Published : 19 Aug 2025, 09:05 PM
পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার তাড়না ছিল। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে খুনসুটির আনন্দে ডুব দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। আইসিসির দায়িত্ব ছেড়ে তাই অবসর নিয়েছিলেন অ্যালেক্স মার্শাল। বছর না ঘুরতেই তার অবসর জীবনে আপাত যতি। বিসিবির ডাকে তিনি ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের সাবেক এই ডাকসাইটে কর্মকর্তা ঢাকায় এসেই প্রত্যয়ী কণ্ঠে শোনালেন, এদেশের ক্রিকেট থেকে দুর্নীতিবাজদের দূর করতে চান তিনি।
গত ১০ অগাস্ট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে জানানো হয়েছিল, বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক করে আসা হচ্ছে মার্শালকে। পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি যুক্তরাজ্য পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে। ২০১৭ সালে তিনি আইসিসি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ ছাড়াও নিরাপত্তা ও অ্যান্টি-ডোপিং বিভাগ এই ইন্টেগ্রিটি বিভাগের আওতাধীন। সাত বছর সেই ভূমিকায় থেকে গত সেপ্টেম্বরে অবসরে যান তিনি।
এখন তার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ঢাকায় আসার পরদিনই বোর্ডকর্তাদের সঙ্গে লম্বা সময় আলোচনায় বসেন তিনি। ঢাকার একটি হোটেলে মঙ্গলবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার’ সেশন ছিল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও অন্য বোর্ড পরিচালকদের। পাশাপাশি বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে আলাদা একটি সেশন ছিল মার্শালের।
পরে বোর্ড প্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্শাল শোনালেন তার মূল দায়িত্ব কেমন হবে।
“আমি এখানে এসেছি সভাপতি ও বোর্ডের সঙ্গে মিলে এমন একটি ইন্টেগ্রিটি ইউনিট গড়ে তুলতে, যা এই খেলাটিতে সব ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা করবে। সিকি শতাব্দী ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট শীর্ষ পর্যায়ে খেলছে এবং এখনই এটা নিশ্চিত করার সময়, সমর্থকেরা যে কোনো ধরনের খেলাই দেখুন, বাংলাদেশের হয়ে যে ক্রিকেটাররা খেলছে, যে ছেলে ও মেয়েরা খেলছে, তাদেরকে যেন সব ধরনের হুমকি থেকে সঠিকভাবে সুরক্ষিত করা যায়।”
“ডোপিংয়ের হুমকিও সবসময় আছে এবং সব খেলাকেই ডোপিংয়ের বৈশ্বিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। তবে ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো দুর্নীতিবাজরা, যারা সবসময়ই সুযোগ খুঁজছে ক্রিকেটারদেরকে ঘুস দিয়ে বাজে খেলতে। আমরা নিশ্চিত করব যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, ছেলে-মেয়ে যারাই খেলছে, তাদেরকে যেন ঠিকভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়। আজকে বোর্ড সভাপতি, প্রধান নির্বাহী ও কয়েকজন বোর্ড সদস্যের সঙ্গে দেখা করেছি। খেলাটিকে সুরক্ষা দিতে তারা সবাই দারুণভাবে সহায়ক।”

বাংলাদেশের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য ডোপিং কেলেঙ্কারির ঘটনা নেই। তবে ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিংসহ নানা দুর্নীতির ঘটনা ও অভিযোগের শেষ নেই। সেসব দূর করে এদেশের ক্রিকেটকে পরিষ্কার করে তুলতে চান মার্শাল।
“আমরা একটি ইন্টেগ্রিটি ইউনিট গড়ে তুলব, যেটির লক্ষ্য হবে সবাইকে শিক্ষিত করে তোলা নিশ্চিত করা, তারা যেন অনুধাবন করতে পারে হুমকিগুলো কেমন হয়ে থাকে, তাদেরকে কী করতে হবে, দলের নিজেদেরই যেন নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বলয়ে থাকে এবং এটা নিশ্চিত করা যেন দুর্নীতিবাজদের তাড়িয়ে দেওয়া যায়। আমরা তাদেরকে বাংলাদেশে চাই না, তাদেরকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। ইন্টেগ্রিটি ইউনিট শক্ত বার্তা দিতে চায় যে, বাংলাদেশে খেলাটি স্বচ্ছ থাকবে এবং এই বোর্ড ও সভাপতি সেই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।”
৬৪ বছর বয়সী সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার সতর্ক নজর থাকবে বিপিএলে। গত বিপিএলে দুর্নীতির নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত হওয়ার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সূত্রে কয়েকদিন ধরে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে। যদিও সেই প্রতিবেদন বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়নি এখনও। আগামী সপ্তাহে তা জমা দেওয়ার কথা। তবে বিপিএলকে ঘিরে সন্দেহ-সংশয়ের প্রবল বিষবাস্প সবসময়ই ছিল ও আছে।
বিপিএলকে সেই কালিমা থেকে মুক্ত করতে চান মার্শাল।
“আইসিসি ছাড়ার সময় আমি বলেছিলাম, ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় হুমকি যে কোনো জায়গারই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, যেটিকে নড়বড়ে মনে হয়। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, বিপিএলকে যেন দুর্বল লিগ মনে না হয়। কাজেই এই আসর যেভাবে চলছে, আর্থিক ব্যাপারগুলো যেভাবে পরিচালিত হয়, দলের মালিকানা যেভাবে চূড়ান্ত করা হয়, এই ব্যাপারগুলো উচুঁমানের ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে হতে হবে এবং সুরক্ষিত রাখতে হবে।”
“কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে যদি পেশাদার ও সুরক্ষিত না মনে হয়, তাহলে তা দুর্নীতিবাজদের লক্ষ্যে পরিণত হয়। অনেক দেশেই এটা হতে দেখেছি আমরা এবং বিপিএলও কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে অতীতে। এজন্যই নতুন ইন্টেগ্রিটি ইউনিটকে এই লিগের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”