Published : 27 Sep 2025, 07:20 PM
টি-টোয়েন্টির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের ক্রিকেটে খুব একটা পরিচিতি নেই মাহমুদুল হাসান জয় ও শাহাদাত হোসেনের। সেই দুজনের ব্যাটই এবার হয়ে উঠল উত্তাল। লক্ষ্য ছিল বেশ বড়। কিন্তু এই দুজনের ঝড়ো ইনিংসে অনায়াসেই জিতে যায় চট্টগ্রাম বিভাগ।
জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ম্যাচটিতে শনিবার ঢাকা মেট্রোকে ৭ উইকেটে হারায় চট্টগ্রাম বিভাগ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০ ওভারে ঢাকা মেট্রো করে ১৮৬। রান তাড়ায় চট্টগ্রাম বিভাগ জিতে যায় ১৯ বল বাকি রেখেই।
চারটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা জয়। শাহাদাত খেলেন ৫ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬৪ রানের ইনিংস, যা তার ক্যারিয়ার সেরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা মেট্রো উড়ন্ত শুরু পায় মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ব্যাটে। ৮.৩ ওভারে ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন।
আগের ম্যাচে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১২ বলে ৩০ রানের পর এবার রবিন করেন ২৭ বলে ৪১। ৩৩ বলে ৪৬ করে আউট হন অধিনায়ক নাঈম।
এরপর বাংলাদেশ টেস্ট দলের ওপেনার সাদমান ইসলাম একটি করে ছক্কা ও চারে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান। আনিসুল ইসলাম ইমন ৩ রান করতে খেলেন ১০ বল।
সেই সময়টায় রান রেট কমে যায় একটু। তবে মাহমুদউল্লাহ ও আবু হায়দার রনির ঝড়ে শেষ তিন ওভারে ৪৭ রান তুলে ফেলে মেট্রো।
অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২২ বলে ৪১ রান করে, ১২ বলে অপরাজিত ২৪ আবু হায়দার।
তবে ব্যাটিং উইকেটে সেই রানকে পাত্তা দেয়নি চট্টগ্রাম। মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয়ের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫৩ রান। মুমিনুলফেরেন ১৮ বলে ৩১ রান করে।
দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ বলে ৭৪ রানের জুটিতে দলের জয় একরকম নিশ্চিত করে দেন জয় ও শাহাদাত।

জয়ের কাছে গিয়ে জয় সীমানায় ধরা পড়লেও শাহাদাত ফেরেন জয় সঙ্গে নিয়েই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা মেট্রো: ২০ ওভারে ১৮৫/৬ (নাঈম শেখ ৪৬, মাহফিজুল ৪১, সাদমান ১৫, আনিসুল ৩, মাহমুদউল্লাহ ৪১*, মাহমুদুল ৪, তাহজিবুল ১, আবু হায়দার ২৪*; হাসান ৪-০-৪২-১, নাঈম ৪-০-৩২-২, রুবেল ৪-০-১৬-১, মুরাদ ৪-০-৩৪-১, শরিফ ৪-০-৫৮-০)।
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৬.৫ ওভারে ১৮৬/৩ (মুমিনুল ৩১, জয় ৭১, শাহাদাত ৬৪*, ইয়াসির ১২*; রকিবুল ৩-০-৩০-০, আবু হায়দার ৩.৪-০-৪২-০, আরিফ ৪-০-৪২-০, মাহমুদুল ১-০-১০-১, শহিদুল ২-০-৩২-০, আনিসুল ৩-০-৩০-১)
ফল: চট্টগ্রাম বিভাগ ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয়।

বোলারদের ব্যাটিংয়ে সিলেটের দারুণ জয়
শেষ দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ৩০ রান, ৭ উইকেটে হারানো সিলেটের হয়ে ক্রিজে তখন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও রেজাউর রহমান রাজা। দুজনই মূলত পেস বোলার, ব্যাটের হাত খুব ভালো নয় কারও। দলের প্রয়োজনে এই দুজনই হয়ে উঠলেন দারুণ ফিনিশার। রোমাঞ্চকর জয়ের স্বাদ পেল সিলেট।
মাঝারি স্কোরের উত্তেজনাময় ম্যাচটিতে বরিশাল বিভাগকে ২ উইকেটে হারায় সিলেট বিভাগ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশালের হয়ে বলার মতো স্কোর করেন কেবল ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও সালমান হোসেন।
চারটি করে চার ও ছক্কায় ৪৪ বলে ৬০ করেন ফজলে মাহমুদ, চার ছক্কায় ২১ বলে ৩৫ করেন অধিনায়ক সালমান।
দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। ২০ ওভারে ১৪১ রানে থামে দল।
সিলেটের পেসার ইবাদত হোসেন ২৪ রানে শিকার করেন তিন উইকেট।
রান তাড়ায় সিলেটও খুব সুবিধে করতে পারছিল না। ১০ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৯!
অভিজ্ঞ ওপেনার মিজানুর রহমান ১৩ রান করতে খেলেন ২২ বল। বড় ভরসা অধিনায়ক জাকির হাসান ফেরেন ৭ রানেই।
চারে নেমে অনেকটা সময় টিকে থাকা অমিত হাসান ৩২ বলে করেন ৩৯। দুই ছক্কায় আসাদুল্লাহ আল গালিবের ২৪ রান একটু এগিয়ে দেয় দলকে।
পেসার মেহেদি হাসানের দারুণ বোলিংয়ে তবু জয়ের পথেই ছিল বরিশাল। কিন্তু শেষ দুই ওভারে চিত্র পাল্টে দেন খালেদ ও রেজাউর।
১৯তম ওভারে রুয়েল মিয়াকে টানা দুটি চার মারেন রেজাউর, শেষ বল ছক্কায় ওড়ান খালেদ। ওভার থেকে আসে ২০ রান।
মেহেদির করা শেষ ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে দেন রেজাউর। তৃতীয় বলে অবশ্য আউট হয়ে যান খালেদ। তবে নতুন ব্যাটসম্যান নাঈম হোসেন সাকিব প্রথম বলেই চার মেরে দুই বল আগেই শেষ করে দেন খেলা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ: ২০ ওভারে ১৪১/৮ (জাহিদ ৩, ইফতেখার ৯, ফজলে মাহমুদ ৬০, সালমান ৩৫, রাফসান ৬, সোহাগ ৬, মঈন ৬, মেহেদি ৭, তানভির ১*; গালিব ৪-০-১৭-১, ইবাদত ৪-০-২৪-৩, খালেদ ৪-০-২৮-১, রেজাউর ৪-০-৩৩-১, নাঈম ২-০-২১-০, রাহাতুল ২-০-১৪-১)।
সিলেট বিভাগ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৩/৮ (সায়েম ১৩, মুবিন ৯, জাকির ৭, অমিত ৩৯, রাহাতুল ৭, গালিব ২৪, তৌহিদ ৩, খালেদ ১২, রেজাউর ১৯*, নাঈম ৪*; রুয়েল ৪-০-৪৫-১, মঈন ৪-০-২১-০, সোহাগ ৩-০-১৯-১, তানভির ৪-০-২২-১, মেহেদি ৩.৪-০-২২-৩, জেহাদ ১-০-১২-০)।
ফল: সিলেট বিভাগ ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যচ: রেজাউর রহমান।