Published : 31 Mar 2026, 10:14 PM
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নাওয়াজকে কটাক্ষ করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করায় নাসিম শাহকে দুই বছর নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বাসিত আলি। পাকিস্তানের সাবেক এই ব্যাটসম্যানের দাবি, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হস্তক্ষেপে শুধু আর্থিক জরিমানাতেই পার পেয়ে গেছেন এই পেসার।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা ভাঙার দায়ে সোমবার নাসিমকে দুই কোটি পাকিস্তানি রুপি (৭২ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়। পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আর্থিক জরিমানা মনে করা হচ্ছে এটিকে।
পাকিস্তানের টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজে ৫৫ বছর বয়সী বাসিত বললেন, নাসিম দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
“নাসিম শাহ খুবই ভাগ্যবান। ভেতরের খবরটা আপনাদের বলি। তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার কথা ছিল; কমিটি সেই সুপারিশ করেছিল। এর (নিষিদ্ধ না করার) কৃতিত্ব চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির। তিনি তাদের নাসিম শাহকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ না করে শুধু আর্থিক জরিমানা করতে বলেন।”
“নাকভি বলেন যে, এটা তার (নাসিম) ভবিষ্যতের বিষয়। নাসিম অর্থটা দিতে পারবে, কারণ সে পিএসএল ও অন্যান্য লিগে খেলে। নাকভি কমিটিকে বলেন যে, কারও ক্যারিয়ার নিয়ে খেলা উচিত নয়। এটা মহসিন নাকভির একটি ভালো সিদ্ধান্ত।”
ঘটনার সূত্রপাত চলমান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) উদ্বোধনী ম্যাচের আগের এক ঘটনায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি দর্শকবিহীন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও প্রথম ম্যাচে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ামকে দেখা যায় বেশ কয়েকটি গাড়ি সম্বলিত একটি নিরাপত্তা দল নিয়ে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে। লাহোর কালান্দার্স এবং হায়দরাবাদ কিংসমেনের ক্রিকেটারদেরসহ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। সেসব ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
পিসিবি মিডিয়ার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেসব ছবির একটি পোস্ট শেয়ার করে নাসিম লেখেন, ‘তাকে কেন লর্ডসের রানীর মতো করে সম্মান দেওয়া হচ্ছে?’ কয়েক মিনিট পরেই অবশ্য সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয় এবং দ্রুত আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয় যে, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং তিনি তা পুনরুদ্ধার করেছেন।
তবে পিসিবি সেটাকে আমলে না নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নাসিমকে। তখনই তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত এবং পিসিবির সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা ভাঙার অভিযোগ আনা হয়।
নাসিম রোববার সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে দায় দেন তার ব্যবস্থাপনা দলকে। তবে ক্ষমা চেয়েও তিনি পার পাননি। তার বক্তব্য ও ঘটনা পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভাঙার প্রমাণ পায় পিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি এবং তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
ক্রিকেটারদের সবকিছু তাদের ম্যানেজারদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সকল ধারা বোঝার জন্য তাদের নিজেদেরই কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্তাবলি পড়ার আহ্বান জানালেন বাসিত।
“খেলোয়াড়রা যখন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তখন এই সমস্ত কিছু সেখানে লেখা থাকে। সমস্ত ধারা সেখানেই থাকে। আমাদের খেলোয়াড়রা তখন কেন এই জিনিসগুলো পড়ে না? তারা কেন তাদের ম্যানেজারদের পাঠায়?”
“খেলোয়াড়রা যদি নিজেরাই পড়ত, তাহলে তারা এই বিষয়ে আরও ভালোভাবে অবগত থাকত। তবে পিসিবি প্রধানের এটা একটি ভালো সিদ্ধান্ত। দুই বছর (নিষেধাজ্ঞা) অনেক বেশি।”