Published : 03 Jun 2026, 10:08 PM
দেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল পরিচালনার জন্য অভিন্ন নীতিমালা করার কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, "দেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যে দেশের সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে একটি অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে।"
‘শিক্ষার মান, পাঠদানের গুণগত উৎকর্ষ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো’ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আগা খান একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রদর্শনী দেখতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন।
বিদেশি কারিকুলামের এসব স্কুলে পাঠাদানের জন্য শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন করতে হয়। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে 'বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয়ে নিবন্ধন বিধিমালা’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিভিন্ন শর্ত রয়েছে সেখানে।
এখন আবার যে অভিন্ন নীতিমালার কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো বিভিন্ন কারিকুলামে পাঠদান চালালেও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন দিক এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এই নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

"এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনটা অক্সফোর্ড, কোনোটা কেমব্রিজের কারিকুলামে পাঠদান করে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসহ প্রশাসনিক কাঠামোতে কোনো সামঞ্জস্য নেই। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোর প্রশাসনিক ও বেতন কাঠামোতে সামঞ্জস্যতা আছে।”
তানভীর মিয়া বলেন, “ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো যে কারিকুলামেই পাঠদান করুক, প্রশাসনিক ও বেতন কাঠামো এবং পরিচালনার বিধান নির্ধারণ করে দিয়ে এই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। "
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করবে না, বরং চিন্তা করতে শিখবে, উদ্ভাবন করতে শিখবে এবং নেতৃত্ব দিতে শিখবে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদেরকে বিশ্বমানের দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং সৃজনশীলতা দিয়ে গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
"আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম যে ধারাতেই শিক্ষার্থী পড়ুক না কেন, সবাই সমানভাবে জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।"
আগা খান একাডেমির আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষাদান এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
তিনি শিক্ষার্থীদের অঅংশগ্রহণে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন এবং তাদের বিভিন্ন গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প ও সৃজনশীল উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।