Published : 17 Apr 2026, 10:11 PM
গত বছর নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরে এসে একটি ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন ডিন ফক্সক্রফট। এবার ম্যাচ-সেরা হলেন জাতীয় দলের হয়ে সফরে এসে। দারুণ অভিজ্ঞতাই বটে! মুচকি হেসে এই অলরাউন্ডার নিজেই মনে করিয়ে দিলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকে এখানেই তিনি আউট হয়েছিলেন প্রথম বলে!
ফক্সক্রফটের ওয়ানডে অভিজ্ঞতা ২ ম্যাচের। তবে সেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশে এসেছেন বেশ কবার। এই দেশে অভিজ্ঞতা তাই তার কম নয়।
সেই অভিজ্ঞতার ঝলক দেখা গেল বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। যে উইকেটে রান তুলতে ভুগতে হয়েছে প্রায় সব ব্যাটসম্যানকে, সেখানেই তিনি খেলেছেন ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। ম্যাচের একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি, যার স্ট্রাইক রেট একশর বেশি। পরে বল হাতে ৬ ওভারে ২৫ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন একটি। কিউইদের ২৬ রানের জয়ে তিনি ম্যাচের সেরা।
গত বছর নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে একদিনের ম্যাচের সিরিজে সিলেটে দলের জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন তিনি ২ উইকেট নেওয়ার পর অপরাজিত ৩৬ রান করে।
সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবার কতটা কাজে লেগেছে, জানতে চাইতেই ফক্সক্রফট মেলে ধরলেন তার বাংলাদেশ অভিজ্ঞতার ঝাঁপি।
“হ্যাঁ, শতভাগ (অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে)। এখানে সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠবারের মতো এলাম আমি। অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট… অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এসেছি এবং ২০২২ সালে, ২০২৩ সালেও ব্ল্যাক ক্যাপসের সঙ্গে এখানে এসেছিলাম এবং একটি ম্যাচ খেলে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলাম। খুব একটা ভালো অভিষেক ছিল না!”
সেই ম্যাচটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। মিরপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেদিন বোলিং করেননি তিনি। পরে ব্যাটিংয়ে তিন নম্বরে বোল্ড হন প্রথম বলেই। সেটিই এতদিন ছিল তার একমাত্র ওয়ানডে। আড়াই বছর পর আরেকটি ওয়ানডে খেলতে নামার সময় সেই স্মৃতি মনে উঁকি না দিয়ে পারেই না!

ফক্সক্রফট অকপটেই বললেন, সেই অভিজ্ঞতার সবটুকুই মনে আছে তার এবং ক্রিজে যাওয়ার সময় বেশ চাপ অনুভব করছিলেন তিনি।
“আমার মনে আছে, আমি তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলাম এবং ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে শরিফুল আমাকে বোল্ড করেছিল। আজ ছয় নম্বরে ব্যাট করার ভূমিকাটা অবশ্যই ভিন্ন। তবে ক্রিকেট একটা মজার খেলা এবং যা কিছু সামনে আসে, তা-ই গ্রহণ করতে হয়।”
“প্রথম বলটা পার করতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছিলাম। এরপর স্নায়ুর চাপ কিছুটা কমে আসে। যাহোক, আমি মনে করি ওটা এখন অতীত এবং ওটা ভুলে আজকের দিন এবং সম্ভবত সামনের ম্যাচগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।”
বাংলাদেশে আগের অভিজ্ঞতাগুলো সমৃদ্ধ করেছে ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডারকে। দলের অভিজ্ঞদের কাছ থেক্ো শিখছেন তিনি ও তার মতো তরুণরা।
“হ্যাঁ, গত বছর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সফরটা বেশ ভালো ছিল এবং এই উইকেটগুলোতে কীভাবে খেলতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের জন্য ভালো শেখার সুযোগ ছিল। আগে কোথাও সফর করলে স্বাভাবিকভাবেই একটা ধারণা পাওয়া যায় এবং বোঝার চেষ্টা করা যায়, এ উইকেটগুলোতে কীভাবে খেলতে হয়।”
“আমার মনে হয়, পুরো স্কোয়াডের প্রত্যেকেই এর আগে কোনো না কোনো সময়ে খেলেছে। তাই, এই উইকেটগুলোতে কীভাবে খেলতে হয়, প্রত্যেকেরই দারুণ ধারণা আছে এবং ব্যাটিং বিভাগে টম ল্যাথাম, হেনরি নিকোলস, উইল ইয়াংয়ের মতো ক্রিকেটাররা হয়ে অনেক ক্রিকেট খেলেছেন। তাই, আমার এবং অন্য তরুণদের জন্যও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা ওই ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি।”
ফক্সক্রফটের ইনিংসের সৌজন্যেই এ দিন ৫০ ওভারে ২৪৭ রান পর্যন্ত যেতে পারে নিউ জিল্যান্ড। মাঝবিরতিতে অবশ্য সংশয় ছিল, এই রান আসলে কতটা ভালো। তবে ফক্সক্রফট বললেন, তাদের বিশ্বাস ছিল এই পুঁজি জয়ের জন্য যথেষ্ট।
“শুরুতেই আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে, যে এটা বেশ কঠিন হবে এবং উইকেটটা ভালোভাবে বুঝে নেওয়াটা জরুরি। যখন মাঠে ছিলাম, তখন ভাবছিলাম ভালো স্কোর কত হতে পারে এবং ছেলেরা বলেছিল যে ২৪০-এর বেশি যেকোনো স্কোরই আমাদের জন্য ভালো হবে। আমরা জানতাম যে তাদের জন্য এটা তাড়া করা কঠিন হবে, কারণ উইকেট সময়ের সঙ্গে ক্রমেই মন্থর হবে।”
“আবার পরের ম্যাচে উইকেটটা আরও ভালো হতে পারে এবং তখন হয়তো ২৮০-৩০০ আরও ভালো স্কোর হতে পারে। এটা তাই ম্যাচের দিনের উপর নির্ভর করে, খেলার শুরুতে বলাটা কঠিন, কোনটা ভালো স্কোর হবে। আজকে খেলার মাঝামাঝি পর্যায়ে ও সম্ভবত শেষের দিকে, আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে ২৫০ এখানে ভালো স্কোর।”