Published : 04 Aug 2025, 09:38 AM
ক্রিস ওকসের বাঁ হাত আপাতত স্লিংয়ে ঝোলানো। নড়ে গেছে তার কাঁধের হাড়। ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘোষণা তো আগেই এসেছে, বাইরে থাকতে হতে পারে লম্বা সময়ের জন্য। কিন্তু সেই ওকসকে দেখা যেতে পারে ওভাল টেস্টের শেষ দিনে মাঠে নামতে। দলের প্রয়োজনে ক্রিজে নামার জন্য এক হাতে ব্যাটিংয়ের অনুশীলনও করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
ওভাল টেস্ট জিতে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি জয়ের জন্য সোমবার ইংল্যান্ডের প্রয়োজন আর ৩৫ রান। উইকেট আছে চারটি। ক্রিজে আছেন জেমি স্মিথ আর জেমি ওভারটন, দুজনই বেশ আগ্রাসী ও কার্যকর ব্যাটসম্যান। বাইরে অপেক্ষায় গাস অ্যাটকিনসন, মূলত বোলার হলেও ব্যাট হাতে লর্ডসে সেঞ্চুরি আছে তার। জশ টংয়ের ব্যাটিং দক্ষতা অবশ্য ততটা নেই, তবে কিছুটা সময় কাটাতে তো পারবেনই।
আর আছেন ওকস। এমনিতে তিনি ম্যাচের বাইরে, তবে সমীকরণের প্রয়োজনে তিনিও চলে আসবেন বিবেচনায়। দলের প্রয়োজনের কথা ভেবে চতুর্থ দিনে রোববার ওভালের ইনডোরে এক হাতে ব্যাটিংয়ের কিছুটা অনুশীলনও করেছেন ৩৬ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
ম্যাচের প্রথম দিনেই ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ কাঁধে চোট পান ওকস। প্রচণ্ড সোয়েটারকে স্লিংয়ের মতো বানিয়ে হাত ঝুলিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর বোলিং তো দূরের কথা, ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়েও নামেননি তিনি।
তবে দলের জরুরি প্রয়োজনে তো আর বসে থাকা যায় না। যেমন ছিলেন না ম্যালকম মার্শাল। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে তার বুড়ো আঙুল ভেঙে গিয়েছিল ফিল্ডিংয়ের সময়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার তবু ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। ব্যাট করেছিলেন এক হাতে।
সেলিম মালিকের অবস্থা ছিল অনেকটা ওকসের মতোই। বাঁ হাত প্লাস্টার করে স্লিংয়ে ঝোলানো ছিল তার। ১৯৮৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফায়সালাবাদ টেস্টে প্লাস্টার করা হাত নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান। এমনিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান হলেও সেদিন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হয়ে এক হাতে খেলেছিলেন তিনি ১৪টি ডেলিভারি!

তামিম ইকবালের নজিরটি তো আরও টাটকা। ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে চোট পেয়ে তার হাতও স্লিংয়ে ঝোলানো ছিল। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। তবু শেষ জুটিতে ক্রিজে গিয়ে এক হাতে ব্যাট করে ক্রিকেটের চিরন্তন সাহসীকতার গল্পে জায়গা পেয়ে গেছেন বাংলাদেশের ওপেনার।
চতুর্থ দিনে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে জয়ের কাছে এগিয়ে নেওয়া রুট দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, দলের জন্য তেমন কিছু করতে প্রস্তুত ওকসও।
“সে পুরোপুরিই আছে (ম্যাচে), আমাদের সবার মতোই। এটা তেমনই একটা সিরিজ, যে সবাই নিজেদের শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলতে পিছপা হবে না। আশা করি, তেমন কিছু শেষ পর্যন্ত হবে না। তবে আজকে একটা পর্যায়ে এখানে (ইনডোরে) কিছু থ্রো ডাউন খেলেছে সে এবং প্রয়োজন পড়লে সে প্রস্তুত… যা কিছু প্রয়োজন, সবকিছু করতে সে মরিয়া।”
ওকস বাঁহাতি হয়ে ব্যাট করবেন কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নন রুট।
“আমি ঠিক নিশ্চিত নই (বাঁহাতি হয়ে ব্যাট করবেন কি না)… তাকে অনুশীলন করতে দেখিনি আমি। কালকে (সোমবার) সকালে কিছু আভাস পাওয়া যেতে পারি, যদি সকালে কিছু থ্রো ডাউন সে খেলে।”
এই সিরিজেই ভাঙা পা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন রিশাভ পান্ত। সেই উদাহরণ তুলে ধরেই রুট বললেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে সবাই দলকেই রাখে সবকিছুর ওপরে।
“পরিস্কারভাবেই প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর সে (ওকস), সিরিজজুড়ে এত কিছু করার পর। এতেই ফুটে ওঠে, তার কাছে এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে অন্যদেরকেও আমরা দেখছি নানা আঘাত সয়ে খেলতে, রিশাভ পান্ত যেমন ভাঙা পায়ে খেলেছে…।”
“ইংল্যান্ডের জন্য সে (ওকস) নিজের শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলতে কোনো দ্বিধা করবে না। এতেই ফুটে ওঠে তার মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব। আশা করি, তাকে নামতে হবে না। তবে যদি সেই পর্যায়ে যেতে হয় যে, তাকে নামতেই হবে আমাদেরকে লক্ষ্য ছুঁতে ও অসাধারণ এক সিরিজ জেতাতে সে থাকবে।”