যুব এশিয়া কাপ
Published : 17 Dec 2025, 07:00 PM
ভালো শুরু পেলেন প্রথম চার ব্যাটসম্যান। কিন্তু তাদের কেউই খেলতে পারলেন না বড় ইনিংস। ইনিংসে ফিফটি হলো না একটিও। কোনোমতে সোয়া দুইশ পর্যন্ত যেতে পারল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। পরে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এই রানই যথেষ্ট করে তুললেন ইকবাল হোসেন ও শাহরিয়ার আহমেদরা। লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
দুবাইয়ে বুধবার যুব এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২২৫ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে ১৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। সেমি-ফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।
শেষ চারের আরেক লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা খেলবে ভারতের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই মাঠে গড়াবে আগামী শুক্রবার।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমে ৬ বলে দুই ছক্কায় ১২ রান করেন ইকবাল। পরে স্রেফ ৩৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন এই পেসার। ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
আইসিসি একাডেমি মাঠে এদিন দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি খেলেন ছন্দে থাকা জাওয়াদ আবরার। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা বাংলাদেশ ওপেনার ৪টি করে ছক্কা-চারে খেলেন ৩৯ বলে ৪৯ রানের ইনিংস।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ জাওয়াদ ও রিফাত বেগের ব্যাটে ভালো শুরু পায়। তাদের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৪ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়ানো জাওয়াদের বিদায়ে ত্রয়োদশ ওভারে ভাঙে এই যুগলবন্দি।
আরেক ওপেনার রিফাত বিদায় নেন ৩ চারে ৩৬ রান করে। বাংলাদেশের প্রথম দুই ব্যাটসম্যানকেই ফেরান পেসার রাসিথা নিমসারা।
আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকের জুটিতে আসে ৫৩ রান। ২ চারে ২৯ রান করা আজিজুলের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ১৫৬ থেকে সোয়া দুইশ রানে অলআউট হয়ে যায় দল।
৬৯ রানে শেষ ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশের যুবারা।
অনেকটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে একটি করে ছক্কা-চারে ৬০ বলে ৩২ রান করেন কালাম। সাতে নেমে দুই ছক্কা ও একটি চারে ২৯ রান করেন কিপার ব্যাটসম্যান ফরিদ খান। বাংলাদেশের ইনিংসে পাঁচ জন স্পর্শ করতে পারেননি দুই অঙ্ক।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন অফ স্পিনার কাভিজা গামাগে। দুটি করে প্রাপ্তি রাসিথা ও ভিরানের।
অল্প পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল, ঠিক সেটাই দলকে এনে দেন ইকবাল ও সামিউন বাশির। সপ্তম ওভারে চিরান চামুদিথাকে কট বিহাইন্ড করেন ইকবাল। পরে দ্রুত দুই শিকার ধরেন বাঁহাতি স্পিনার সামিউন।
১৭তম ওভারে যখন কাভিজাকে কট বিহাইন্ড করেন ইকবাল, লঙ্কানদের রান তখন চার উইকেট ৪৪। এরপর জমে উঠতে থাকতে ভিমাথ দিনসারা ও চামিকা হিনাতিগালার জুটি।
ভিমাথকে ফিরিয়ে ৩৬ রানের বন্ধনে ফাটল ধরান শাহরিয়ার। কয়েক ওভার পর এই বাঁহাতি স্পিনার ধরেন জোড়া শিকার।
এরপর আধাম হিল্মির ব্যাটে দেড়শ পার করে লঙ্কানরা। ১ ছক্কা ও তিনটি চারে ২৯ রান করেন আধাম। তাদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১ রান করতে একটি চার মারেন চামিকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৬.৩ ওভারে ২২৫ (জাওয়াদ ৪৯, রিফাত ৩৬, আজিজুল ২৯, কালাম ৩২, রিজান ৬, শাহরিয়ার ৩, ফরিদ ১৯, শাহরিয়া ০, সামিউন ৯, সাদ ২*, ইকবাল ১২; সেথমিকা ৬-০-২৯-০, রাসিথ ৮-০-৫৭-২, থারুশা ৭-০-৪২-০, ভিরান ১০-১-১৯-২, চামিকা ৫-০-২৭-০, কাভিজা ১০-১-৩৮-৪, দুলনিথ ০.৩-০-৭-১)
শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৯.১ ওভারে ১৮৬ (দিমান্থা ১৩, ভিরান ১২, কিথমা ০, কাভিজা ৯, ভিমাথ ১৭, চামিকা ৪১, দুলনিথ ১৪, আধাম ৩৯, সেথমিকা ৪, রাসিথ ১২, থারুশা ১*; ইকবাল ১০-২-৩৭-৩, সাদ ৮.১-১-৪৫-১, আজিজুল ১০-০-৩১-২, সামিউন ১০-১-২৭-২, শাহরিয়ার ১০-০-২৭-৩, শাহরিয়া ১-০-১২-০)
ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইকবাল হোসেন