Published : 30 Jul 2022, 04:41 PM
শেষ ১০ ওভারের ভীষণ বাজে বোলিংয়ে কাজটা হয়ে গিয়েছিল খুব কঠিন। লিটন দাসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পাওয়ার পর চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের গড়া পাহাড় ছোঁয়া হয়নি তাদের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ক্রেইগ আরভিনের দল।
১৭ রানের হার
শেষ ১০ ওভারে ১৩১ রান তুলে নিয়ে ম্যাচ অনেকটাই মুঠোয় পুরে ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে গত বছর এই মাঠেই ১৯৩ রান তাড়া করে জেতা বাংলাদেশ সহজে হাল ছাড়েনি। অধিনায়কের ব্যাটে লড়াই করে যায় শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ক্রমেই কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ আর মেলানো যায়নি।
২৬ বলে চার ছক্কা ও এক চারে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল হাসান সোহান। ২০৫ রান তাড়ায় ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশ।
ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন মূলত সিকান্দার রাজা। ২৬ বলে তার অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংসেই বাংলাদেশ পায় পাহাড়সম লক্ষ্য।
আগামী রোববার একই মাঠে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ২০৫/৩ (চাকাভা ৮, আরভিন ২১, মাধেভেরে ৬৭ (আহত অবসর), উইলিয়ামস ৩৩, রাজা ৬৫*, বার্ল ০*; তাসকিন ৪-০-৪২-০, নাসুম ৪-০-৩৮-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৫০-২, মোসাদ্দেক ৩-০-২১-১, শরিফুল ৪-০-৪৫-০, আফিফ ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৮/৬ (মুনিম ৪, লিটন ৩২, এনামুল ২৬, শান্ত ৩৭, আফিফ ১০, সোহান ৪২*, মোসাদ্দেক ১৩, নাসুম ০*; এনগারাভা ৪-০-৪৩-১. মাসাকাদজা ৩-০-২৩-১, চিভাঙ্গা ৩-০-২৮-০, উইলিয়ামস ২-০-৭-০, রাজা ৩-০-৩০-১, জঙ্গুয়ে ৪-০-৩৪-২, মাধেভেরে ১-০-১২-০)
ছক্কার চেষ্টায় ফিরলেন মোসাদ্দেক
জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ৩২ রান। দুর্দান্ত এক ওভারে ম্যাচ থেকে বাংলাদেশেক এক রকম ছিটকে দিলেন রিচার্ড এনগারাভা।
নুরুল হাসান সোহানকে প্রথম দুটি বল ডট খেলান তিনি। পরের তিন বলে ওয়াইডসহ আসে ৪ রান। ওভারের শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় থামেন মোসাদ্দেক হোসেন।
১০ বলে এক চারে তিনি করেন ১৩।
ফিরে গেলেন শান্তও
নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে মাত্রই জমে উঠতে শুরু করেছিল জুটি। এমন সময়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বলের গতি পরিবর্তন করে ব্যাটসম্যানদের দ্বিধায় রাখছেন লুক জঙ্গুয়ে। তার প্রথম ৫ বলে কেবল ৬ রান আসায় ছক্কার জন্য মরিয়া ছিলেন শান্ত। শর্ট বল ওড়ানোর চেষ্টায় ধরা পড়েন কিপারে গ্লাভসে।
২৫ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৭ রান।
১৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৪৬। ক্রিজে সোহানের সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ ৪ ওভারে সফরকারীদের চাই ৬০ রান।
টিকলেন না আফিফ
অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব আফিফ হোসেনের কাঁধে। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থই হলেন তিনি।
