Published : 11 Nov 2025, 06:52 PM
পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে স্রেফ একটি ফিফটি। সেটিও কেবল ৫৩ রানের। এমন সাদামাটা পারফরম্যান্স নিয়ে এই ম্যাচটি শুরু করেছিলেন মুবিন আহমেদ দিশান। এখানেও প্রথম ইনিংসে আউট হন স্রেফ ১ রানে। তবে সামর্থ্য-সম্ভাবনা কতটুকু আছে, দ্বিতীয় ইনিংসে তা দেখালেন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ৪৫৫ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে সিলেট বিভাগের হয়ে উপহার দিলেন ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
ম্যাচটি অবশ্য ড্র হয়েছে। ড্র হয়েছে এই রাউন্ডের আরও একটি ম্যাচ। তবে শেষ দিনে দারুণ জয় পেয়ে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ। খুলনার জয়ে ম্যাচের সেরা সৌম্য সরকার, বরিশালের জয়ে নায়ক তানভির ইসলাম।
দিশান যখন দিশারী
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে দিনটি শুরু করেছিল সিলেট বিভাগ। তৃতীয় দিন শেষে ১২৭ রানে এগিয়ে থাকলেও উইকেট ছিল কেবল ৫টি। শেষ দিনে মুবিন আহমেদ দিশাদের শতরান নিরাপদ পথ দেখায় দলকে।
শাহানুর রহমানের সঙ্গে ষষ্ঠ জুটিতে ৯৫ রান যোগ করেন তিনি।
৩৯ রান করে শাহানুর আউট হয়ে গেলেও লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান দিশান। সেঞ্চুরি করেই না থেমে এগিয়ে যান আরও কিছুটা পথ। শেষ পর্যন্ত ১০ চার ও ১ ছক্কায় ২৬২ বলে ১৪১ রান করে যখন তিনি আউট হন রবিউল হকের বলে, সিলেট তখন বিপদমুক্ত।

রংপুরের আগে আগের দিন ৭০ রানের ইনিংস খেলা রবিউল হক বল হাতে শিকার করেন ৩ উইকেট।
রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ব্যাটিংয়ে নামে, ম্যাচ তখন ড্রয়ের পথে। সিলেটের পেসার রেজাউর রহমান দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে তবু কিছুটা উত্তেজনা জাগিয়েছিলেন। তবে নাটকীয় কিছু হয়নি। ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ৮৭ বলে ৪৩ রান করেন।
অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ১৩৩ বল খেলে স্রেফ একটি বাউন্ডারি মেরে অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ১৯৯
রংপুর বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৪৫
সিলেট বিভাগ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৭৩/৫) ৯৬ ওভারে ২৯৪/৯ (ডি.) (মুবিন ১৪১, শাহানুর ৩৯, সাকিব ৭, রেজাউর ৭, আবু জায়েদ ২*, নাবিল ১; মুকিদুল ১৮-৩-৫৮-২, আল মামুন ২৩-১-৭৯-২, আলাউদ্দিন ৩-০-১৫-১, রবিউল ১৭-৪-৪৬-৩, হাশিম ১৯-৩-৩৯-১, শিহাব ১১-১-৩৬-০, নাসির ৫-০-১২-০)।
রংপুর বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৪৯) ৪১ ওভারে ১১২/৪ (জাভেদ ৪, আল মামুন ৪৩, আলাউদ্দিন ৭, নাঈম ৩৪*, মিম ১, রবিউল ৬*; আবু জায়েদ ৭-২-১১-০, রেজাউর ৮-০-২১-২, সৈকত ৩-১-২-০, আল গালিব ১-০-২-০, শাহানুর ৬-২-৮-০, নাবিল ৭-১-১৬-০, সাকিব ৭-২-২৬-১, জাকির ২-০-১৩-১)।
নিষ্প্রাণ ড্র
প্রথম তিন দিনে দুই দলের প্রথম ইনিংসও শেষনি। ম্যাচ তাই নিশ্চিত ড্রয়ের পথেই ছিল। শেষ দিনে উত্তেজনাময় কিছু হয়নি। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে প্রাণহীন ড্র হয় ময়মনসিংহ বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের লড়াই।
৫৪ রানে দিন শুরু করা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব আউট হয়ে যান ৭২ রানে। আরেক অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান ফেরেন ৩৮ রানে।
দশম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথমবার ফিফটির স্বাদ পান আনিসুল ইসলাম ইমন। এক পর্যায়ে শতরানের হাতছানিও ছিল তার সামনে। তবে সতীর্থরা কেউ সঙ্গ দিতে না পারায় অপরাজিত রয়ে যান ৭৯ রানে।
ময়মনিসংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯৭ রান তোলার পর ড্র হয় ম্যাচ। ৫৩ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন, ৫০ বলে ৪৪ রানে মোহাম্মাদ নাঈম শেখ।
ব্যাটিংয়ে ৭৯ রানের পর বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা ময়মনসিংহের শহিদুল ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩২৩
ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২২৫/৪) ১৫৩.৩ ওভারে ৩৮৮ (মার্শাল ৭২, তাইবুর ৩৮, আনিসুল ৭৯*, সুমন ৬, নাজমুল অপু ১৫, এনামুল ৩, সাকিল ১; মারুফ ৩০-৫-৯৪-১, আরিফ ৪২-৯-১০৯-০, শহিদুল ২৮-৪-৭৩-৪, শুভাগত ৪২-১৫-৭২-৩, আমিনুল ৭-২-২১-০, আল আমিন ৪.৩-৩-১-১)।
ময়মনসিংহ বিভাগ ২য় ইনিংস: ১৭ ওভারে ৯৭/০ (মাহফিজুল ৫১*, নাঈম শেখ ৪৪*; সাকিল ৪-০-২২-০, নাজমুল অপু ৬-০-৩৪-০, রায়ান ৫-০-৩৩-০, তাইবুল ১-০-৩-০, আনিসুল ১-০-৪-০)।
