Published : 16 Mar 2025, 05:15 PM
অন্যদের ব্যর্থতার ভিড়ে একাই লড়লেন নুরুল হাসান সোহান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে শতক ছুঁয়ে তিনি খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দলকে এনে দিলেন বড় পুঁজি। সানজামুল ইসলাম, কামরুল ইসলামদের দারুণ বোলিংয়ে জয়ে ফিরল ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রোববারের আরেক ম্যাচে প্রায় সাত বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটান সাদমান ইসলাম। বাঁহাতি ওপেনারের অপরাজিত শতরানে টানা তৃতীয় জয় পায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
দিনের অন্য ম্যাচে, পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে হারায় নবাগত গুলশান স্পোর্টিং ক্লাব।
সোহানের সেঞ্চুরি, সানজামুলের ৪ উইকেট
দুই ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ৯৭ রানে হারায় তারা। ২৭৮ রানের লক্ষ্যে ১৮০ রানে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর।
পাঁচ ম্যাচে ধানমন্ডির এটি তৃতীয় জয়। সমান ম্যাচে শাইনপুকুরের জয় মাত্র একটি।
দলকে বড় পুঁজি এনে দেওয়ার পথে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা ১৩২ রানের ইনিংস খেলেন নুরুল হাসান সোহান। ২০২২ সালের প্রিমিয়ার লিগে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষেও ১৩২ রান করেছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ধানমন্ডি। ভালো শুরু করেও ৪২ বলে ৪৫ রান করে আউট হয়ে যান হাবিবুর রহমান।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৩ রান যোগ করেন সোহান ও সানজামুল ইসলাম। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ বলে ৪০ রান করে ফেরেন সানজামুল।
এরপর দলকে বাকি পথ এগিয়ে নেন সোহান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১১৪ বলে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলের ইনিংসে ১৩ চার ও ৪টি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় শাইনপুকুর। চতুর্থ উইকেটে ৬৯ রান যোগ করেন রহিম আহমেদ ও মিনহাজুল আবেদিন। দলের সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন রহিম। মিনহাজুল খেলেন ৩৫ রানের ইনিংস।
পরে আর কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি।
ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের পর বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। কামরুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৭৭/৯ (হাবিবুর ৪৫, জাকিরুল ২, ফজলে মাহমুদ ১২, ইয়াসির ৬, সোহান ১৩২*, সানজামুল ৪০, মইন ৬, জিয়াউর ০, এনামুল ১৪, কামরুল ১১, মুরাদ ১*; রাফি ১০-১-৪৬-২, ফাহাদ ৮-০-৬১-০, আলি ৭-০-৪৯-২, আনোয়ার ১০-০-৩৮-১, রাফসান ১০-১-৪৫-৩, রহিম ৫-০-৩৫-০)
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৪৫.৩ ওভারে ১৮০ (রানা ১৩, মইনুল ৫, অনিক ১৯, রহিম ৪২, মিনহাজুল ৩৫, রাফসান ১৩, জুবায়ের ৪, আলি ২২*, আনোয়ার ২, রাফি ১৫, ফাহাদ ৮; মুরাদ ১০-১-৪২-০, কামরুল ৮-০-২৩-৩, সানজামুল ১০-১-৪৯-৪, এনামুল ১০-১-৩১-১, জিয়াউর ৪-০-১৮-১, মইন ৩-০-১৪-০, হাবিবুর ০.৩-০-২-১)
ফল: ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব ৯৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নুরুল হাসান সোহান
সাদমানের সেঞ্চুরিতে অগ্রণী ব্যাংকের 'হ্যাটট্রিক'
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৭ উইকেটে হারায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ২৬১ রানের লক্ষ্য ৩১ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বাধীন দল।
এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল অগ্রণী ব্যাংক। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে তাদের জয় চারটি। সমান ম্যাচ খেলে সবকটিই হারল রূপগঞ্জ টাইগার্স।
অগ্রণী ব্যাংকের জয়ের বড় কারিগর সাদমান। রান তাড়ায় ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন বাঁহাতি ওপেনার।
এর আগে লিস্ট 'এ'তে তার সবশেষ সেঞ্চুরি ছিল ২০১৮ সালের প্রিমিয়ার লিগে। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান করেছিলেন তিনি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে আব্দুল মজিদের উইকেট হারায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। দ্বিতীয় উইকেটে ১২৪ রানের জুটি গড়েন অমিত মজুমদার ও আসাদুল্লাহ আল গালিব।
