রামমন্দির উদ্বোধনের প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন ভারত সরকার বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরি করে মুসলিম জাতিসত্তার ওপরে ‘আঘাত হেনেছে’।
ভারতের অযোধ্যায় তিন দশকের বেশি সময় আগে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাবরি মসজিদ জায়গায় নির্মিত রামমন্দির উদ্বোধনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে ভিসি চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ভারত সরকার বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরি করে মুসলিম জাতিসত্তার ওপরে আঘাত হেনেছে। এছাড়া এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার দৃষ্টান্তও স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, “বাবরি মসজিদের জায়গায় কোনো মন্দির ছিল না, তা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। কিন্তু ১৯৯২ সালে করসেবকরা বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়, যা পুরো দেশজুড়ে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিস্ফোরণ ঘটায়। ...আমরা এহেন সাম্প্রদায়িক উষ্কানির প্রতিবাদ জানাই।”
আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তন্নী বলেন, “রামমন্দির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে ভারত একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।”
সোমবার অযোধ্যায় হিন্দুদের জনপ্রিয় দেবতা রামের নামে তৈরি করা বিশাল মন্দিরের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এখনকার রামমন্দিরের জায়গায় ১৬ শতকে নির্মিত মসজিদটির নাম ছিল বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে কট্টরপন্থি হিন্দু জনতা মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সৃষ্ট দাঙ্গায় প্রায় ২০০০ মানুষ নিহত হয়েছিল। রাম যেখানে জন্মেছিলেন ঠিক সেই জায়গায় হিন্দু এই দেবতারা একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর মুসলিম আক্রমণকারীরা মসজিটটি নির্মাণ করেছিল বলে দাবি তাদের।
এই মন্দির নির্মাণ মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি কেন্দ্রীয় প্রতিশ্রুতি।
আরও পড়ুন:
