Published : 29 Sep 2025, 05:53 PM
আলাউদ্দিন বাবু যখন বল হাতে পেলেন, ইনিংসের ১৩ ওভার ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে। উইকেটের পতন হয়েছে ৫টি। বাকিটুকু কেবল তার একারই গল্প। বাকি ৫ উইকেট যে আদায় করে নিলেন তিনি একাই!
তার মতো ৫ উইকেট না পেলেও দিনের আরেক ম্যাচে নজর কাড়েন মোহাম্মদ রুবেল। কবজির মোচড় আর আঙুলের টোকায় রহস্য ছড়িয়ে দারুণ বোলিংয়ে বিভ্রান্ত করেন তিনি ব্যাটসম্যানদের।
আলাউদ্দিনের প্রথম ৫
আগুন ঝরানো কোনো বোলিং আলাউদ্দিন করেননি। গতি তো তার এমনিতেই বেশি নয়, সুইংও তেমন পাননি। তবে পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বাজে ব্যাটিং মিলিয়ে আলাউদ্দিন পেয়ে গেলেন ৫ উইকেট। সহজ জয়ের দেখা পেল তার দল রংপুর।
সিলেটে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ম্যাচটিতে বরিশাল বিভাগকে ১০৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে রংপুর বিভাগ জিতে যায় ৬ উইকেটে।
১৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন আলাউদ্দিন।
৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট এটি। আগে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি ৩ দফায়।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশালের ইনিংস গতি পায়নি কখনোই। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ইফতেখার হোসেন ইফতিকে ফেরান নাসির হোসেন। নতুন বলে আঁটসাঁট বোলিংয়ে অভিজ্ঞ এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার পরে ফেরান রাফসান আল মাহমুদকেও (১৯)।
তিনে নেমে ফজলে মাহমুদ রাব্বি তিন ছক্কায় করেন ২৫ বলে ২৭। এরপর জাহিদউজ্জামান অপরাজিত তঅকেন ২২ রান করে। আরেক পাশে সেভাবে টিকতে পারেননি কেউ।
ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে আলাউদ্দিন শিকার শুরু করেন সোহাগ গাজীকে ফিরিয়ে। নিজের প্রথম তিন ওভারে উইকেট পান তিনটি। আরেক ওভারে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে বরিশালের ইনিংস শেষ করে দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ণ করেন ৫ উইকেট।
সহজ রান তাড়ায় রংপুরকে এগিয়ে নেয় অনিক সরকার সেতৃর ঝড়ো ফিফটি।দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা ওপেনার ৫ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৫৪ রান করে। আব্দুল্লাহ আল মামুন করেন ১৮ বলে ২৪।

আলাউদ্দিন ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলে আউট হলেও দলে জিততে সমস্যা হয়নি। ম্যাচের সেরাও তিনিই।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের এটি তিন ম্যাচে প্রথম জয়, সমান ম্যাচে বরিশালের জয় এখনও অধরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ: ১৯.৩ ওভরে ১০৬ (রাফসান ১৯, ইফতেখার ৪, ফজলে মাহমুদ ২৭, সালমান ৪, সোহাগ ১৩, জাহিদুজ্জামন ২২*, মইন ০, মেহেদি ৪, মইনুল ৩, তানভির ৪, আরাফাত ০; এনামুল ৩-০-২০-০, নাসির ৪-০-১৬-২, মুশফিক ৪-০-২৩-১, হাশিম ১-০-৪-১, সাকলাইন ৪-০-২৬-১, আলাউদ্দিন ৩.৩-০-১৬-৫)।
রংপুর বিভাগ: ১৩.৩ ওভারে ১০৯/৪ (অনিক ৫৪*, তানবীর ৪, আল মামুন ২৪, আকবর ১৭, আলাউদ্দিন ০, নাসির ৯*; তানভির ৪-১-২৭-৩, আরাফাত ৩-০-১৫-০, মইন ১-০-১৫-০, মেহেদি ২-০-১৫-১, মইনুল ২.৩-০-২৪-০, সোহাগ ১-০-১৩-০)।
ফল: রংপুর বিভাগ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আলাউদ্দিন বাবু।
রুবেলের দারুণ বোলিং
আগে ব্যাটিং পেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির আলি বলেছিলেন, ১৮০-১৯০ রান করতে চান তারা। কিন্তু ইনিংস থেমে যায় ১৫৫ রানে। তার পরও বেশ সহজেই জয় পায় তারা দারুণ বোলিং পারফরম্যান্সে। সেখানে উজ্জ্বলতম বোলার রুবেল।
নতুন বলে শুরু করা এই স্পিনার ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচের সেরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম শুরুতেই হারায় মাহমুদুল হাসান জয়কে। নাহিদ রানার বলে সোজা ব্যাটে দারুণ এক ছক্কার পর ওই রানেই বিদায় নেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন দিপু। এই জুটির সময় মনে হচ্ছিল, ১৮০ রানের কাছাকাছি চলে যবে চট্টগ্রাম। তবে তা হয়নি।
৩৭ বলে ৪৫ রান করে ফেরেন মুমিনুল, ৩৩ বলে ৪৫ শাহাদাত। পরের দিকের আর কোনো ব্যাটসম্যান পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি।
শেষ ৮ ওভারে কেবল ৫৬ রান তুলতে পারে তারা।
সেই রানকেই যথেষ্টর বেশি প্রমাণ করে ছাড়েন বোলাররা। শুরুটা রুবেলের হাত ধরেই।
প্রথম ওভারে দুটি চার হজমের পর তিনি বিদায় করে দেন হাবিবুর রহমান সোহানকে। আগের ম্যাচে ৪৪ বলে ৯৪ রান করা ব্যাটসম্যান এবার ফেরেন ৮ রানেই।
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাব্বির হোসেন চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। তবে সাব্বিরকেও ২১ রানে থামান রুবেল। রাজশাহী অধিনায়ক শান্তও ফেরেন ২১ রানে।
এই জুটি ভাঙার পর আর সেভাবে লড়াই জমাতেই পারেনি রাজশাহী। অনেকটা সময় ক্রিজে থেকে ২৩ বলে ২২ রান করেন প্রিতম কুমার।
রুবেল ছাড়াও চট্টগ্রামের হয়ে দারুণ বোলিং করেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান ও বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ: ২০ ওভারে ১৫৫/৬ (জয় ৬, মুমিনুল ৪৫, শাহাদাত ৪৫, ইরফান ১৬, ইয়াসির ৭, সৈকত ৮*, নাঈম ১৩, মেহেদি রানা ২*; নাহিদ ৪-০-২৬-০, মেহরব ৪-০-৩২-২, পায়েল ৪-০-৩২-২, নিহাদ ৪-০-২৮-০, তাইজুল ২-০-২১-০, সাব্বির হোসেন ২-০-১১-০)।
রাজশাহী বিভাগ : ২০ ওভারে ১২৫/৭ (সোহান ৮, শান্ত ২১, সাব্বির হোসেন ২১, মেহরব ৯, প্রিতম ২২, সাব্বির রহমান ৩, শাকিল ১৫*, নিহাদ ১২, তাইজুল ২, পয়েল ০*; রুবেল ৪-০-২৪-৩, হাসান ৪-০-২৯-১, নাঈম ৪-০-২০-১, মুরাদ ৪-০-১৫-০, মেহেদি রানা ৪-০-২৯-১)
ফল: চট্টগ্রাম বিভাগ ৩০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ রুবেল।