তবে দুজনের কেউই দ্রুত রান করতে পারেননি। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৮১ রান করতে ১১১ বল খেলেন অমিত। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৭৭ বলে ৫৭ রান করেন গালিব।
পরে আল আমিন জুনিয়র ৩৯ বলে ৩২ ও আরিফুল হক ৩১ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে দলকে দুইশ পার করান। কিন্তু শেষ দিকে ৩৫ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানোর বেশি বড় হয়নি দলের পুঁজি।
বাঁহাতি পেসে ৩ উইকেট নেন রুয়েল মিয়া।
রান তাড়ায় ইতিবাচক শুরু করেন ইমরানউজ্জামান ও সাদমান। ষষ্ঠ ওভারে পঞ্চাশ করে ফেলে অগ্রণী ব্যাংক। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২০ বলে ২৮ রান করে ফেরেন ইমরানউজ্জামান।
দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুলের সঙ্গে ৮৬ রানের জুটি গড়েন সাদমান। ৪ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কায় ৫৮ বলে ৬২ রান করে আউট হন ইমরুল। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অমিত হাসান।
মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের জুটিতে ম্যাচ জেতান সাদমান।
৫৭ বলে ফিফটি ছুঁয়ে পরের পঞ্চাশ করতে মাত্র ৩৮ বল খেলেন ২৯ বছর বয়সী ওপেনার। সব মিলিয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১০৮ বলে ১১ চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৬০ (মজিদ ৭, অমিত ৮১, গালিব ৫৭, আল আমিন ৩২, আরিফুল ৪০, তানবীর ২, মাহমুদুল ৭, হুসনা হাবিব ৫, ফাহাদ ২, জীবন ১*; রবিউল ৭-০-৪৪-১, শুভাগত ১০-০-৫৩-১, রুয়েল ৮-০-৪২-৩, নাঈম ৬-০-৩৪-০, আরিফ ১০-১-৪২-১, তাইবুর ৯-০-৪১-৩)
অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৪.৫ ওভারে ২৬১/৩ (সাদমান ১১৫*, ইমরানউজ্জামান ২৮, ইমরুল ৬২, অমিত ১৫, মার্শাল ৩৩*; ফাহাদ ৩-০-২৮-০, ফয়সাল ১০-০-৪৯-০, মাহমুদুল ৬-০-৩৬-১, হুসনা হাবিব ৭-০-৪৩-০, জীবন ৮-০-৩৯-০, আরিফুল ১.৫-০-১২-০)
ফল: অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাদমান ইসলাম
গুলশানের টানা দ্বিতীয় জয়
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পারটেক্সকে ৫৭ রানে হারায় গুলশান। ২২১ রানের পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৬৪ রানে গুটিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পায় তারা।
পাঁচ ম্যাচে গুলশানের এটি তৃতীয় জয়। সমান ম্যাচে পারটেক্সের জয় একটি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আজিজুল হাকিম ছাড়া গুলশানের কোনো ব্যাটসম্যান তেমন কিছু করতে পারেননি। লিগে নিজের প্রথম ফিফটিতে ৭৯ বলে ৬২ রান করেন আজিজুল।
তিন নম্বরে নামা লিটন কুমার দাস ২২ রান করতে খেলেন ৩৭ বল। ইফতেখার হোসেন ৩২, নাঈম ইসলাম ২৭, মেহেদি হাসান ২৩, ইলিয়াস সানি ২১ রান করলে কোনোমতে দুইশ পেরোয় গুলশান।
এই পুঁজিই পরে পারটেক্সের জন্য অনেক বেশি প্রমাণিত হয়। রান তাড়ায় কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি পারটেক্স। দলের সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন রবিউল ইসলাম। আরেকবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ৪ রানে আউট হন সাব্বির রহমান।
২টি করে উইকেট নেন আসাদুজ্জামান পায়েল, নিহাদ উজ জামান ও নাঈম ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
গুলশান ক্রিকেট ক্লাব: ৫০ ওভারে ২২১/৯ (জাওয়াদ ৬, আজিজুল ৬২, লিটন ২২, ইফতেখার ৩২, নাঈম ২৭, মেহেদি ২৩, হবিবুর ১, ফরহাদ ১০, নিহাদ ০, ইলিয়াস ২১*, পায়েল ৪*; তৌফিক ১০-০-৫৬-৩, আলাউদ্দিন ১০-০-২৫-১, শহিদুল ১০-০-৪৬-২, জাওয়াদ ১০-০-৪১-০, নাঈম ৫-১-২৪-১, রবিউল ৪-০-২৫-১, রুবেল ১-০-৩-০)
পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৩.২ ওভারে ১৬৪ (জয়রাজ ২৯, রুবেল ১১, সাব্বির ৪, আহরার ৬, আদিল ১৯, রবিউল ৩০, জাওয়াদ ১৭, আলাউদ্দিন ১৩, শহিদুল ১২, নাঈম ১২, তৌফিক ০*; মেহেদি ৮-১-৩৮-১, ফরহাদ ৪-০-১৩-০, পায়েল ৮-০-৩২-২, নিহাদ ৯-১-৩৫-২, নাঈম ৫-০-২৪-২, ইলিয়াস ৮.২-২-১৪-১, আজিজুল ১-০-৪-০)
ফল: গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৫৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আজিজুল হাকিম