Published : 06 Apr 2026, 10:38 AM
টিম ডেভিড যখন ক্রিজে গেলেন, ম্যাচের তখন পঞ্চদশ ওভার চলছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর রান সবে ১৫০ পেরিয়েছে। পরের সময়টায় বল যেন পেয়ে গেল ডানা। স্টেডিয়ামের নানা প্রান্তে দিয়ে উড়ে আশ্রয় নিল গ্যালারিতে। ডেভিডের একটি ছক্কায় বল তো স্টেডিয়ামের ছাদের ওপর দিয়ে বাইরেই চলে গেল!
বেঙ্গালুরু শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে তুলে ফেলল ২৫০ রান। রান তাড়ায় চেন্নাই সুপার কিংস শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও পরে তারাও করল ২০৭ রান। আইপিএলের ম্যাচটিতে রোববার চার-ছক্কার জোয়ারে রানের স্রোতে জন্ম হলো দারুণ কিছু রেকর্ডেরও।
শেষের সুনামি (১)
শেষ ৫ ওভারে ৯৭ রান তুলেছে বেঙ্গালুরু। আইপিএলে এটি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ২০২৪ আসরে ৯৭ তুলেছিল দিল্লি ক্যাপিটালসও।
শেষ ৫ ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও বেঙ্গালুরুর। গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ১১২ রান তুলেছিল তারা ২০১৬ সালে। সেদিন ভিরাট কোহলি খেলেছিলেন ৫৫ বলে ১০৯ রানের ইনিংস, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৫২ বলে ১২৯।
শেষের সুনামি (২)
শেষ ১০ ওভারে ১৬টি ছক্কা মেরেছে বেঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা। আইপিএলে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
শেষ ১০ ওভারে ১৮ ছক্কার রেকর্ডও বেঙ্গালুরুর, ২০১৬ সালে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে।
শেষের সুনামি (২)
একাদশ ওভারে ফিল সল্টের বিদায়ের পর ৯.২ ওভারে ১৫৭ রান তুলেছে বেঙ্গালুরু। ওভারপ্রতি এসেছ ১৬.৮২ রান।
আইপিএলে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর একশর বেশি রান তোলা ইনিংসগুলোতে সবচেয়ে বেশি রান রেটের রেকর্ড এটিই।
খুনে ডেভিড (১)
১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৮ ছক্কায় ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন টিম ডেভিড। আইপিএলে যা রেকর্ড।
‘বল বাই বল’ তথ্য সংরক্ষিত আছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ম্যাচগুলির মধ্যে বিশ্বরেকর্ডে ডেভিডের ওপরে আছেন কেবল একজন। ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে সাসেক্সের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে পঞ্চদশ ওভারে নেমে ২৪ বলে ৭১ করেছিলেন এসেক্সের অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ড্যানিয়েল স্যামস।
খুনে ডেভিড (২)
ডেথ ওভারে (১৭-২০) ডেভিড রান করেছেন ৬৮। আইপিএলে এটি রেকর্ড।
আগের রেকর্ড ছিল বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুলের ৬০ রান।
‘বল বাই বল’তথ্য সংরক্ষিত আছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ম্যাচগুলির মধ্যে বিশ্বরেকর্ডে ডেভিডের ওপরে আছেন চারজন।
একটুখানি সারফারাজও
রান তাড়ায় প্রথম ৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারায় চেন্নাই সুপার কিংস। পাল্টা আক্রমণে তখন ২৫ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন চারে নামা সারফারাজ খান। সব রান করেন তিনি পাওয়ার প্লেতেই।
আইপিএলে চার নম্বর বা এর নিচে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ফিফটি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি। আগের সর্বোচ্চ ৪৩ ছিল মুম্বাইয়ের তিলাক ভার্মার, ২০২৪ আসরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে।
সব টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সারফারাজের ওপরে আছেন কেবল একজন। ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ১৭ বলে ৬৬ করেছিলেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান।
সাহিল সেদিন ১৮ ছক্কায় খেলেছিলেন ৪১ বলে ১৪৪ রানের অপরাজিত রেকর্ডগড়া ইনিংস।
চেন্নাইয়ের ছক্কাবাজরা
তিনে নামা আয়ুশ মাত্রে ও শেষ ব্যাটসম্যান ম্যাট হেনরি ছাড়া চেন্নাই সুপার কিংসের সব ব্যাটসম্যানই অন্তত ১টি ছক্কা মেরেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই প্রথম এক দলের ৯ ব্যাটসম্যান ছক্কা মারতে পারলেন।
বেঙ্গালুরুর হয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ৫ ব্যাটসম্যানের সবাই ছক্কা মেরেছেন। তাতে গোটা ম্যাচে ছক্কা মারা ক্রিকেটার ১৪ জন, যৌথভাবে যা বিশ্বরেকর্ড। ২০২০ সালে বিগ ব্যাশে সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন স্টার্সের ম্যাচেও ১৪ জন পেয়েছিলেন ছক্কার স্বাদ।