নাহিদের বল হেলমেটে লাগার পর ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ জেদ ছিল আজানের
ইনিংসের শুরুতে ওই আঘাতের পরও দারুণ ব্যাটিংয়ে অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন পাকিস্তানে ২১ বছর বয়সী ওপেনার।
একশ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যানও ক্রিজে নামার সময় কিছুটা নার্ভাস থাকেন। অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানের তো কথাই নেই! ব্যাটিংয়ে নামার সময় আজান আওয়াইসের বুকও ছিল একটু দুরু দুরু। এরপর তো ইনিংসের শুরুর দিকেই নাহিদ রানার গোলা ছোবল দিল তার হেলমেটে। তাতে মনোযোগও নড়ে গেল কিছুটা। তবে দ্রুতই সামলে নিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান এবং মনে আঁকলেন প্রতিজ্ঞার ছবি, ‘দেখিয়ে দিতে হবে!’
বয়স তার মোটে ২১। অভিষেক টেস্টে দেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করছেন। প্রতিপক্ষের এক্সপ্রেস বোলার ছুটে আসছেন সব গুঁড়িয়ে দিতে। কিন্তু একটি আঘাতই যেন জাগিয়ে দিল তাকে। দেখিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞার পর এমন ইনিংস খেললেন, তার নাম খোদাই হয়ে গেল ইতিহাসে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে অভিষেক ইনিংসে আজান উপহার দেন ১০৩ রানের দারুণ ইনিংস।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তৃতীয় সকালে পৌঁছে যান তিনি কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে। দিনের খেলা শেষে তরুণ ব্যাটসম্যান শোনালেন তার অনুভূতি।
“এটা আমার জন্য খুবই সৌভাগ্যের মুহূর্ত। কারণ, এটা আমার অভিষেক ম্যাচ এবং আমার দেশের হয়ে খুব ভালো খেলেছি। যখন ব্যাট করতে যাচ্ছিলাম, তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু আমার দলের জন্য খুব ভালো খেলেছি।”
বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অলআউট হওয়ার পর পাকিস্তান প্রথম দুই উইকেটেই পায় শতরানের জুটি। ইমাম-উল-হাকের সঙ্গে আজানের উদ্বোধনী জুটি ছিল ১০৬ রানের। আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফাজালের সঙ্গে জুটি ১০৪ রানের।
আজান বললেন, দুই সতীর্থের কাছ থেকে বেশ সহায়তাও পেয়েছেন তিনি।
“ব্যাটিংয়ের পুরোটা সময় তারা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন এবং দলের জন্য আমরা ভালো জুটি গড়তে পেরেছি। বিশেষ করে ইমার ভাই আমাকে অনেক প্রেরণা দিয়েছে, অনেক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন। ভালো লাগছে যে ভালো জুটি গড়তে পেরেছি।”
দ্বিতীয় দিনে নাহিদ রানা যখন বোলিংয়ে আসেন, প্রথম বলটিই করেন শর্ট ডেলিভারি। পুল করার চেষ্টায় বল ঠিকমতো দেখতেও পারেননি আজান। বল ছোবল দেয় হেলমেটে। অনেক সময় ধরে ‘কনকাশন’ পরীক্ষা হয় তার। পরে বদলাতে হয় হেলমেট।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শতরান করার পর আজান বললেন, ওই মুহূর্তের পরই জেদ চেপেছিল তার মনে।
“ওই মুহূর্তে আমি ঘাবড়ে যাইনি, কিন্তু যখন বলটা আমার হেলমেটে লাগল, মিনিট পাঁচেকের জন্য একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর বুঝতে পারলাম যে, সময় হয়েছে দেখিয়ে দেওয়ার আমি কে! ভালো লাগছে যে পেরেছি।”
তা তিনি দেখিয়ে দিতে পেরেছেন বটে। সেই নাহিদকেই পরে টানা তিনটি চার মেরেছেন। তার ১৪ চারের ৭ট্ নাহিদের বলে।
এমন প্রতিভার ছাপ তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটেও রেখেছেন। ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার সেঞ্চুরি ১০টি। ব্যাটিং গড় ৪৮.৬০। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করেই স্বপ্নের টেস্ট আঙিনায় পা পড়েছে। সেখানে অভিষেকে সেঞ্চুরি করে তার আরেকটি স্বপ্নও পূরণ হয়েছে।
“গত দেড় বছরে আমি ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সত্যিই খুব ভালো পারফর্ম করেছি। টেস্ট ক্রিকেট খেলাটা আমার একটা স্বপ্ন। যখন ক্যাম্পে ছিলাম, তখন কোচরা আমাকে একটা সুযোগ দেন এবং আমি বুঝতে পারি… এটা একটা স্বপ্ন ছিল এবং লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।”
