অ্যাশেজ
Published : 07 Jan 2026, 02:52 PM
তখন ৯৯ রানে খেলছেন জেকব বেথেল। একটি প্রথমের হাতছানি তার সামনে। স্বাভাবিকভাবেই প্রবল চাপে থাকার কথা ইংলিশ ব্যাটসম্যানের। কিন্তু তুড়ি মেরে যেন সব চাপ উড়িয়ে দিলেন তিনি। বাউ ওয়েবস্টারকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওয়াইড লং-অন দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে।
বেথেলের চমৎকার শতকের পরও বিপদে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩০২ রান করে চতুর্থ দিন শেষ করেছে তারা। লিড পেয়েছে ১১৯ রানের, হাতে কেবল ২ উইকেট।
৭ উইকেটে ৫১৮ রান নিয়ে বুধবার দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ৫৬৭ রানে। ১ ছক্কা ও ১৬ চারে ১৩৮ রান করেন স্মিথ। ৭ চারে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়েবস্টার।
অলি পোপের জায়গায় মেলবোর্ন টেস্ট দিয়ে ফিরে দলের জয়ে অবদান রেখে বেথেল বলেছিলেন, ‘তিন নম্বর পজিশনটি নিজের করে নিতে চাই।’ দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৪২ রান করে সেই লক্ষ্যে বড় এক ধাপ এগোলেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে তার ২৩২ বলের অপরাজিত ইনিংসটি গড়া ১৫ চারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে টেস্ট অভিষেক হয় বেথেলের। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৫০ করে নিজের সামর্থ্যের ঝলক কিছুটা দেখান তিনি। পরের ম্যাচে অল্পের জন্য পাননি সেঞ্চুরির স্বাদ, আউট হয় যান ৯৬ রানে।
টেস্টে আগের ৫ ম্যাচ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগের ২৭ ম্যাচে এটিই ছিল বেথেলের সর্বোচ্চ ইনিংস। এবার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন তিনি।
একসময় অস্ট্রেলিয়ায় স্পিনারদের সবচেয়ে প্রিয় মাঠ ছিল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। সেসব অবশ্য এখন অতীত। তবুও ১৩৮ বছর পর এই মাঠে বিশেষজ্ঞ কোনো স্পিনার ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার খেলতে নামা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল বেশ।
সময় গড়াতে যখন স্পিনারদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠল সিডনির উইকেট, তখন অবশ্য দলকে স্পিনের ঘাটতি অনুভব করতে দেননি ওয়েবস্টার। মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার হলেও এই ম্যাচে তিনি করেন স্পিন। বিশেষ করে, দ্বিতীয় ইনিংসে অফ স্পিনে খেলার গতিপথই অনেকটা নির্ধারণ করে দেন তিনি। ১৩ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ধরেন ৩ উইকেট।
দুর্দান্ত বোলিংয়ের আগে ব্যাট হাতেও আলো ছড়ান ওয়েবস্টার। ৪২ রান নিয়ে খেলতে নেমে দিনের তৃতীয় ওভারেই ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি, ৬৪ বলে। ওই ওভারে চার বল করে কুঁচকির সমস্যা নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস।
নামের পাশে ১২৯ নিয়ে নতুন দিন শুরু করা স্মিথ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জশ টংয়ের বলে কট বিহাইন্ড হন ১৬ চার ও এক ছক্কায় ১৩৮ রান করে। তাতে ভাঙে ১০৭ রানের জুটি।
মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে দেন টং। পরের ওভারে উইল জ্যাকসের বলে স্কট বোল্যান্ড স্লিপে ধরা পড়লে সমাপ্তি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের।
১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড শিবিরে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ছোবল দেন স্টার্ক। তার বলে ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন জ্যাক ক্রলি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ইংলিশ ওপেনার।
টেস্টে ইনিংসের প্রথম ওভারে এনিয়ে ২৭ উইকেট পেলেন স্টার্ক। এই তালিকায় শীর্ষে থাকা ইংলিশ কিংবদন্তি জেমস অ্যান্ডারসন (২৯ উইকেট) থেকে স্রেফ দুই উইকেট দূরে অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন বেন ডাকেট ও বেথেল। সময়ের সঙ্গে জমে ওঠে তাদের জুটি। মাইকেল নিসারের করা ষোড়শ ওভারে ডাকেটের ক্যাচ ছাড়েন ক্যামেরন গ্রিন। গালি থেকে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বল মুঠোয় জমাতে পারেননি তিনি। ওয়াইড স্লিপে থাকা স্মিথের সহজ ক্যাচ ছিল সেটি।
৩৮ রান জীবন পাওয়া ডাকেটকে অবশ্য টিকতে দেননি নিসার। লাঞ্চ বিরতির পরপরই ইংলিশ ওপেনারকে বোল্ড করে দেন এই পেসার। ৬ চারে ৪২ রান করেন ডাকেট, ভাঙে ৮১ রানের জুটি।
কয়েক ওভার পর স্টার্ককে চার মেরে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন বেথেল, ৮৭ বলে। এরপরই বড় ধাক্কা খায় ইংলিশরা। অনেকটা সময় ক্রিজে থেকে বিদায় নেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান জো রুট। এবার ৬ রান করতে ৩৭ বল খেলেন ব্যাটিং গ্রেট।
এরপর দলের হাল ধরেন বেথেল ও হ্যারি ব্রুক। তাদের ব্যাটে দ্বিতীয় সেশনের বাকিটা সময় নিরাপদে পার করে দেয় ইংল্যান্ড। তৃতীয় সেশনে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন বেথেল, ১৬২ বলে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে ওঠা ১০২ রানের এই জুটি ভাঙেন ওয়েবস্টার। ৫ চারে ৪২ রান করা ব্রুককে এলবিডব্লিউ করার এক বল পর উইল জ্যাকসকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।
বেথেলকে দারুণ সঙ্গে দিয়ে যাচ্ছিলেন জেমি স্মিথ। মনে হচ্ছিল অপরাজিত থেকে দিন শেষ করবেন তারা। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন ২৬ রান করে, ভাঙে ৪৫ রানের বন্ধন।
আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন চোট পাওয়া স্টোকস। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি তিনি। ওয়েবস্টারের স্পিনে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দলকে আরও বিপাকে ফেলে। ৩ চারে ১৬ রান করা ব্রাইডন কার্সও ধরা পড়েন স্লিপে, বোল্যান্ডের বলে। দিনের শেষ পাঁচ ওভার কাটিয়ে দেন বেথেল ও পটস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৩৩.৫ ওভারে ৫৬৭ (আগের দিন ৫১৮/৭) (স্মিথ ১৩৮, ওয়েবস্টার ৭১*, স্টার্ক ৫, বোল্যান্ড ০; কার্স ২৭-২-১৩০-৩, পটস ২৫-১-১৪১-০, টং ৩০-০-৯৭-৩, স্টোকস ২৭.৪-৬-৯৫-২, জ্যাকস ৮.৫-০-৩৪-১, বেথেল ১৫.২-১-৫২-১)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৭৫ ওভারে ৩০২/৮ (ক্রলি ১, ডাকেট ৪২, বেথেল ১৪২*, রুট ৬, ব্রুক ৪২, জ্যাকস ০, স্মিথ ২৬, স্টোকস ১, কার্স ১৬, পটস ০; স্টার্ক ১৪-২-৬১-১, বোল্যান্ড ১৯-৪-৩৪-২, নিসার ১৬-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-০-৪০-০, ওয়েবস্টার ১৩-১-৫১-৩, হেড ৪-০-২৫-০, লাবুশেন ৩-০-১৫-০)