Published : 09 Jan 2026, 10:56 PM
ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ছন্দপতন। দুই দলের ইনিংসেই দেখা গেল একই চিত্র। পুঁজি বড় না হলেও উজ্জীবিত বোলিং পারফরম্যান্সে ফেভারিট রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
বিপিএলে শুক্রবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নোয়াখালীর জয় ৯ রানে।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। দারুণ বোলিংয়ে স্রেফ ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নোয়াখালীর জয়ের নায়ক তিনিই।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এক বল বাকি থাকতে নোয়াখালী অলআউট হয় ১৪৮ রানে। জবাবে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি রংপুর।

প্রথম ১০ ওভারে নোয়াখালীর রান ছিল ২ উইকেটে ৮৪। সেখান থেকে ৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ছন্দও হারিয়ে ফেলে তারা।
রান তাড়ায় ১২ ওভারে রংপুরের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৮৫। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৮ বলে ৬৪ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ তারা।
টানা ছয় হারের পর প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বিপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী। টানা তিন জয়ের পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল রংপুর। আসরে ছয় ম্যাচে চার জয়ের বিপরীতে তাদের হার দুটি। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে দুই নম্বরে।
মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং ও শেষ ওভারে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির হ্যাটট্রিকের আনন্দ মিলিয়ে গেল দলের পরাজয়ে।
চার ওভারে স্রেফ ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই সময়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার মুস্তাফিজ। ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বাঁহাতি এই পেসার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দুই ওভারে নোয়াখালী তোলে ২৫ রান। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই শুরুর জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন শাহাদাত হোসেন।
এক বল পর হাবিবুর রহমান সোহানের উইকেটও পেতে পারতেন মুস্তাফিজ। মিড-অফে লাফিয়ে বল হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় জমাতে পারেননি লিটন কুমার দাস, যদিও বেশ কঠিন ছিল সেটি।
এরপর দারুণ কয়েকটি শট খেলেন সোহান। পাকিস্তানের স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের এক ওভারে দুটি চারের পর, বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয়কে হাঁকান টানা দুটি ছক্কা। ওই ওভারে পরপর দুটি চার মারেন সৌম্য সরকার।
গতিময় পেসার নাহিদ রানার শর্ট বলে হাতের ওপরের দিকে আঘাত পান সোহান। ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাকে। ফিজিওর শুশ্রূষানিয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও পরের ওভারেই তিনি (১৬ বলে ৩০) বিদায় নেন মুকিমকে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে।
একাদশ ওভারে খুশদিল শাহকে স্লগ সুইপে সৌম্য (২৭ বলে ৩১) ক্যাচ দিয়ে ফেরার পরের বলে বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মাদ নাবি। পরের ওভারে হায়দার আলি বিদায় নেন নাহিদের শর্ট বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়ে।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে টানেন জাকের আলি ও মাহিদুল ইসলাম। ৪০ বলে ৪৯ রানের ইনিংস সর্বোচ্চ জুটি গড়েন দুজন।
শেষের আগের ওভারে জাকেরের ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংস থামে মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ দিয়ে। পরের বলে মেহেদি হাসান রানার স্টাম্প এলোমেলো করে দেন মুস্তাফিজ। হ্যাটট্রিকও হতে পারত, কিন্তু হাসানের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে পারেননি তিনি।
পাওয়ার প্লেতে দুই ওভারে ৩৫ রান দেওয়া মৃত্যুঞ্জয় শেষ ওভারে ছক্কা হজমের পর, টানা তিন বলে মাহিদুল (২১ বলে ২৮), জাহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
প্রথম বোলার হিসেবে বিপিএলে একাধিক হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার। ২০২২ সালে বিপিএল অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে।
চলতি আসরে দ্বিতীয় ও বিপিএলে সব মিলিয়ে দশম হ্যাটট্রিক এটি। গত মাসে নোয়াখালীর হয়ে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে এই স্বাদ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের আরেক পেসার মেহেদি হাসান রানা।
রান তাড়ায় তিনটি চার মেরে বিদায় নেন লিটন। আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারে দাভিদ মালানকে ৭ রানে ফেরান নাবি।
প্রথম চার ওভারের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলকে টানেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। ৫১ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তারা।
এই জুটিতে ম্যাচের লাগাম ছিল রংপুরের মুঠোয়। কিন্তু জুটি ভাঙার পরই পথ হারিয়ে ফেলে তারা।
দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই ফেরান আফগান স্পিনার জাহির। ৩১ বলে ৩৭ রান করেন ইফতিখার, ২৮ বলে ২৯ হৃদয়। এই দুজনের মাঝে একটি চার মেরে আফগান পেসার বিলালের বলে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ।
বাজে শটে দ্রুত বিদায় নেন নুরুল হাসান সোহানও। হাসানের এক ওভারে চার ও ছক্কা মেরে আশা জাগান খুশদিল। তবে শেষ ওভারের প্রথম বলেই তাকে (১৬ বলে ২৪) ফিরিয়ে দেন হাসান। তৃতীয় বলে ক্যাচ দেন মৃত্যুঞ্জয়।
নেমে প্রথম বলে চার মারেন মুস্তাফিজ। শেষ দুই বলে চাই ১০। পঞ্চম বলে ‘ডট’ খেলার পর শেষ বলে বোল্ড হন মুস্তাফিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ (শাহাদাত ১৪, সৌম্য ৩১, হাবিবুর রহমান সোহান ৩০, জাকের ৩৮, নাবি ০, হায়দার ১, মাহিদুল ২৮, মেহেদি রানা ০, হাসান ১*, জাহির ০, বিলাল ০; মৃত্যুঞ্জয় ২.৫-০-৪৩-৩, ইফতিখার ১-০-১১-০, মুস্তাফিজ ৪-০-১৮-৩, মুকিম ৪-০-২৯-১, নাহিদ ৪-১-১৭-১, খুশদিল ৪-০-২৭-২)
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৩৯/৯ (মালান ৭, লিটন ১৫, হৃদয় ২৯, ইফতিখার ৩৭, মাহমুদউল্লাহ ৯, খুশদিল ২৪, নুরুল হাসান সোহান ৪, মৃত্যুঞ্জয় ৩, মুকিম ১*, মুস্তাফিজ ৪; হাসান ৪-০-২৬-৪, বিলাল ৪-০-৩৭-১, নাবি ৪-০-১৬-১, মেহেদি রানা ৪-০-৩৩-১, জাহির ৪-০-২৫-২)
ফল: নোয়াখালী ৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হাসান মাহমুদ