১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নিতিশের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের লড়াই

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে ওয়াশিংটন সুন্দারের সঙ্গে নিতিশের শতরানের জুটিতে ফলো-অন এড়াল সফরকারীরা।

নিতিশের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের লড়াই
ক‍্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে মেলবোর্ন টেস্টে ভারতকে টানছেন নিশিত কুমার রেড্ডি। ছবি: বিসিসিআই

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Dec 2024, 04:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:12 AM

২২১ রানে নেই ৭ উইকেট। ফলো-অনে পড়ার শঙ্কায় তখন ভারত। খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুললেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। কঠিন পরিস্থিতিতে উপহার দিলেন টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া ওয়াশিংটন সুন্দার করলেন ফিফটি। দুইজনের শতরানের জুটিতে বক্সিং ডে টেস্টে ঘুরে দাঁড়াল সফরকারীরা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে নিতিশের স্মরণীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান নিয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় দিন শেষ করেছে ভারত। স্বাগতিকদের চেয়ে পিছিয়ে আছে তারা ১১৬ রানে।

আট নম্বরে নেমে ১০৫ রান করে অপরাজিত আছেন নিতিশ। তার ১৭৬ বলের ইনিংসটি গড়া ১ ছক্কা ও ১০ চারে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা ভারতের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার এখন তিনি। ম্যাচটি শুরু করেন ২১ বছর ২১৬ দিন বয়সে।

নয়ে নেমে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১৬২ বল খেলে ১ চারে ঠিক ৫০ রান করেন ওয়াশিংটন। নিতিশের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গড়েন ১২৭ রানের জুটি। এই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালে সিডনিতে সাচিন টেন্ডুলকার ও হারভাজান সিংয়ের ১২৯ রানের জুটি সেরা। 

দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলায় ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল ভারত। ৫ উইকেটে ১৬৪ রান নিয়ে শনিবার দিন শুরু করা দলটি দ্রুত হারিয়ে ফেলে রিশাভ পান্তকে। স্কট বোল্যান্ডকে স্কুপ করে থার্ডম্যান সীমানায় ধরা পড়েন ভারতের আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। 

অনেকটা সময় উইকেটে কাটিয়ে থিতু হওয়া রাভিন্দ্রা জাদেজা পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। ন্যাথান লায়নের স্কিড করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। তখনও ফলো-অন এড়ানো থেকে ৫৪ রান দূরে ছিল ভারত।

এরপর শুরু নিতিশ ও ওয়াশিংটনের লড়াই। দেখেশুনে খেলে দুজনে বাড়াতে থাকেন দলের রান। ৭ উইকেটে ২৪৪ রান নিয়ে প্রথম সেশন কাটিয়ে দেয় ভারত।

দ্বিতীয় সেশন শুরুর কয়েক ওভার পর মিচেল স্টার্কের বলে জীবন পান ওয়াশিংটন। ১৮ রানে থাকা ব্যাটসম্যানের কঠিন ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি দ্বিতীয় স্লিপে থাকা স্টিভেন স্মিথ। নিতিশ অবশ্য দেননি তেমন কোনো সুযোগ। স্টার্কের পরের ওভারে চার মেরে টেস্টে প্রথম ফিফটি করেন নিতিশ।

পরের ওভারে ফলো-অন এড়িয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচে ভারত। এরপর শুরু হয় নিতিশ ও ওয়াশিংটনের ব্যবধান কমানোর লড়াই। দুইজনের জুটির রান একশ স্পর্শ করে ১৮৮ বলে।

কিছুক্ষণ পর হানা দেয় বৃষ্টি। চা বিরতির পর ফিফটিতে পা রাখেন ওয়াশিংটন, ১৪৬ বলে। এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। লায়নের বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বলে স্লিপে ধরা পড়েন স্মিথের হাতে। ভাঙে ভারতের মহামূল্যবান জুটি।

এক ওভার পর জাসপ্রিত বুমরাহকে ফিরিয়ে দেন কামিন্স। ৯৯ রানে থাকা নিতিশের সেঞ্চুরি তখন পড়ে যায় শঙ্কায়। কামিন্সের ওই ওভারের শেষ তিন বল কাটিয়ে দেন মোহাম্মদ সিরাজ।  

পরের ওভারেই স্কট বোল্যান্ডের মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন নিতিশ। এক হাঁটু গেড়ে বসে, ব্যাটের ওপর হেলমেট রেখে করেন উদযাপন। ছেলের কীর্তি দিনটি মাঠে বসে দেখেন বাবা। টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় গ্যালারিতে থাকা নিতিশের বাবার চোখে আনন্দের অশ্রু।

এক ওভার পরই আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সিরিজে অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে মাথা উঁচু করে দর্শকদের অভিবাদন জানাতে জানাতে মাঠ ছাড়েন নিতিশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪৭৪ 

ভারত ১ম ইনিংস: ১১৬ ওভারে ৩৫৮/৯ (আগের দিন ১৬৪/৫) (পান্ত ২৮, জাদেজা ১৭, নিতিশ ১০৫*, ওয়াশিংটন ৫০, বুমরাহ ০, সিরাজ ২*; স্টার্ক ২৫-২-৮৬-০, কামিন্স ২৭-৬-৮৬-৩, বোল্যান্ড ২৭-৭-৫৭-৩, লায়ন ২৭-৪-৮৮-২, মার্শ ৭-১-২৮-০, হেড ৩-০-১১-০)