লুক জঙ্গুয়েকে পুল করে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৮ বলে এক চারে ১০ রান করেন আফিফ।
১৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ১১২। ক্রিজে নাজমুল হোসেনের সঙ্গী নুরুল হাসান সোহান। শেষ ৭ ওভারে বাংলাদেশের চাই ৯৪ রান।
ছক্কার পর অক্কা এনামুল
শুরু থেকে ওভার প্রতি প্রয়োজন ১০ এর বেশি রান। সেখানে বলে বলে রান করতেও ভুগছিলেন এনামুল হক। সিকান্দার রাজাকে ছক্কায় ওড়িয়ে আভাস দিলেন গা ঝাড়া দেওয়ার। তবে পরের বলেই ফিরে গেলেন ক্যাচ দিয়ে।
এনামুল ২৭ বলে দুই ছক্কায় করেন ২৬।
১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৮৬। ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী আফিফ হোসেন।
জীবন পেয়ে রান আউট লিটন
শন উইলিয়ামসের বলে র্যাম্প শটের চেষ্টায় সহজ ক্যাচ দিলেন লিটন দাস। বিস্ময়করভাবে রিচার্ড এনগারাভা মুঠো জমাতে পারলেন না। তবে দ্রুত ছুড়ে দিলেন উইলিয়ামসের কাছে। সে সময় হতাশায় ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন ব্যাটসম্যান। উইলিয়ামস বল পেয়ে বেলস ফেরে দেওয়ার সময় একইভাবে হেঁটে যেতে থাকেন লিটন।
এই ওপেনারের বিদায়ে ভাঙে ৩৩ বল স্থায়ী ৫৮ রানের জুটি।
১৯ বলে ছয় চারে লিটন করেন ৩২।
৭ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৬৩। ক্রিজে এনামুলের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত।
পাওয়ার প্লেতে ঝড়
প্রথম চার ওভারে রান ছিল কেবল ২৪। মনে হচ্ছিল পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। তবে লিটন দাসের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত রানের গতি বাড়াতে পেরেছে সফরকারীরা।
৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৬০। ৬ চারে ১৬ বলে ৩১ রানে ব্যাট করছেন লিটন। এক ছক্কায় ১২ বলে ১১ রানে খেলছেন এনামুল হক।
পাওয়ার প্লেতে অতিরিক্ত থেকে এসেছে ১৪ রান!
শুরুতেই ফিরলেন মুনিম
বড় রান তাড়ায় বাংলাদেশের প্রয়োজন ভালো শুরু। উল্টো দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারাল সফরকারীরা। হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মুনিম শাহরিয়ার।
প্রথম ওভার থেকে আসে কেবল পাঁচ রান। মাসাকাদজার প্রথম দুটি বল ডট খেলেন মুনিম। তৃতীয় বলটি ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় ঠিক মতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট থার্ড ম্যানে যায় সহজ ক্যাচ। ৮ বলে মুনিম করেন ৪।
২ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৬। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী এনামুল হক।

ছন্নছাড়া বোলিংয়ে ২০৬ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
সময় যত গড়াল তত এলোমেলো হলো বাংলাদেশের বোলিং। ফুলটস, হাফ ভলি, লেগ স্টাম্পের বাইরে ডেলিভারি দিয়ে গেলেন অকাতরে। তাদের উপহার দুই হাতে কাজে লাগালেন সিকান্দার রাজা ও ওয়েসলি মাধেভেরে। মারলেন একের পর এক বাউন্ডারি। রান এলো বানের জলের মতো।
২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৫ রান করে জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ গত বছর হারারেতেই ৫ উইকেটে ১৯৩।
ছন্নছাড়া বোলিংয়ে বাংলাদেশ পেল এতো বড় লক্ষ্য। প্রথম ১০ ওভারে জিম্বাবুয়ে ২ উইকেটে করেছিল ৭৪ রান। পরের ১০ ওভারে স্বাগতিকরা যোগ করে ১৩১ রান!
চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলা বাংলাদেশকে পঞ্চম বোলার হতাশ করেননি। মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন মিলিয়ে ৪ ওভারে দেন কেবল ২৭ রান। কিন্তু বিশেষজ্ঞ বোলাররা ঠিক মতো করতে পারেননি নিজেদের কাজ। তাদের খরুচে বোলিংয়েই মূলত রানের পাহাড় টপকাতে হবে বাংলাদেশকে।
মাধেভেরে ও রাজা দুই জনই করেন ফিফটি। ৩৭ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ৯ চারে ৪৬ বলে ৬৭ রান করে মাঠ ছাড়েন মাভেধেরে। শেষ ওভারে ২ রান নেওয়ার পথে ডাইভ দিয়ে হাতে চোট পান এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। হাতের চোট পাওয়ায় আর মাঠে থাকেননি তিনি। রাজার সঙ্গে ৪৩ বলে গড়েন ৯১ রানের জুটি।
২৩ বলে ফিফটি করা রাজার সামনে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশের বোলিং। এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার চার ছক্কা ও সাত চারে ২৬ বলে অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ২০৫/৩ (চাকাভা ৮, আরভিন ২১, মাধেভেরে ৬৭ (আহত অবসর), উইলিয়ামস ৩৩, রাজা ৬৫*, বার্ল ০*; তাসকিন ৪-০-৪২-০, নাসুম ৪-০-৩৮-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৫০-২, মোসাদ্দেক ৩-০-২১-১, শরিফুল ৪-০-৪৫-০, আফিফ ১-০-৬-০)
মাধেভেরের ফিফটি
বাংলাদেশের বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যান। একের পর এক আসছে বাউন্ডারি। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের উপর চড়াও হয়েছেন সিকান্দার রাজা। নিজের মতো করে খেলে যাচ্ছেন ওয়েসলি মাধেভেরে।
তাসকিন আহমেদকে চার মেরে ৩৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মাধেভেরে। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে ছয়টি চার।
উইলিয়ামস-ঝড় থামালেন মুস্তাফিজ
তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে উইকেট পেয়েছিলেন। আবার যখন বল হাতে পেলেন পেরিয়ে গেছে ১০ ওভার! আক্রমণে ফিরে মুস্তাফিজুর রহমান ভাঙলেন বিপজ্জনক জুটি। বোল্ড হয়ে গেলেন শন উইলিয়ামস।
মুস্তাফিজের স্লোয়ার ঠিক মতো বুঝতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। বেরিয়ে এসে চড়াও হওয়ার চেষ্টায় মাঝ ব্যাটে খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। ভাঙে ৩৭ বল স্থায়ী ৫৬ রানের জুটি।
উইলিয়ামস ১৯ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় করেন ৩৩।
১৩ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ৩ উইকেটে ১০৭। ক্রিজে মাধেভেরের সঙ্গী সিকান্দার রাজা।
উইলিয়ামস-মাধেভেরের জুটিতে পঞ্চাশ
প্রথম ১১ বলে ১১ রান করা শন উইলিয়ামস মন দিয়েছেন রানের গতি বাড়ানোর দিকে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। তাদের ব্যাটে ম্যাচে প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি এসেছে ৩৩ বলে।
নাসুম আহমেদের ফুলটস ছক্কায় ওড়ানোর পর লেগ স্টাম্পের বলে উইলিয়ামস মারেন চার। এক বল একই ধরনের বলে একই ধরনের শটে আগে আরেকটি বাউন্ডারি। জুটির রান যায় পঞ্চাশে।
১২ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ২ উইকেটে ৯৮। উইলিয়ামস ১৮ বলে ৩৩ ও মাধেভেরে ২৫ বলে ২৯ রানে ব্যাট করছেন।
মাঝপথে ভালো অবস্থানে জিম্বাবুয়ে
মোটামুটি একই গতিতে এগিয়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে মাঝপথে আছে ভালো অবস্থানে। ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৭৪ রান তুলেছে ক্রেইগ আরভিনের দল।
২২ বলে তিন চারে ২৭ রানে ব্যাট করছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ৯ বলে ১ চারে ১১ রানে খেলছেন শন উইলিয়ামস।
আরভিনকে বোল্ড করে দিলেন মোসাদ্দেক
বাংলাদেশ চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলায় বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তিনিই এনে দিলেন সাফল্য। চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা ক্রেইগ আরভিনকে।
জোরের ওপর করার বলের লাইনে যেতে পারেননি জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। লেগে ঘুরানোর চেষ্টায় খেলতে পারেননি ব্যাটে। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প।