শুরুতে সৌম্য, শেষে মেহেদি
জয়ের জন্য শেষ দিনে খুলনা বিভাগের প্রয়োজন ছিল কেবল ১৮৫ রান, উইকেট ছিল সবকটি। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৫ উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া নাঈম হাসান। তবে ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার ও আটে নামা শেখ মেহেদি হাসানের ব্যাটে জিতে যায় খুলনা।
বিনা উইকেটে ৫২ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করে খুলনার উদ্বোধনী জুটি এগিয়ে যায় আরও কিছু দূর। অমিত মজুমদারকে ২১ রানে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভাঙেন নাঈম।
এই অফ স্পিনার একটু পর ফিরিয়ে দেন দারুণ খেলতে থাকা সৌম্যকেও। প্রথম ইনিংসে চারে নেমে ৯২ রান করা ব্যাটসম্যান এবার ওপেন করে খেলেন ৭১ রানের ইনিংস।
এরপর এনামুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, জিয়াউর রহমানদের ব্যর্থতায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় খুলনা। সপ্তম উইকেটের পতন হয় তাদের ১৬৯ রানে।
জয়ের সম্ভাবনাই তখন চট্টগ্রামই এগিয়ে। কিন্তু দারুণ লড়াইয়ে খুলনাকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন শেখ মেহেদি ও নাহিদুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়েন দুই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
নাহিদুল ২২ রান করে আউট হলেও দলের জয় সঙ্গী করে ফেরেন শেখ মেহেদি। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ বলে ৫০ করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
দুই ইনিংসে ভালো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা সৌম্য।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা এখন শীর্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩৫১
খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৮২
চট্টগ্রাম বিভাগ ২য় ইনিংস: ১৬৬
খুলনা বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৩৭, আগের দিন ৫২/০) ৬৬.৫ ওভারে ২৩৭/৮ (অমিত ২১, সৌম্য ৭১, এনামুল ৯, শাহরিয়ার ৩৩, মিঠুন ২, মুনতাসির ১, জিয়াউর ১৬, শেখ মেহেদি ৫০*, নাহিদুল ২২, মেহেদি রানা ২*; মেহেদি ৯-১-২১-১, নাঈম ৩২-২-১০৫-৫, আশিক ৮-১-৩৮-১, আশরাফুল ১৭.৫-৩-৬৩-১)।
তানভিরের ৯ উইকেট
খুলনায় প্রায় সমান সম্ভাবনা নিয়েই শেষ দিনটি শুরু করে বরিশাল বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগ। দারুণ বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেন বরিশালের পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু ও বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম।
শেষ দিন জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল ২৪১ রান, উইকেট ছিল ১০টিই। মিজানুর রহমান ও সাব্বির হোসেন দলকে এনে দেন ভালো শুরু। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান তোলেন দুজন।
অধিনায়ক সাব্বিরকে ৩৩ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইয়াসিন। একটু পর তিনি বিদায় করেন ২৫ রান করা মিজানুরকেও।
এরপর তানভিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে রাজশাহীর মিডল অর্ডার। ২৮ রানের মধ্যে হারিয়ে বসে তারা ৬ উইকেট।
সাব্বির রহমান একটা প্রান্ত আগলে রাখেন দেড় ঘণ্টা। তাকেও (১৮) ফিরিয়ে দেন তানভির। রাজশাহীর রান তখন ৭ উইকেটে ১১৩।
লোয়ার অর্ডারে লড়াই করে রাজশাহীর সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন রাহিম আহমেদ ও নিহাদউজ্জামান। অষ্টম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে ৩৩ রানে রাহিম ও ২৯ রানে নিহাদকে ফিরিয়ে বরিশালের জয় নিশ্চিত করেন ইয়াসিন।
চারটি করে উইকেট নেন ইয়াসিন ও তানভির।
প্রথম ইনিংসে তানভির নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের সেরা বরিশাল অধিনায়কই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ২১২
রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৩৫
বরিশাল বিভাগ ২য় ইনিংস: ২৬৮
রাজশাহী বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৪৬, আগের দিন ৫/০) ৭৪.৫ ওভারে ১৯১ (মিজানুর ২৫, সাব্বির হোসেন ৩৩, ইমন ৩, সাব্বির রহমান ১৮, শাকির ০, প্রিতম ৯, সানজামুল ০, রাহিম ৩৩, নিহাদ ২৯, ওয়ালিদ ১৪, শফিকুল ৭*; তানভির ৩২.৫-৯-৫২-৪, ইয়াসিন ১৭-৫-৪১-৪, রুয়েল ১৪-২-৩৬-২, মইন ৫-০-২৫-০, শামসুর ১-০-৩-০, ইফতি ২-০-১৩-০, ফজলে মাহমুদ ৩-২-২-০)।