Published : 21 Feb 2026, 07:33 PM
উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো সোবহানা মোস্তারির সামনে দারুণ এক স্বীকৃতির হাতছানি। ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’ এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তিনি। জানুয়ারির সেরার লড়াইয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আয়ারল্যান্ডের গ্যাবি লুইস ও যুক্তরাষ্ট্রের টারা নরিস।
গত মাসের সেরার লড়াইয়ে জায়গা পাওয়া পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা শনিবার প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
পুরুষ ক্রিকেটারদের মাস সেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন ইংল্যান্ডের জো রুট, নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল ও ভারতের সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।
সোবহানা মোস্তারি
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশকে তোলার পথে বড় অবদান রাখেন সোবহানা। বাছাই পর্বে গত মাসে খেলা ছয় ম্যাচে ৪৫.৮০ গড় ও ১৪৫.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ২২৯ রান করেন তিনি।
বাছাইয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন সোবহানা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে, একটি ছক্কা ও নয়টি চারে করেন ৪২ বলে ৫৯ রান। পরের ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাকি চার ম্যাচের তিনটিতেই ত্রিশোর্ধ ইনিংস খেলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার। সঙ্গে অফ স্পিনে একটি উইকেটও নেন তিনি।
সোবহানার চমৎকার পারফরম্যান্সের টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকেট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
টারা নরিস
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের টিকেট না পেলেও দলটির বাঁহাতি পেসার টারা নরিস বাছাই পর্বে ছিলেন উজ্জ্বল। আসরের সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে এর মধ্যে জানুয়ারিতে পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে তার প্রাপ্তি ১১ উইকেট।
নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি করে শিকার ধরেন নরিস। সঙ্গে ব্যাট হাতে ৩৯ রানও করেন।
গ্যাবি লুইস
আয়ারল্যান্ডকে বিশ্বকাপের টিকেট এনে দেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক গ্যাবি লুইস। গত মাসে খেলা ছয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৪.৮৭ স্ট্রাইক রেটে ২৫২ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৩ রানের ইনিংস বাছাইয়ে লুইসের সর্বোচ্চ। বাছাই পর্বের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি, করেছিলেন ২৭৬ রান।
জো রুট
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ওয়ানডের সিরিজ জয়ের নায়ক ছিলেন জো রুট। ২-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজে দুটি ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে ২৪২ রান করে সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে অফ স্পিনে দুটি শিকারও ধরেছিলেন রুট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের শেষ ম্যাচেও হেসেছিল রুটের ব্যাট। সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান করেছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং গ্রেট।
ড্যারিল মিচেল
ব্যাট হাতে বছরের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে ড্যারিল মিচেলের। ভারতের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। ১৭৬ গড়ে ৩৫২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
২-১ ব্যবধানে জেতা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুটিতে সেঞ্চুরি উপহার দেন মিচেল। সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পাশাপাশি ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেও ওঠেন তিনি।
এছাড়া ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১২৫ রান করেন মিচেল ১৮৬.৫৬ স্ট্রাইক রেটে।
সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে এই সংস্করণে ফর্মে ফেরেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। ২৩ ইনিংসের ফিফটি খরা কাটে তার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস খেলে। পরের তিন ম্যাচে আরও দুটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন তিনি।
৪-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজে ১৯৬.৭৪ স্ট্রাইক রেটে ২৪২ রান করে সুরিয়াকুমার। এই পারফরম্যান্স সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ভারত অধিনায়ক।