১৮ বলে দুই চারে ২১ রান করেন আরভিন।
৭ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ২ উইকেটে ৫১। ক্রিজে ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গী শন উইলিয়ামস।
পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট
চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলা বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে নিতে পেরেছে একটি উইকেট। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করছে জিম্বাবুয়ে।
৬ ওভারে স্বাগতিকদের রান ১ উইকেটে ৪৩। ক্রেইগ আরভিন ২১ ও ওয়েসলি মাধেভেরে ৮ রানে ব্যাট করছেন।
পাওয়ার প্লের প্রথম ও শেষ ওভার করেন তাসকিন আহমেদ। মাঝের চার ওভার করেন চারজন ভিন্ন বোলার। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান।
চাকাভাকে ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙলেন মুস্তাফিজ
বোলিংয়ে এসেই সাফল্য পেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়ে ভাঙলেন জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি।
বাঁহাতি পেসারের স্টাম্পে থাকা ফুললেংথ ডেলিভারি ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সফল হননি চাকাভা। মিডউইকেটে বেশ উঁচুতে উঠে যাওয়া ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ভাঙে ১৫ রানের জুটি।
এক চারে ১১ বলে ৮ রান করেন চাকাভা।

জিম্বাবুয়ে দলে এক পরিবর্তন
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ফাইনালে খেলা দলে একটি পরিবর্তন এনেছে জিম্বাবুয়ে। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার টনি মুনিয়োঙ্গার জায়গায় ফিরেছেন পেসার তানাকা চিভাঙ্গা।
জিম্বাবুয়ে দল: রেজিস চাকাভা, ক্রেইগ আরভিন, শন উইলিয়ামস, ওয়েসলি মাধেভেরে, সিকান্দার রাজা, মিল্টন শুম্বা, রায়ান বার্ল, তানাকা চিভাঙ্গা, লুক জঙ্গুয়ে, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা।
দলে ফিরলেন শান্ত-মুনিম-তাসকিন
মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান স্কোয়াডে না থাকায় দুটি পরিবর্তন অনিবার্য ছিল, হলো তিনটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়েছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। ফিরেছেন গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ।
দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর জায়গায় এসেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুনিম শাহরিয়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে একটি ম্যাচ খেলার পর পিঠের চোটে শেষ দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন না মুনিম।
বাংলাদেশ দল: লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ।

নেতৃত্বের অভিষেকে টস হারলেন নুরুল হাসান সোহান। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন টস জিতে নিলেন ব্যাটিং।
নতুন শুরুর আশায় বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর থেকে এই সংস্করণে ব্যর্থতার বৃত্তেই আছে বাংলাদেশ। সবশেষ ৮ ম্যাচে জয় মাত্র একটি। দুটি সিরিজে হতে হয়েছে হোয়াইটওয়াশড। আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় নেই তাদের হাতে। এশিয়া কাপ, নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়ায়। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে সিরিজে এসেছে কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার সুযোগ।
নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দিয়ে নেতৃত্বে আনা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে। মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানও পেয়েছেন বিশ্রাম। চোটের জন্য নেই ইয়াসির আলি চৌধুরি। এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত নন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। সব মিলিয়ে পরিবর্তন আছে বেশ।
তবে তাদের অনুপস্থিতিতে দলকে অনভিজ্ঞ বলতে নারাজ সোহান। অধিনায়কের চোখে তার দল তরুণ। এই দলকে নিয়ে ডরভয়হীন ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে চোখ রাখছেন নতুন শুরুর দিকে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।