Published : 08 May 2026, 08:27 PM
সেঞ্চুরির পর নাজমুল হোসেন শান্তর দীর্ঘ উদযাপন পর্ব যখন চলছিল, কাছ থেকে দেখছিলেন মুমিনুল হক। উদযাপন শেষ হলে বুকে জড়ালেন তিনি অধিনায়ককে। শান্তর পুরো ইনিংস তিনি দেখেছেন সবচেয়ে কাছ থেকে। এই অভিজ্ঞতা হয় তার নিয়মিতই। সতীর্থকে খুব ভালো করে জানেন বলেই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের উপলব্ধি, ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন শান্ত।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ১৭০ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও মুমিনুল। তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি ২৪২ রানের। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় সেই জুটিও গড়েছিলেন তারা দুজনই।
তৃতীয় উইকেটে সব মিলিয়ে একসঙ্গে ১ হাজার ৩০০ রান করেছেন দুজন। বাংলাদেশের আর কোনো জুটি ৭০০ রানও করতে পারেননি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এ দিন যখন উইকেটে জুটি বাঁধেন দুজন, দুই ওপেনারকে দ্রুত হারিয়ে তখন বিপদে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শান্তর দারুণ সব শটে ক্রমে সরে যায় চাপ। সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন মুমিনুলও।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বললেন, শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার কৃতিত্ব শান্তরই।
“এই উইকেটে নতুন বলে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। আপনারা নিজেরাও দেখছেন, দুই দিক দিয়ে বল মুভ করছে,সিম করছে। আমাদের দুই ওপেনার ভালো বলে আউট হয়েছে। তারপরে শান্ত যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করেছে, তাতে ওরা অনেক পিছিয়ে গেছে। এরকম উইকেটে যখন কেউ এসে পাল্টা আক্রমণ করে, তখন বোলাররা ঘাবড়ে যায়। এটার পুরো কৃতিত্ব শান্তকে দিতে হবে। শেষে মুশফিক ভাইও ভালো ব্যাটিং করেছেন।”
১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করে আউট হন শান্ত। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯১ রানে ফেরেন মুমিনুল।
সবুজ উইকেটে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের সামনে দাপট দেখিয়ে যেভাবে ব্যাট করেছেন শান্ত, আরেক প্রান্ত থেকে তা দারুণভাবে উপভোগ করেছেন মুমিনুল।
“আমি যখন প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি বাংলাদেশ দলের তখন, নন স্ট্রাইকে থেকে ব্যাটিং বেশি উপভোগ করতাম তামিম ভাই যখন ব্যাটিং করতেন। নিউ জিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া, অনেক খারাপ কন্ডিশনেও উনি ভালো ব্যাটিং করতেন। শান্তও ওরকম করেছে। আমার কাছে মনে হয় শান্তর ইনিংসটি আমার চোখে দেখা ওর সেরা ইনিংসগুলোর একটি। ও যেভাবে প্রথম থেকে ডমিনেট করেছে, ওটা আমার অনেক ভালো লেগেছে।”
পাকিস্তানের পেস আক্রমণে বড় হুমকি ছিলেন মোহাম্মাদ আব্বাস। দারুণ স্কিলফুল এই বোলার পেস সহায়ক উইকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের জন্যও হতে পারেন মাথাব্যথার কারণ। তাকে সামলে ক্রিজের বাইরে স্টান্স নিয়ে ব্যাট করছিলেন শান্ত।
“ও (শান্ত) বাইরে বেরিয়ে এসেছিল, এটা ওর পরিকল্পনা ছিল আব্বাসের বিপক্ষে। তাকে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললে কঠিন হয়, কারণ দুই দিক দিয়ে বল মুভ করে। তাই তাকে থিতু হতে না দেওয়ার জন্য ওই পরিকল্পনা নিয়েছে।”
সবশেষ পাঁচ টেস্টে শান্তর এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। এছাড়া সেঞ্চুরি করেছেন তিনি সবশেষ ওয়ানডেতেও। সব মিলিয়ে তাকে এখন ফর্মের তুঙ্গে দেখছেন মুমিনুল।
“শান্ত অসাধারণ ফর্মে আছে। আপনি যদি ওর শেষ কয়েকটা ইনিংস দেখেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে, নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে একশ করল। অনেক সময় অনেক চাপে থাকার পরও একশ করেছে। আজও অনেক কঠিন কন্ডিশনে একশ করল। জীবনের সবচেয়ে ভালো ফর্মে আছে ও।”
এই ফর্ম আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শান্তর জন্য কিছু পরামর্শও আছে মুমিনুলের।
“একই মানসিকতা যেন থাকে। খুব বেশি ওপরে না ওঠা বা নিচেও না নামা। সবসময় মাটিতে পা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় (ফর্মে থাকলে) মনে হয় যে, ভালো বলটাও মেরে দিই, তাই প্যাটার্নটা যেন একই রকম থাকে। প্যাটার্ন যদি একই থাকে তাহলে প্রতিদিন রান করা যায়। প্যাটার্ন যদি আলাদা হয়ে যায়, তখন কঠিন হয়। টেস্টের প্যাটার্নটা ধরতে পারলে এই ফর্ম চলতে থাকবে আশা করি।”