Published : 09 May 2026, 08:36 PM
গতি ছিল ১৪০.৯ কিলোমিটার। নাহিদ রানার তুলনামূলক কম গতির ডেলিভারিই সেটি। আরও কত গতিময় গোলা তো বেরিয়েছে তার হাত থেকে! তবে সেই ডেলিভারিটিই পুল করতে গিয়ে গড়বড় করেন আজান আওয়াইস। বল ছোবল দেয় হেলমেটে। সেই হেলমেট বদলাত বাধ্য হন তিনি। তবে তাতেও ভড়কে না গিয়ে দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। দিনের খেলা শেষে অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন সতীর্থ ইমাম-উল-হাক।
বাংলাদেশের ইনিংস ৪১৩ রানে শেষ হওয়ার পর আজান ও ইমাম মিলেই ভালো শুরু এনে দেন পাকিস্তানকে। প্রথম ছয় ওভারে উইকেট না আসায় নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম বলেই শরীর তাক করে শর্ট ডেলিভারি করেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার। আজান চেষ্টা করেন পুল করতে। তবে তার রিফ্লেক্স ছিল অনেক মন্থর। ব্যাট চালানোর আগেই বল আঘাত আঘাত করে হেলমেটে।
সেই ধাক্কায় নড়ে যান আজান। টালমাটাল হয়ে স্টাম্পে পড়ত পড়তেও সামলে নেন কানোরকমে। ফিজিও ছুটে এসে তাকে পরীক্ষা করেন সময় নিয়ে। কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন আম্পায়াররা। হেলমেট বদল করে বেশ কিছুক্ষণ পর আবার শুরু করেন তিনি।
সেই আজান পরে উপহার দেন দারুণ ব্যাটিং। নাহিদকে টানা তিনটি চার মারেন, চা বিরতির পর শুরু করেন নাহিদের প্রথম বলে চার মেরেই। তাকে এখন ডাকছে অভিষেকেই সেঞ্চুরি। দিন শেষে অপরাজিত আছেন ৮৫ রানে।
আজানের সঙ্গে ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ইমাম আউট হন ৪৫ রান করে। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি শোনালেন ওই সময়ে আজানের সঙ্গে কথোপকথন।

“আমরা জানতাম, এরকম কিছু আসছে এবং টিম মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছিল যে, নাহিদ রানা এরকম বোলিং করবে। তবে তরুণ ছেলেটিকে (আজান) কৃতিত্ব দিতেই হবে, প্রথম বলেই সে আঘাত পেয়েছে, বেশ গতিময় বল ছিল এবং এরপর সে বেশ ভালোভাবে জবাব দিয়েছে।”
“তার সঙ্গে সাধারণ আলোচনাই করেছি যে, বলে চোখ রাখতে হবে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, মনোযোগ রাখতে হবে এখন। আজান যেভাবে সবটুকু চাপ সয়ে উঠেছে, পুরো কৃতিত্ব ওকে দিতেই হবে। পার্শ্বীয় মুভমেন্ট আছে, এরকম উইকেটে সে বুঝে নিয়েছে, কীভাবে রান করতে হবে। কখনও কখনও কিছু কিছু অবস্থায় ব্যাট করা খবি কঠিন ছিল, কিন্তু সে ছিল গোছানো এবং দুর্দান্ত ব্যাট করেছে।”
৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশকে ৪১৩ রানে থামিয়ে পাকিস্তান দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে। পাকিস্তানকে এ দিন এগিয়েই রাখছেন ইমাম। তবে টেস্ট ক্রিকেট বলেই নাটকীয়তার আশা ছাড়ছেন না।
“অবশ্যই তা বলতে পারেন (পাকিস্তানের দিন ছিল), যেহেতু ১০০ রানের মধ্যে (১১২) প্রতিপক্ষের বাকি সব উইকেট নিতে পেরেছি এবং আমাদের রান ১ উইকেটে ১৭০ (১৭৯)।”
“তবে তিন দিন বাকি আছে এখনও এবং টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো যে, এটা দ্রুত বদলাতে পারে। আমাদেরকে ধৈর্য রাখতে হবে এবং আগামীকালের দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিই বলে দেবে, টেস্ট ম্যাচ কোন পথে যাচ্ছে।”