়া কাপের স্কোয়াডে টিকে যাওয়া বা দলে আসা কজনের যে পারফরম্যান্স বা ক্যারিয়ার রেকর্ড, তাতে জিসানও দলে আসার দাবি জানাতেই পারেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তার বোলিংও খারাপ নয়। ফিল্ডিং বেশ ভালো। 

এশিয়া কাপের দল নিয়ে আলোচনার সংবাদ সম্মেলনে শনিবার প্রধান নির্বাচক জানালেন, দল নির্বাচনী সভায় ২০ এই বছর বয়সী ক্রিকেটারের নাম উঠেছে জোরোসোরেই। 

“দল গঠনের সময় অনেক নাম নিয়েই আমাদের আলোচনা হয়। সেখানে ‘বেবি উইলো’ যেমন আসে, ‘ম্যাচিউরড উইলোও’ আসে। বেবি উইলো সময়ের সঙ্গে ম্যাচিউরড উইলো হয়ে ওঠে। ক্রিকেট ব্যাটের কথা দিয়েই বলছি। সবার দিকেই নজর থাকে। যখন কোনো ভালো ইংলিশ বেবি উইলো পাওয়া যায়, সেদিকে নজর থাকে। সেভাবেই আমরা জিসানের দিকে নজর রাখছি।” 

তাকে জাতীয় দলে না আনার কারণও ব্যাখ্যা করলেন গাজী আশরাফ। অতি রোমাঞ্চিত হয়ে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে চান না তারা। 

“পরিণত হতে ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন তার। আমরা খুব সহজে কাউকে নিতে চাই না, যাতে তাকে আবার দ্রুত বিদায় করতে না হয়। আমরা চাই এই ধারাটা থেকে আমাদের ক্রিকেটাররা বেরিয়ে আসুক। তারা ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ‘এ’ দলের হয়ে খেলে পর্যায়ক্রমে তারা প্রস্তুত থাকুক, যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের রূপান্তরটা ভালো হয়।”