Published : 22 Jan 2026, 12:21 AM
যেন প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পর শতরানের জুটি ও দুটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। তাতে আফগানিস্তানের সংগ্রহটা হলো আগের ম্যাচের মতোই, বরং একটু বেশি। রান তাড়ায় এবারও ধারেকাছে যেতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতল আফগানরা।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান।
প্রথম ম্যাচে ১৮১ রানের পুঁজি গড়ে রাশিদ খানের দল জিতেছিল ৩৮ রানে।
দুবাইয়ে বুধবার ২০ ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৮৯ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় সাত বল বাকি থাকতে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ও তিনটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুটিই জিতল আফগানিস্তান।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততা ও বিশ্রাম মিলিয়ে অধিনায়ক শেই হোপ, জেসন হোল্ডারসহ নিয়মিত ক্রিকেটারদের বেশ কজনকে অবশ্য এই সিরিজে পায়নি ক্যারিবিয়ানরা।
আফগানিস্তানের হয়ে এ দিন সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন দারভিশ রাসুলি। তার ৩৯ বলের ইনিংস গড়া ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। প্রথম ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৯ বলে ৮৪ রান।
ওই ম্যাচে ব্যর্থ সেদিকউল্লাহ আটাল এবার ২ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৪২ বলে ৫৩ রান। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ৭১ বলে ১১৫ রানের জুটি।
রান তাড়ায় মন্থর শুরুর পর ব্র্যান্ডন কিং ও শিমরন হেটমায়ারের পঞ্চাশোর্ধ জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আশা দেখালেও, এই জুটি ভাঙার পর নিয়মিত উইকেট হারানোয় পেরে ওঠেনি তারা।
বল হাতে হ্যাটট্রিক করেন মুজিব উর রাহমান। চার ওভারে স্রেফ ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ এই রহস্য স্পিনার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে হারায় আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে শূন্যের পর এবার ১ রানে থামেন এই ওপেনার।
প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস খেলে ইব্রাহিম জাদরান এবার শুরুটা ভালোই করেন, কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি (১৭ বলে ২২)। পঞ্চম ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
সেখান থেকে দলের স্কোর দেড়শ ছাড়িয়ে যায় রাসুলি ও সেদিকউল্লাহর জুটিতে।
রাসুলি ফিফটি করেন ২৭ বলে। এই সংস্করণে তার টানা তৃতীয় ফিফটি এটি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি ছুঁতে সেদিকউল্লাহর লাগে ৩৮ বল। সপ্তদশ ওভারে জুটিও থামে তার বিদায়ে। পরের ওভারে আউট হয়ে যান রাসুলিও।
শেষ দিকে আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংসে ১৮৯ রানের স্কোর গড়ে আফগানিস্তান। শেষ ওভারে তিনি দুটি ছক্কা মারেন গুডাকেশ মোটিকে, শেষ বলে চার মারেন মোহাম্মাদ নাবি। এই ওভারে আসে ১৯ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় ওভারে ইব্রাহিমের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউটে কাটা পড়েন আলিক আথানেজ। পাওয়ার প্লেতে তার উইকেটটি হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলতে পারে কেবল ২৯ রান।
এই সময়ে দুই ওভারে স্রেফ ৭ রান দেন মুজিব। অষ্টম ওভারের শেষ দুই বলে তিনি ফিরিয়ে দেন এভিন লুইস ও জনসন চার্লসকে।
পাঁচ নম্বরে হেটমায়ার ব্যাটিংয়ে নামার পর গতি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। দশম ওভারে তিনি তিনটি ছক্কা মারেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার নুর আহমাদকে।
ওপেনার কিংয়ের রান ছিল একপর্যায়ে ২৬ বলে ১৬। পরের দুই বলে রাশিদকে দুটি ছক্কা মেরে গা ঝারা দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
হেটমায়ার পরে দুটি ছক্কা মারেন নাবিকে। নুরের দুই বলে মারেন ছক্কা ও চার। কিং আরেকটি ছক্কা মারেন ফাজালহাক ফারুকিকে।
দুজনের তাণ্ডবে ২৫ বলে আসে ৬০ রান।
বিপজ্জনক হেটমায়ারকে থামিয়ে ৩৩ বলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙেন ফারুকি। ৬ ছক্কা ও এক চারে ১৭ বলে ৪৬ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
কিং ফিফটি করেন ৪০ বলে। তখনও ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পাঁচ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৬৮ রান।
তবে ষোড়শ ওভারে বোলিংয়ে ফিরে চিত্র পাল্টে দেন মুজিব। প্রথম বলে কিংকে (৪১ বলে ৫০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এক বল পর তিনি বোল্ড করে দেন কুয়েন্টিন স্যাম্পসনকে।
আফগানিস্তানের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করলেন মুজিব। আগের দুজন রাশিদ খান ও কারিম জানাত।
এরপর নিয়মিত উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাথু ফোর্ডকে ফিরিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যান রাশিদ (৬৯৪টি)।
অষ্টাদশ ওভারের শেষ দুই বলে খ্যারি পিয়ের ও শামার জোসেফকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান ওমারজাই। কিন্তু সেই সুযোগটি তিনি পাননি। পরের ওভারে র্যামন সিমন্ডসকে আউট করে ম্যাচের ইতি টেনে দেন ফারুকি।
একই মাঠে শেষ ম্যাচ বৃহস্পতিবার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৮৯/৪ (গুরবাজ ১, ইব্রাহিম ২২, সেদিকউল্লাহ ৫৩, রাসুলি ৬৮, ওমারজাই ৬৮, নাবি ৭*; ফোর্ড ৪-০-২৫-২, শামার ৪-০-৩৫-১, সিমন্ডস ৪-০-৩৯-১, পিয়ের ৪-০-২৯-০, মোটি ৪-০-৫৪-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৫ ওভারে ১৫০ (কিং ৫০, আথানেজ ৮, লুইস ১৩, চার্লস ০, হেটমায়ার ৪৬, স্যাম্পসন ২, ফোর্ড ৬, মোটি ৯*, পিয়ের ১১, শামার ০, সিমন্ডস ১; ফারুকি ৩.৫-০-২৮-২, মুজিব ৪-০-২১-৪, ওমারজাই ৩-০-২০-২, রাশিদ ৪-০-১৯-১, নুর ২-০-৩২-০, নাবি ১-০-১৪-০, নাইব ১-০-১৫-০)
ফল: আফগানিস্তান ৩৯ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে আফগানিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: মুজিব উর রাহমান