Published : 02 May 2026, 08:53 PM
বৈশাখের বৃষ্টি তো এক সময় থেমে গেল। ভেসে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে ম্যাচও। কিন্তু ম্যাচ শেষে লিটন কুমার দাসের কণ্ঠেও ঝরল যেন বৃষ্টি। সেই বর্ষণ আক্ষেপের। সিরিজ শুরুর আগে লোয়ার অর্ডারদের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ ম্যাচে সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ার পর অধিনায়ক শোনালেন হতাশার কথা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে শনিবার বাংলাদেশের টপ অর্ডারও ভালো করতে পারেনি। প্রথম পাঁচ ওভারে পতন হয় তিন উইকেটের। এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দল। সপ্তম ওভারে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ নেমে আসে ১৫ ওভারে। বিরতির পরও লিটন ও হৃদয়ের জুটি একটু এগিয়ে নেয় দলকে। তবে পরের দিকে ধস নামে ব্যাটিংয়ে।
দ্বাদশ ওভারের দ্বিতীয় বল শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ৮৬। পরের চার ওভারে অন্তত ৪০ রানের আশা তো করাই যায় তখন। কিন্তু দ্বাদশ ওভার থেকেই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। ১৬ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভারও পুরো খেলতে পারেনি দল।
১০৩ রান তাড়ায় নিউ জিল্যান্ড ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারালেও পরে জিতে যায় আর কোনো উইকেট না হারিয়েই।
সিরিজ শুরুর আগে লিটন বলেছিলেন, লোয়ার-মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার থেকে রান চান তিনি। প্রথম ম্যাচে তা প্রয়োজন হয়নি। শেষ ম্যাচে প্রয়োজনের সময় তারা পারল না। সিরিজ শেষের সংবাদ সম্মেলনে হতাশা লুকালেন না অধিনায়ক।
“ব্যাটিংয়ে যদি (আরও বেশি) রান করতাম, ভিন্ন চিত্র হতে পারতো। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে একটি কথা বলেছিলাম যে, আমাদের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে, আমরা চাই যে তারা আমাদেরকে ইনপুট দেবে ব্যাটিংয়ে। আজকে জায়গা ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।”
স্পিনিং অলরাউন্ডারদের কথা সিরিজ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট করেই বলেছিলেন লিটন। শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদের কাছে রানের দাবি ছিল তার। নাসুম মাঠে নামার সুযোগ পাননি। মেহেদি ছিলেন অপরাজিত, রিশাদ পারেননি ভালো করতে।
লিটন আবারও বললেন, এই জায়গা থেকে রান আসা দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
“আগেও বলেছি রিশাদ, শেখ মেহেদী, নাসুম, ওরা স্পিনার হিসেবে খেলে। সব দলে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, তারা ব্যাটিংও পারে। তা না হলে আপনাকে চায়নাম্যান হতে হবে, মিরাকল কিছু যেমন থাকে অনেক দলের ক্রিকেটার (রহস্য স্পিনার), তারা শুধু বোলিং হিসেবেই খেলে। শেখ মেহেতি তো ব্যাটিং পারে, কিন্তু ওই পারফরম্যান্সটা আমাদের দরকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। রিশাদের ক্ষেত্রেও তা সত্যি।”
“অলরাউন্ডারের ক্ষেত্রে সাইফ উদ্দিন, সাকলাইন আছে। সাকিবও (তানজিম হাসান) আছে। তাদের কাছ থেকে আমরা ব্যাটিং আশা করি। কিছু কিছু সময় এরকম ম্যাচ থাকবে যেখানে লোয়ার অর্ডারের দরকার। এই জিনিসটা খুবই জরুরি।”
মেহেদি, রিশাদরা প্রত্যাশামতো রান করতে পারছেন না বেশ কিছুদিন ধরেই। সমাধানের প্রশ্নে অসহায়ত্বই শোনা গেল লিটনের কণ্ঠে।
“টি-টুয়েন্টিতে ৫ বোলার ছাড়া যেতে পারব না। আমি যদি ৯ ব্যাটসম্যান নিয়ে নামি, ৩ বোলার নিয়ে খেলা লাগবে। আপনার কাছে যদি সমাধান থাকে, দিতে পারেন আমাদেরকে।”
লিটন জানালেন, অনুশীলনে ব্যাটিংয়ের উন্নতির চেষ্টা যথেষ্টই করছেন রিশাদ-মেহেদিরা।
“আমাদের যারা ব্যাটিং কোচ আছে, তাদের (লোয়ার-মিডল অর্ডার) পেছনে সময় দিচ্ছে। অবশ্যই রাতারাতি বদল হবে না এবং এটা সম্ভবও না। তবে ওরা চেষ্টা করছে। আশা করি যে, বিশ্বকাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও ভালো হবে।”
“সবাই চেষ্টা করছে। আপনারা দেখলেও দেখবেন যে সবাই ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত (অনুশীলনে)। তবে নেটে ব্যাটিং আর ম্যাচের ভেতর ব্যাটিং অনেক পার্থক্য আছে। আশা করি যে ওরা যদি ম্যাচগুলোতে পারফর্ম করে, তাহলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।”