Published : 01 Apr 2026, 02:20 PM
লক্ষ্য ছিল এভারেস্টসম। অ্যামেলিয়া কার ক্রিজে গেলেন পঞ্চম ওভারে। ছোট-বড় কিছু জুটি গড়ে ছুটতে থাকলেন তিনি। পথচলায় হারালেন একের পর এক সঙ্গী। কিন্তু তিনি হার মারলেন না। রান তাড়ার মাঝামাঝি সময়েও লক্ষ্য মনে হচ্ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেখান থেকেই অসাধারণ এক ইনিংস খেলে রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়ে নিউ জিল্যান্ড অবিস্মরণীয় জয় এনে দিলেন অধিনায়ক।
অধিনায়কের রেকর্ডগড়া ইনিংসে উইমেন’স ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২ উইকেটে হারায় নিউ জিল্যান্ড। ওয়েলিংটনে বুধবার ৩৪৬ রান টপকে ‘হোয়াইট ফার্নস’ নামে পরিচিত দলটি জিতে যায় ২ বল বাকি রেখে।
উইমেন’স ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটিই। গত অক্টোবরে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৮ রান তাড়ায় ভারতের জয় ছিল আগের রেকর্ড।
নিউ জিল্যান্ডের এই ইতিহাস গড়ার নায়ক তাদের অধিনায়ক। তিন নম্বরে নেমে ৪৫ ওভার ক্রিকেট কাটিয়ে ১৩৯ বলে ১৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন অ্যামিলিয়া কার। তার ইনিংসে চার ২৩টি, ছক্কা ১টি।
রান তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। বিশ্বরেকর্ডে তার ওপরে আছেন কেবল শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু। তবে ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ১৩৯ বলে ১৯৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। কারের এই ১৭৯ রান তাই রান তাড়ায় জয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের বিশ্বরেকর্ডও।
কারের নিজের অবশ্য ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এটি নয়। ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সেই ২৩২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে পরে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েছিলেন অভাবনীয় এক নজির।
ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে এ দিন দক্ষিণ আফ্রিকা রানের পাহাড় গড়ে বেশ কজনের সম্মিলিত অবদানে। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক লরা উলভার্ট করেন ৭৪ বলে ৬৯, তিনে নেমে আনেকা বশ ৯০ বলে ৯১। মিডল অর্ডারে কার্যকর দুটি ইনিংস আসে সুনে লিস (৪৩ বলে ৪০) ও কিপার সিনোলা জাফটার (২৯ বলে ৩৭) ব্যাট থেকে। শেষ দিকে ২৫ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ক্লোয়ি ট্রায়ন।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৩টি উইকে নেন বাঁহাতি পেসার ব্রি ইলিং। লেগ স্পিনে ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকে অ্যামেলিয়া কার। ওয়ানডে ক্যারিয়ার এই প্রথম তিনি এত বেশি রান দিয়ে উইকেট নিতে পারলেন না।

বোলিংয়ের সেই ঘাটতি সবটুকু পুষিয়ে দেন তিনি ব্যাটিংয়ে। অভিজ্ঞ সুজি বেটস (১৮ বলে ৮) পঞ্চম ওভারে আউট হওয়ার পর তিনি ক্রিজে যান। জর্জিয়া প্লিমারের (২৩) সঙ্গে গড়েন ৫২ রানের জুটি।
পরে ম্যাডি গ্রিন (১৩) ও ব্রিক হ্যালিডে (১৪) আউট হন দ্রুত। ২৫তম ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান তখন ৪ উইকেটে ১৩০। জয় তখন দৃষ্টিসীমাতেও ছিল না।
কিন্তু কার দারুণ খেলে ছুটতে থাকেন। ফিফটি করেন তিনি ৫৬ বলে। পরের পঞ্চাশ করতে লাগে ৩৪ বল। ৯০ বলে সেঞ্চুরি ছুঁ য়েই তৃপ্ত হননি। রান রেটের দাবি মিটিয়ে জাগিয়ে তোলেন দলের আশা। পঞ্চম উইকেটে ইসাবেলা গেইজের সঙ্গে গড়েন ৮২ বলে ১২০ রানের জুটি।
৪৮ বলে ৬৮ রান করে গেইজ বিদায় নেওয়ার পর অন্যরা খুব বড় কিছু করতে পারেননি। তবে তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই চোখধাঁধানো সব শটের পসরা সাজিয়ে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন কার।
শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রানে। ৪৮তম ওভারে অ্যামেলিয়া কার ও জেস কার মিলে ১৬ রান তুলে কিছুটা সহজ করেন সমীকরণ। তবে ওই ওভারে বিদায় নেন জেস কার। পরের ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে রোজম্যারি মেয়ারকে আউট করেন অভিজ্ঞ আয়াবঙ্গা খাকা। আবার জমে ওঠে ম্যাচ।
শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১১ রানে। সেই দাবি দারুণভাবেই মেটান কার। প্রথম ২ বলেই মারেন তিনি বাউন্ডারি। পরের বলে আসে ২ রান। চতুর্থ বলে আরেকটি চারে দলকে পৌঁছে দেন ইতিহাসের ঠিকানায়।
এই জয়ে সমতা ফেরে তিন ম্যাচের সিরিজে। প্রথম ম্যাচে ২ উইকেটেই জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ এই মাঠেই শনিবার।