Published : 08 Jul 2025, 07:25 PM
ম্যাচের ফল একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। জিম্বাবুয়ে কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই ছিল কেবল দেখার। প্রথম ইনিংসে দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার পর ফলো-অনে পড়ে আরেকটু বেশি খেলতে পারল তারা। তবে ইনিংস হার এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট হলো না। তিন দিনে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বুলাওয়ায়োতে দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ইনিংস ও ২৩৬ রানে। দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতল গত মাসে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ীরা।
নিজেদের ১৩৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম টানা ১০ ম্যাচ জিতল প্রোটিয়ারা, ছাড়িয়ে গেল ২০০২ সালের মার্চ থেকে ২০০৩ সালের মে পর্যন্ত টানা ৯ টেস্ট জয়কে।
টানা টেস্ট জয়ের দুই অঙ্ক ছোঁয়ার কীর্তি আছে আর কেবল দুটি দলের। ১৯৮৪ সালে টানা ১১ টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়া টানা ১৬ টেস্ট জয়ের নজির গড়ে ভিন্ন দুই দফায়- প্রথমটি ১৯৯৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, দ্বিতীয়টি ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।
নিয়মিত ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অনেককেই এই সিরিজে বিশ্রাম দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার চোটে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন কেশাভ মহারাজ। ৩২৮ রানে জেতা ওই ম্যাচে চোট পেয়ে মহারাজ ছিটকে গেলে দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্বে পান ভিয়ান মুল্ডার। নেতৃত্বের অভিষেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অসংখ্য রেকর্ডে নাম লিখিয়ে জয়ের নায়ক তিনিই।
প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নেতৃত্বের অভিষেকে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ৩৩৪ বলে ৩৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুল্ডার। ব্রায়ান লারার বিশ্বরেকর্ড ৪০০ রানের ইনিংস ছোঁয়ার হাতছানি থাকলেও, বিস্ময় জাগিয়ে ইনিংস ছেড়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। পরে বলেন, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
দুই ইনিংস মিলিয়ে মুল্ডারের চেয়ে একটু বেশি রান করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে ১৭০ রানের পর মঙ্গলবার ২২০ রানে গুটিয়ে গেছে তারা দ্বিতীয় সেশনে।
১ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে জিম্বাবুয়ে। এ দিন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি টাকুদজোয়ানাশে কাইটানো (৭৬ বলে ৪০)। অভিজ্ঞ শন উইলিয়ামসকে দ্রুত ফেরান মুল্ডার।
মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থেকে নিকোলাস ওয়েলচ ফিফটি করেন ১০৪ বলে। এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি (১২৬ বলে ৫৫)।
নিয়মিতই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। পরের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পঞ্চাশের বেশি বল খেলতে পারেন আর কেবল অধিনায়ক ক্রেইগ আরভাইন (৯৫ বলে ৪৯) ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা (৬২ বলে ১৭*)।
৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার কর্বিন বশ।
ব্যাট হাতে রেকর্ডময় ইনিংস ও ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান মুল্ডার। দুই ম্যাচে মোট ৫৩১ রান করার পাশাপাশি ৭ উইকেট নিয়ে সিরিজ-সেরাও ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৬২৬/৫ ডিক্লে.
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১৭০
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: (ফলো-অন) (আগের দিন ৫১/১) ৭৭.৩ ওভারে ২২০ (কাইটানো ১১, মেয়ার্স ১, ওয়েলচ ৩০, উইলিয়ামস ১১, আরভাইন ৪৯, মাধেভেরে ৫, সিগা ১, মাসাকাদজা ১৭*, মিতিগিমু ০, মুজারাবানি ০, চিভাঙ্গা ২২; ইউসুফ ১৭-৩-৩৮-২, বশ ১৯-৮-৩৮-৪, মুল্ডার ৮-১-২৪-১, সুব্রায়েন ১৪-৩-৩৬-০, মুথুসামি ১৯.৩-১-৭৭-৩)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ২৩৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ২-০তে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যান অব দা ম্যাচ: ভিয়ান মুল্ডার
ম্যান অব দা সিরিজ: ভিয়ান মুল্ডার