Published : 11 Jan 2026, 07:47 PM
ম্যাচ শুরুর আগে অভিষিক্ত ক্রিকেটারের হাতে ক্যাপ তুলে দেওয়ার ছোট্ট আয়োজন হয়ে গেল মাঠে। এমন আয়োজন নিয়মিতই দেখা যায়। তবে এবারেরটি বিশেষ কিছু। বিপিএলে অভিষিক্ত হাসান ইসাখিলের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিলেন তার বাবা মোহাম্মাদ নাবি।
অপেক্ষাটা বেশ কিছু দিন ধরেই চলছিল। বাবা-ছেলে দলের সঙ্গে আছে, অনুশীলন করছেন। কিন্তু একসঙ্গে ম্যাচ খেলার সুযোগটা হচ্ছিল না বিপিএলে। অবশেষে সেই দিনটি এলো। একই দলের একাদশে বাবা ও ছেলের নাম একসঙ্গে দেখা গেল প্রথমবার। বিপিএলে একটি ইতিহাস গড়লেন নাবি ও ইসাখিল।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একাদশে নাবি খেলছেন নিয়মিতই। সিলেটে রোববার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ পেলেন তার ছেলে ইসাখিলও।
শুধু ম্যাচ খেলার সুযোগই নয়, উপলক্ষটি দারুণ ব্যাটিংয়ে রাঙালেন ইসাখিল। ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বিপিএল অভিষেকে উপহার দিলেন ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস।
ইনিংসটির পথে দুজনের একসঙ্গে দারুণ একটি জুটিও হয়। ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা চতুর্থ উইকেটে। জুটিতে ছেলের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ৩৪, বাবার ব্যাট থেকে ১৩ বলে ১৭।
তাদের দুজনের একসঙ্গে একই ম্যাচে খেলা অবশ্য নতুন কিছু নয়। আফগানিস্তানে ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কিছু ম্যাচেই একসঙ্গে খেলেছেন দুজন, বাবা-ছেলের জুটিও হয়েছে। তবে বিপিএলের মঞ্চে যে কোনো বাবা-ছেলের জুটিরই অংশগ্রহণ এবারই প্রথম।

নাবি তো আফগান ক্রিকেটের প্রথম বড় তারকা এবং কিংবদন্তি। বিপিএলেও তার পা পড়েছে নিয়মিত। ৪১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি এই আসরে খেলছেন এবার নিয়ে নবমবার।
তার ছেলে ইসাখিল মূলত ওপেনিং ব্যাটসম্যান। আফগানদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। দেশের বাইরের লিগে খেলছেন তিনি প্রথমবার।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, ক্রিজে নাবিকে স্বাক্ষী রেখেই সেঞ্চুরি করবেন ছেলে। কিন্তু অষ্টাদশ ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান নাবি।
তার ছেলে এরপর আর কোনো রান করতে পারেননি। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনিও। তার ৯২ রানের ইনিংসে ৭টি চারের সঙ্গে ছক্কা ৬টি।
নাবি-ইসাখিলের আগে স্বীকৃত ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার সাড়া জাগানো ঘটনা ছিল শিবনারাইন চান্দারপল ও তেজনারাইন চান্দারপলের। ক্যারিবিয়ান বাবা-ছেলে একসঙ্গে খেলেছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। গায়ানার হয়ে একসঙ্গে ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন দুজন। বাবার অধিনায়কত্বেও খেলেছেন তেজনারাইন।

বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার কিছু নজির আছে আরও। ক্রিকেটের অমর বুড়ো খ্যাত কিংবদন্তি ডব্লিউ জি গ্রেস খেলেছেন তার ছেলে চার্লস গ্রেসের সঙ্গে। ইংল্যান্ডেরই সাবেক অধিনায়ক অ্যালেক স্টুয়ার্ট খেলেছেন বাবা মিকি স্টুয়ার্টের সঙ্গে। জিম্বাবুয়ের গ্রেট প্রয়াত হিথ স্ট্রিক খেলেছেন বাবা ডেনিস স্ট্রিকের সঙ্গে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার প্রথম নজিরটি দেখা গেছে গত নভেম্বরে। তিমুর লেস্তের হয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন বাবা ৫০ বছর বয়সী সুহাইল সাত্তার ও ছেলে ১৭ বছর বয়সী ইয়াহিয়া সাত্তার।
বাবা-ছেলের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে খেলেছেন মা ও মেয়ে। গত বছর সুইজারল্যান্ডের হয়ে ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মেটি ফার্নান্দেস ও তার মেয়ে ন্যায়না মেটি ফার্নান্দেস।
ইসাখিল যেভাবে ছুটছেন, তাতে শিগগিরই হয়তো বাবার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে তাকে।