পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া
Published : 29 Jan 2026, 08:32 PM
পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতেও পারলেন না কেউ। তবে সম্মিলিত চেষ্টায় লড়ার মতো সংগ্রহ গড়ল পাকিস্তান। পরে চমৎকার বোলিং করলেন তাদের স্পিনাররা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্বাগতিকরা।
লাহোরে বৃহস্পতিবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১৬৮ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে তারা থামিয়ে দেয় ১৪৬ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সবশেষ ২০১৮ সালের অক্টোবরে জিতেছিল পাকিস্তান। এরপর টানা সাত ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া পর এবার জয়ের দেখা পেল তারা।
দুই ছক্কা ও তিনটি চারে ২২ বলে ৪০ রান করা সাইম আইয়ুব পরে বল হাতেও ছড়ান আলো। অফ স্পিনে ২৯ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
অসাধারণ বোলিং করেন আবরার আহমেদ। চার ওভারে স্রেফ ১০ রান দিয়ে পাকিস্তানের এই লেগ স্পিনার ধরেন দুই শিকার।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। জেভিয়ার বার্টলেটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। ওই ওভারে ছক্কায় রানের খাতা খোলেন আরেক ওপেনার সাইম।
পরের ওভারে কুপার কনোলিকে ছক্কায় ওড়ান তিনে নামা সালমান আলি আগা। সাইমকে নিয়ে পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। প্রথম ছয় ওভার শেষে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৫৬।
অষ্টম ওভারে সাইমের বিদায়ে ভাঙে তাদের ৭৪ রানের জুটি। এক ওভার পর ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন চারটি ছক্কা ও এক চারে ৩৯ রান করা সালমান।
প্রথম ১০ ওভারে ৯২ রান করা পাকিস্তানকে পরের দিকে আটকে রাখে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ১০ ওভারে কেবল ৬০ রান করতে পারে স্বাগতিকরা।
একটি করে ছক্কা-চারে বাবর আজমের ২৪ রান ছাড়া পরের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিশের ঘরে যেতে পারেননি কেউ।
চমৎকার বোলিংয়ে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা। দুটি করে প্রাপ্তি বার্টলেট ও অভিষিক্ত মাহলি বিয়ার্ডম্যানের।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড হয়ে যান ম্যাথু শর্ট। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়ানো ট্রাভিস হেড পারেননি ইনিংস বড় করতে। মিচেল মার্শ বিশ্রামে থাকায় এই ম্যাচে দলে নেতৃত্ব দেওয়া হেড দুটি করে ছক্কা-চারে করেন ২৩ রান।
অভিষিক্ত ম্যাট রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেওয়া অস্ট্রেলিয়া অষ্টম ওভারে খায় জোড়া ধাক্কা। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন রেনশ। এক বল পর কনোলিকে বোল্ড করেন আবরার। মিচেল ওয়েনকে টিকতে দেননি মোহাম্মাদ নাওয়াজ।
অনেকটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে এক ছক্কা ও তিনটি চারে ৩১ বলে দলের সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন গ্রিন। তিনিও বাঁহাতি স্পিনার নাওয়াজের শিকার। এরপর বেশিদূর যেতে পারেনি সফরকারীরা।
দশে নেমে দুই ছক্কা ও তিনটি চারে ২৫ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন বার্টলেট। তার এই ইনিংস হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো কাজে আসেনি।
একই মাঠে আগামী শনিবার হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৮/৮ (সাহিবজাদা ০, সাইম ৪০, সালমান ৩৯, বাবর ২৪, ফাখার ১০, উসমান ১৮, নাওয়াজ ১৫*, শাদাব ১, আফ্রিদি ০, সালমান মির্জা ৪*; বার্টলেট ৪-০-২৬-২, কনোলি ৩-০-২২-০, শর্ট ২-০-২৩-০, এডওয়ার্ডস ২-০-২৫-০, বিয়ার্ডম্যান ৪-০-৩৩-২, জ্যাম্পা ৪-০-২৪-৪, গ্রিন ১-০-১১-০)
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (শর্ট ৫, হেড ২৩, গ্রিন ৩৬, রেনশ ১৫, কনোলি ০, ওয়েন ৮, ফিলিপি ১২, এডওয়ার্ডস ৫, বার্টলেট ৩৪*, জ্যাম্পা ৫*; আফ্রিদি ৩-০-২৯-০, সাইম ৩-০-২৯-২, সালমান মির্জা ৩-০-২৭-০, শাদাব ৩-০-২৫-১, আবরার ৪-০-১০-২, নাওয়াজ ৪-০-২৫-১)
ফল: পাকিস্তান ২২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাইম আইয়ুব
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান