Published : 22 Nov 2025, 05:06 PM
সাদমান ইসলামকে ডাকছিল সেঞ্চুরি। মুমিনুল হকও পৌঁছে গেলেন কাছাকাছি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারলেন না দুজনের কেউ। বরং শততম টেস্ট আরেকটি মাইলফলকে নিজেকে রাঙালেন মুশফিকুর রহিম। টেস্ট উইকেট শিকারে সবাইকে ছাড়িয়ে সবার ওপরে উঠে গেলেন তাইজিল ইসলাম। ম্যাচের গতিপথ অনুমিতই। বাংলাদেশের বড় জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। আয়ারল্যান্ডের কৃতিত্ব ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৭৬।
জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৩৩ রান। সেই সমীকরণ ভাবাও আসলে অবান্তর। শেষ দিনে চার উইকেট নিতে বাংলাদেশের কতক্ষণ লাগে, সেটিই কেবল দেখার।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ২৯৭ রানে।
মুমিনুল আউট হন ৮৭ রানে, সাদমান ৭৮ রানে।
মুশফিক অপরাজিত রয়ে যান ৫৩ রানে। শততম টেস্টে সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটিও উপহার দিলেন তিনি, টেস্ট ইতিহাসে যা পেরেছেন আর কেবল রিকি পন্টিং।

১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। দলের লিড বাড়ানোর পাশাপাশি প্রথম মাইলফলকের হাতছানি ছিল সাদমানের সামনে। কিন্তু আগের টেস্টে ৮০ রানে আউট হওয়া ব্যাটসম্যান এবার সেটিও করতে পারেননি। আউট হয়ে যান ৭৮ রানে।
৫৪ রানের জুটি ভাঙার পরের ওভারেই আরেকটি উইকেট পায় আয়ারল্যান্ড। ক্যারিয়ারে কিছু রান যোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১)। দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা তরুণ অলরাউন্ডার জর্ডান নিল স্বাদ পান প্রথম টেস্ট উইকেটের।
এরপর মুমিনুল ও মুশফিকের জুটি। ৭৬ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যান মুমিনুল। ১৬ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পেয়ে এগিয়ে যান মুশফিক।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান দুই ব্যাটসম্যান লাঞ্চের আগের গড়ে তোলেন শতরানের জুটি।
লাঞ্চের সময় মুমিনুল অপরাজিত ছিলেন ৭৯ রানে, ৪৪ রানে মুশফিক।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ আবার ব্যাটিংয়ে নামে মূলত মুমিনুলের সেঞ্চুরির জন্য। সেই অপেক্ষা শেষ ১০ মিনিটেই। নাহ, তার সেঞ্চুরি হয়নি। গ্যাভিন হোয়ের লেগ স্পিনে আলতো করে ক্যাচ তুলে দেন তিনি কার্টিস ক্যাম্ফারের হাতে।
মুমিনুল যখন ৮৭ রানে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে, সবার নজর তখন ড্রেসিং রুমের দরজায়। সেখানে দেখা গেল শান্তকে, হাত ইশারায় বাংলাদেশ অধিনায়ক ডেকে নিলেন মুশফিককেও।
৫০৮ রানে এগিয়ে ইনিংস ছাড়ল বাংলাদেশ। মুশফিক তখন অপরাজিত ৫৩ রানে।
বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ইবাদত হোসেনের সঙ্গে অনুমিতভাবেই তাইজুলকে দিয়ে শুরু করে বোলিং আক্রমণ। দলকে প্রথম উইকেটও এনে দেন তিনিই। আইরিশ অধিনায়ক অ্রান্ড্রু বালবার্নিকে ফিরিয়ে সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে বাঁহাতি এই স্পিনার হয়ে যান দেশের সফলতম বোলার।
নিজের পরের ওভারেই তিনি বিদায় করেন পল স্টার্লিংকে।
কেড কারমাইকেল ও হ্যারি টেক্টর তৃতীয় উইকেটে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। হাসান মুরাদ আক্রমণে এসে প্রথম বলেই জুটি ভাঙেন কারমাইকেলকে ফিরিয়ে।
স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে টেক্টর ফিফটি করেন ৭৮ বলে। এরপরই মনোযোগ হারিয়ে তিনি উড়িয়ে মারেন হাসান মুরাদকে। লং অফে ভালো ক্যাচ নেন মুশফিক।
প্রথম ইনিংসে ৭৫ রান করা লর্কান টাকারকে (৭) এবার টিকতে দেননি সৈয়দ খালেদ আহমেদ। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই করে শেষ বিকেলে স্টিভেন ডোহেনি ফেরেন তাইজুলের তৃতীয় শিকার হয়ে।
কার্টিস ক্যাম্ফার একপ্রান্তে লড়াই করে দিনটা পার করে দেন। পাঁচ টেস্ট পর মিরপুরে ম্যাচ গড়ায় পঞ্চম দিনে।
এটিই আপাতত আইরিশদের প্রাপ্তি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৭৬
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৬৫
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৬৯ ওভারে ২৯৭/৪ (ডি.) (আগের দিন ১৫৬/১) (জয় ৬০, সাদমান ৭৮, মুমিনুল ৮৭, শান্ত ১, মুশফিক ৫৩*; নিল ৯-১-৪৮-১, হামফ্রিজ ১৫-০-৫৪-০, ম্যাকব্রাইন ২৬-২-৮২-১, হোয়ে ১৭-০-৮৪-২, টেক্টর ২-০-১২-০)।
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৫০৯) ৫৪ ওভারে ১৭৬/৬ (বালবার্নি ১৩, স্টার্লিং ৯, কারমাইকেল ১৯, টেক্টর ৫০, ক্যাম্ফার ৩৪*, টাকার ৭, ডোহেনি ১৬, ম্যাকব্রাইন ১১*; ইবাদত ৭-১-২৪-০, তাইজুল ২০-২-৫৫-৩, খালেদ ৭-০-২৪-১, মিরাজ ৮-৩-২১-০, মুরাদ ১২-৪-৩৫-২)।