নিউ জিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
Published : 06 Dec 2025, 03:49 PM
শেষ দিনে যখন শেই হোপ ও টেভিন ইমলাক দ্রুত বিদায় নেন, পরাজয়ের প্রবল শঙ্কায় তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিমার রোচকে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক জুটিতে দলকে অবিস্মরণীয় এক ড্র এনে দেন জাস্টিন গ্রেভস। অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা এই ক্যারিবিয়ান বলেন, খুবই স্পেশাল একটি দিন কেটেছে তার।
ক্রাইস্টচার্চে নিউ জিল্যান্ডের ৫৩১ রান তাড়ায় শনিবার পঞ্চম ও শেষ দিনে কেবল হোপ ও ইমলাককেই হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সপ্তম উইকেটে গ্রেভস ও রোচের অবিচ্ছিন্ন ১৮০ রানের জুটিতে অভাবনীয়ভাবে ম্যাচ বাঁচিয়ে ফেলে সফরকারীরা।
চতুর্থ ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৫৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে শেষ ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রান করতে পেরেছে কেবল ইংল্যান্ড, ১৯৩৯ সালে ডারবানে টাইমলেস টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৬৫৪।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কীর্তি গড়ার দিনে রেকর্ডের পাতায় নাম উঠে যায় গ্রেভসেরও। ১৯ চারে ৩৩৮ বলে ২০২ রান করেন তিনি। টেস্টে তো বটেই প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারেই যা তার সেরা। শুধু তাই নয়, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা সপ্তম ব্যাটসম্যান এবং চতুর্থ ক্যারিবিয়ান তিনি।
রান তাড়ায় নেমে চতুর্থ দিন ভীষণ চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৭৪ রান ৪ উইকেট হারানো দলটিকে কক্ষপথে ফেরান হোপ ও গ্রেভস। দুইজনে গড়েন ১৮৬ রানের যুগলবন্দি। ২ ছক্কা ও ১৫ রানে ১৪০ রান করে হোপ বিদায় নিলেও শেষ পর্যন্ত লড়ে যান গ্রেভস। ম্যাচ শেষে সেই কথাই বললেন ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
“এটা ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপার, যে শব্দটা আমরা ড্রেসিং রুমে অনেক ব্যবহার করে থাকি। তাই আমার জন্য, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকা ছিল সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে দলের জন্য কিছু করতে পারার ব্যাপার ছিল।”
“কোচ ফ্লয়েড রেইফারের সঙ্গে আমার দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, একবার মাঠে নামার পর টিকে থাকো; এটা ভালো পিচ। রাচিন ও ল্যাথাম দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের দেখিয়েছে। তাই মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলাই ছিল আমাদের জন্য মূল বিষয়।”
গ্রেভসের জন্য যেমন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্যও দিনটি বিশেষ। গ্রেভসের বেশি ভালো লাগছে রোচ শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ায়। চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় ২৩৩ বলে ৫৮ রান করেন এই পেসার। একটা সময় ৭২ বলে কোনো রানই করেননি তিনি।
গ্রেভস মাঝে জয়ের জন্য লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে জয়ের চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারত ক্যারিবিয়ানদের জন্য। তাই তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করায় রোচকে কৃতিত্ব দিলেন গ্রেভস।
“আমার জন্য বিশেষ, বিশেষ একটি দিন, দলের জন্যও বিশেষ দিন। আমরা বিরুদ্ধ স্রোতে ছিলাম। তাই, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, শেই হোপকে হারানোর পর সারাদিন ব্যাটিং করা… মনে হয়েছিল, আমরা জয়ের চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু অভিজ্ঞ কিমার (রোচ) আমাকে পথ দেখান। শেষ অবধি তিনিও মাঠে থাকতে পারায় ভীষণ ভালো লাগছে।”
“ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা পরমানন্দের। কিন্তু আমার কাছে দিন ধরে খেলা, মুহূর্তটা উপভোগ করে যাওয়াই মুখ্য। সম্ভবত (অভাবনীয় ড্রয়ের) অনুভূতিটি এখনও হজম হচ্ছে না। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।”
দুই দলের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু আগামী ১৮ ডিসেম্বর, মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে।