আইপিএল
Published : 20 Apr 2026, 10:14 PM
ইনিংসের শেষ ওভার শুরুর আগে তিলাক ভার্মার নামের পাশে ছিল ৮০ রান। সেঞ্চুরি তখনও অনেক দূরের পথ। প্রাসিধ কৃষ্ণার প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কায় নব্বইয়ে পৌঁছে গেলেন তিনি। তৃতীয় ডেলিভারিতে সিঙ্গল নেওয়ায় শঙ্কায় পড়ে যায় তার শতক। শেষ দুই বলে যখন স্ট্রাইক পেলেন, তখনও তার লাগে ৯ রান। ছক্কার পর চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
আহমেদাবাদে সোমবার গুজরাট টাইটান্সকে একাই টানেন তিলাক। পাঁচে নেমে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৪৫ বলের ইনিংসে সাতটি ছক্কার সঙ্গে মারেন আটটি চার।
আইপিএলে এই প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিলাক। আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার শতক হলো পাঁচটি।
ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পাঁচ নম্বর কিংবা তার নিচে নেমে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিলাক। সবশেষ এমনটা দেখা গিয়েছিল নয় বছর আগে। ২০১৭ আসরে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে রাইজিং সুপার জায়ান্টসের হয়ে পাঁচ নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংলিশ তারকা বেন স্টোকস।
এবারের আইপিএলের শুরুটা একদমই ভালো ছিল না তিলাকের। দলের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একবারও ২০ রান ছাড়াতে পারেননি তিনি। তিন ইনিংসে তো ড্রেসিং রুমে ফেরেন দুই অঙ্ক স্পর্শ করার আগেই। যেখানে আবার একটিতে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
গুজরাটের বিপক্ষে ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে এমনভাবে বেরিয়ে এলেন তিলাক, তাতে ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেও। আইপিএলে নিজের পঞ্চম আসরে এসে পেলেন সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় স্বাদ।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে হারালে ক্রিজে যান তিলাক। প্রথম বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে রানের খাতা খোলেন তিনি। শুরুতে ধুঁকতে থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুখোমুখি প্রথম ২২ বলে মারতে পারেননি কোনো বাউন্ডারি, করতে পারেন ১৯ রান।
পঞ্চদশ ওভারে প্রাসিধকে টানা তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ডানা মেলে দেন তিলাক। পরে রাশিদ খানকে ছক্কার পর হাঁকান চার। ১৮তম ওভারে আশোক শার্মার ওপর ঝড় বইয়ে দেন তিনি। প্রথম পাঁচ বলে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। প্রথম বলে ছক্কায় ৩৩ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
১৯তম ওভারে কেবল একটি বাউন্ডারি মারতে পারেন তিলাক। এরপর শেষ ওভারে ফের তাণ্ডব চালিয়ে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি।
ফিফটি থেকে শতক স্পর্শ করতে তিলাকের লাগে কেবল ১২ বল।
তিলাকের ঝড়ে শেষ ছয় ওভারে ৯৬ রান তোলে মুম্বাই। তার নৈপুণ্যে ২০ ওভারে ১৯৯ রান করে চলতি মৌসুমে কেবল একটি ম্যাচ জেতা দলটি। তাদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি নামান ধিরের, এক ছক্কা ও ছয়টি চারে ৩২ বলে ৪৫।