Published : 28 Jan 2026, 01:24 PM
প্রথম দুই ওভারেই পতন দুই উইকেটের। একটু কি টালমাটাল বাংলাদেশ? কিসের কী! সোবহানা মোস্তারি ক্রিজে গিয়েই শুরু করলেন পাল্টা আক্রমণ। অনেক পথ পেরিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পেলেন প্রথম ফিফটির দেখা। মন্থর শুরুর ঝড় তুললেন জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস। স্পর্শ করলেন ছক্কার রেকর্ড। দুজনের শতরানের জুটিতে দল পেয়ে গেল স্বস্তির স্কোর। পরে মারুফা আক্তার ও রিতু মনির দারুণ বোলিংয়ে ধরা দিল প্রত্যাশিত জয়।
উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স পর্ব শুরু করল বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের ফেভারিটদের এটি টানা পঞ্চম জয়।
নেপালের মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বুধবার ২০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১৬৫ রান। থাইল্যান্ড ২০ ওভারে আটকে যায় ১২৬ রানে।
৪৫ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন জুয়ারিয়া, ৪২ বলে ৫৯ রান করেন সোবহানা। দুজনের জুটিতে আসে ১১০ রান।
দুজনেরই এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি। জুয়ায়রিয়া এই স্বাদ পেলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পঞ্চম ম্যাচেই। ইনিংসে তিনটি চারের পাশাপাশি ছক্কা মারেন তিনি চারটি।
বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি। এই আসরেই প্রথম ম্যাচে পাপুো নিউ গিনির বিপক্ষে ১৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে চারটি ছক্কা মেরেছিলেন স্বর্ণা আক্তার।
সোবহানার জন্য এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে সাড়ে ছয় বছর পর ৫২তম ম্যাচে এসে প্রথমবার পঞ্চাশে পা রাখলেন তিনি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ম্যাচের প্রথম বলেই হারায় ওপেনার দিলারা আক্তারকে। দলের সেরা ব্যাটার শারমিন আক্তান নেমে দ্রুত দুটি বাউন্ডারি মারলেও আউট হয়ে যান দ্বিতীয় ওভারেই।
সোবহানা চারে নেমে অল্প সময়ের মধ্যে তিনটি বাউন্ডারিতে সরিয়ে দেন চাপ। জুয়ায়রিয়া এমনিতে আগ্রাসী হলেও এ দিন শুরুটা করেন সাবধানে। পাওয়ার প্লেতে তার রান ছিল ১৬ বলে ৬। পাওয়ার প্লে শেষে প্রথম বলটিই উড়িয়ে দেন তিনি ছক্কায়।

দুজনের ব্যাটই এরপর ছুটতে থাকে সমান তালে। প্রথম ছয় ওভারে ৩১ রান তোলা দল পরের ছয় ওভারে তোলে ৫৫ রান।
কে আগে ফিফটিতে পৌঁছবেন, এক পর্যায়ে সেটিই ছড়ায় কৌতূহল। ১৪ ওভার শেষে দুজনেরই রান ছিল ৪৭। এরপর একটি ডাবল নিয়ে পরে ছক্কা মেরে ফিফটি পেরিয়ে যান জুয়ারিয়া। পরের ওভারেই চার মেরে পঞ্চাশের দেখা পান সোবহানা।
জুয়ায়রিয়া আউট হয়ে যান ওই ওভারেই। সঙ্গীকে হারানোর পরের ওভারে বিদায় নেন সোবহানাও।
পরে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি স্বর্ণা আক্তার (৫ বলে ৪)। অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৬ বলে ৬) ব্যর্থ আবার। আসরের পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে তার রান ৪৮।
শেষ ওভারে তিন বাউন্ডারিসহ রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ইনিংসে শেষ দিকে একটু বাড়ে রান। শেষ ওভার থেকে আসে ২২।
রিতু পরে বল হাতে শিকার করেন দুটি উইকেট। তবে তিন উইকেট নিয়ে সেরা বোলার দলের মূল পেসার মারুফা আক্তার।
বাংলাদেশও ইনিংস শুরু করে প্রথম বলে মারুফার উইকেট শিকারে। দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য ৬৭ রানের জুটি গড়েন নাত্থাকান চান্থাম ও নানাপাত কোনচারোইকাই। তবে রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ, তুই খুব বড় শঙ্কা জাগায়নি এই জুটি।
থাইল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার নাত্থাকানকে (৪১ বলে ৪৬) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ফাহিমা খাতুন।
নানাপাত ফেরেন ২৯ বলে ২৯ রান করে, অধিনায়ক নারুইমল চাইওয়াই ২৮ বলে ৩০। দুজনকেই ফেরান স্বর্ণা।
দলের দুই সেরা স্পিনার নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানের অকার্যকর দিনে দারুণ বোলিং করেন লেগ স্পিনার স্বর্ণা।
থাইল্যান্ডের পরের ব্যাটারদের কেউ আর তেমন কিছু করতে পারেননি।
গ্রুপ পর্ব থেকে চার পয়েন্ট সুপার সিক্সে বয়ে আনা বাংলাদেশের পয়েন্ট এই জয়ে হলো ছয়। প্রত্যাশিতভাবেই তারা পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে। পরের ম্যাচ শুক্রবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (দিলারা ০, জুয়ায়রিয়া ৫৬, শারমিন ১১, সোবহানা ৫৯, স্বর্ণা ৪, নিগার ৬, রাবেয়া ৫, রিতু ১৫, ফাহিমা ১*; ফানিতা ৩-০-৩৩-১, থিপাতচা ৪-০-২২-৩, সুনিদা ৪-০-৩১-০, ওনিচা ৪-০-২৯-২, সুলিপর্ন ৪-০-৩৭-০, চায়ানিসা ১-০-১৩-০)।
থাইল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৬/৮ (সুয়ানান ০, নাত্থাকান ৪৬, নানাপাত ২০, নারুইমল ৩০, চানিদা ১, সুলিপর্ন ৭, ফানিতা ২, ওনিচা ২, সুনিদা ৫*; মারুফ ৪-০-২৫-৩, নাহিদা ৩-০-২৭-০, রাবেয়া ২-০-১৫-০, রিতু ৪-০-২০-২, ফাহিমা ৩-০-১৮-১, স্বর্ণা ৪-০-২১-২)।
ফল: বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: সোবহানা মোস্তারি।