Published : 02 Sep 2025, 09:35 PM
দেশব্যাপী ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং অন্তঃর্কোন্দলের ঘটনাগুলো ঢাকতে ছাত্রদল ‘দায় চাপানোর রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ।
ছাত্রলীগের ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান ছাত্রদলের মুখে ওঠার অভিযোগ করে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “নৃশংস প্রক্রিয়া যেগুলো আওয়ামী লীগ ফলো করত, সেটি ছাত্রদল আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
“ছাত্রলীগের যা যা বৈশিষ্ট্য ছিল… ধর্ষণের কেইস, অন্তর্দ্বন্দ্বের কেইস, কোন্দলের কেইস, চাঁদাবাজির কেইস–সবগুলো যখন এখন ঢাকতে পারছে না। এক বছরের মধ্যে শিবিরকে নিয়ে কোনো এজেন্ডা পাচ্ছে না, এখন শুরু হয়েছে দায় চাপানোর রাজনীতি।”
গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে অন্তত ৩০টি ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চলছে বলে দাবি করেন ফরহাদ।
তিনি বলেন, “যারা ধর্ষণের কেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার, শিক্ষার্থীরা যাদেরকে ভয় পায়, এইসব ঘটনা যখন সামনে আসে, এগুলো ক্যামনে চাপা দেবে, আর কোনো ইস্যু না পেয়ে সে ইস্যু সামনে নিয়ে আসার মত তারা রাজনীতি করছে এবং নিশ্চয় শিক্ষার্থীরা বোঝে যে আপনারা কীভাবে কী করছেন।”
ডাকসুতে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিটকারী এক প্রার্থীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকিদাতা শিক্ষার্থী আলী হুসেন ‘শিবির নেতা’ দাবি করে মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল করার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
আলী হুসেন ‘শিবিরকর্মী’ দাবি করে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদেরও।
অন্যদিকে শিবিরের দাবি, তিন বাম ছাত্র সংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের প্রার্থী ফাহমিদা আলমকে ‘গণধর্ষণের হুমকিদাতা আলী হুসেন তাদের কেউ নন। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শিবিরও প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছে।
এছাড়া ফাহমিদার প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান হৃদয় আরেকটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।
এর মধ্যে জামায়াতের কর্মসূচিতে আলী হুসেনের ‘যোগ দেওয়া’ এবং ছাত্রশিবিরকে ‘সমর্থন’ করে ফেইসবুকে দেওয়া পোস্ট সামনে এনেছে ছাত্রদলসহ অন্যরা।
অন্যদিকে ছাত্রদলের ‘সমর্থনে’ও আলী হুসেনের বেশ কিছু ফেইসবুক পোস্ট থাকার কথা বলেছেন এস এম ফরহাদ।

আলী হুসেনের হুমকির ঘটনায় প্রক্টর অফিস থেকে একটি এবং ডাকসু ও হল সংসদের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার পর আলী হুসেনের ‘শিবির সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগ অস্বীকার এবং প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মঙ্গলবার বলেন, “যাকে শিবিরের নেতা বানিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে সেটি যে মিথ্যা প্রপাগান্ডা, সেটি জানানোর পরে আমরা নিজেরাই প্রক্টর অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এসছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
“এবং এটি করবার পরে আমরা এটিও বলেছি, যদি তিনি ব্যক্তি এসএম ফরহাদ বা আমার ব্যাপারে রিট করার কারণে রিঅ্যাকশন দিতেন, তাহলে তার আগের দিনেই দিতেন। আমার দিক থেকে আমি তাকে (রিটকারীকে) ওয়েলকাম করেছি, শুভেচ্ছা জানিয়েছি এবং বলেছি যে কোর্টে যে রায় হবে সেটি মেনে নেব।”
ছাত্রশিবির তার অবস্থান জানানোর পরও ‘রাজনৈতিক দেউলিয়ত্বের’ বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আলী হুসেনকে ‘শিবির বানিয়ে’ প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জিএস পদপ্রার্থী ফরহাদ।
স্থানীয় ‘বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবন ভাঙার সঙ্গে ‘ছাত্রদলের সংযোগ’ থাকার কথাও বলেন ছাত্রশিবিরের এই নেতা।
তিনি বলেন, “রাকসুতে সুষ্ঠু পদ্ধতিতে আন্দোলন না করে, দাবি না জানিয়ে সরাসরি সেখানে ভাঙচুর এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চবি, রাবি এবং বাকৃবি- সবগুলো ঘটনা, সর্বশেষ ডাকসু বানচালের চেষ্টা, সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে এগুলো কীভাবে ডাকবে, এগুলো সামনে আসবে সে আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদেরকে ভয় পেয়ে তারা হচ্ছে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের যে শিক্ষার্থী একজন নারীকে যে শব্দচয়ন করেছে, সবার আগে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি এবং আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি প্রক্টরের কাছে। যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
“কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি, তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য সকল ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। যে অপরাধী তার বিচার না করে, যখন আমরা বিচার চাচ্ছিলাম সে বিচার না করে, তাকে দায়মুক্তি দিতে চায়। ‘শিবির নেতা’ বলে তাকে ফ্রেমিং করতে চায়। এটা কোন ধরনের হিপোক্রেসি ভাই? গত ১৬ বছরে হাসিনা তো এই ধরনের যে ন্যারেটিভ, এই ধরনের প্রপাগান্ডার মাধ্যমে টিকেছিল। আপনারা কি আবার হাসিনার পথ বেছে নিলেন?”