Published : 26 Apr 2026, 04:14 PM
তানজিদ হাসানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান। তিন নম্বরে লিটন কুমার দাস, চারে পারভেজ হোসেন ইমন। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের চিত্র এরকম থাকবে বলেই নিশ্চিত করে দিলেন অধিনায়ক। রান করার মূল দায়িত্ব তাদেরই। তবে তাকিয়ে আছেন তিনি লেজের ব্যাটসম্যানদের দিকেও। শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদের ব্যাটেও রান দেখতে চান লিটন।
পারভেজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে গত কিছুদিনে বেশ টানাহেঁচড়া দেখা গেছে। বাংলাদেশের সবশেষ সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে দেখা যায় তাকে প্রথম দুই ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে ১ রানে ফিরলেও পরের ম্যাচে করেন তিনি ২৮ বলে ৪৩। সিরিজের শেষ ম্যাচে তাকে নামানো হয় চারে। সেখানে ৩ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
পরে বিপিএলে ৪ নম্বরে খেলে টুর্নামেন্টের শুরুটা দুর্দান্ত করেন। কিন্তু ৬ ইনিংস পর আবার তাকে তুলে আনা হয় ওপেনিংয়ে। টপ অর্ডারে খেলেন ৬ ইনিংস। এরপর পাকিস্তান সুপার লিগে আবার তাকে দেখা যায় চারে। সেখানে দুই ম্যাচে তার ব্যাট ছিল মিইয়ে। পরের ম্যাচে আবার ওপেনিংয়ে ফিরে ৫ ছক্কায় করেন ১৯ বলে ৪৫।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশ দলে তাকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে, কৌতূহল ছিল। সিরিজ শুরুর আগের দিন অধিনায়ক লিটন নিশ্চিত করে দিলেন, “আপাতত মিডল অর্ডারে খেলানোর চিন্তাভাবনাই আছে।”

বিশ্বমানের তুলনায় এখনও বেশ পিছিয়ে থাকলেও টপ ও মিডল অর্ডার নিয়ে আপাতত দুর্ভাবনা ততটা নেই লিটনের। তিনি রান দেখতে চান নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে। ওপরের ব্যাটসম্যানদের ভার কমাতেও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন অধিনায়ক।
“আমাদের মূল ভাবনার জায়গা, বিশেষ করে শেখ মেহেদি, নাসুম, রিশাদ যারা স্পিন বল করে, তাদের কাছ থেকে আমরা একটু ব্যাটিং আশা করি। আমাদের যে অলরাউন্ডারগুলো আছে, তারা বোলিংয়ের সঙ্গে যদি আমাদেরকে ব্যাটিং দিতে পারে, তাহলে একটা পোক্ত ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হয়। আপনি দেখবেন যে বড় বড় দলগুলোতে সবগুলারই গভীরতা অনেক বেশি। ৯ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং থাকে। ওই গভীরতা যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলে মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানরা ওপর থেকে আরও মুক্ত হয়ে ম্যাচ খেলতে পারবে।”
ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য আছে বলেই তাদের কাছে রানের দাবিটা করছেন লিটন। অধিনায়কের মতে, তার দলের স্রেফ দুজন বোলার ছাড়া সবাই ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেন।
“টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে পাঁচজন আমরা টেইলএন্ডার ধরছি, পাঁচ পেস বোলারের ভেতরে তিনজনই খুবই ভালো ব্যাটিং পারে। আমি যদি শরিফুল ও রিপন মন্ডলকে দেখি, তাহলে হয়তো তারা খুব একটা ভালো ব্যাটসম্যান নয়, কিন্তু টুকটাক পাঁচ-ছয় রান করে দিতে পারবে। কিন্তু যে দলটা আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি, তারা যদি তাদের মতো করে পারফরম্যান্স করতে পারে, তাহলে এই সমস্যাটা আর থাকবে না।”