Published : 23 Nov 2025, 01:10 AM
দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্পের ঝাঁকুনির পর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘জরাজীর্ণ’ লতিফ ছাত্রাবাস ধসে পড়তে পারে এমন শঙ্কায় সড়কে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার রাতে তারা দলবেঁধে ছাত্রাবাস ছেড়ে এর সামনে তেজগাঁও শিল্প এলাকার সড়কে 'বিছানা পেতে' অবস্থান নিয়েছেন।
আন্দোলনরতরা জরুরিভিত্তিতে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা বা নতুন হল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন।
এমন অবস্থায় রাতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ নোটিস দিয়ে লতিফ ছাত্রাবাস (পূর্ব ও পশ্চিম শাখা), ড. কাজী মোতাহার হোসেন ছাত্রাবাস, জহির রায়হান ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মিড টার্ম পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত রাখার ঘোষণাও দিয়েছৈ কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ছাত্রাবাসটির একাংশ গত জুনে 'ঝুঁকিপূর্ণ' ঘোষণা করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সংস্কারের পরামর্শ দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
কয়েক দশকের ইতিহাসে গত শুক্রবারের তীব্র ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেওয়ার পর শনিবার সাড়ে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিন দফার ভূমিকম্পের পর এ হলের শিক্ষার্থীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে হলে অবস্থান করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সড়কে অবস্থান নেন।
এমন পরিস্থিতিতে রাতে কর্তৃপক্ষ ইনস্টিটিউটের চারটি হল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

লতিফ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী ও কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রমজান আলী রাত ১১টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "৭০ থেকে ৮০ বছরের পুরনো ছাত্রাবাস ভবনটিতে আগে থেকেই অনেক ফাটল ছিল। শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পের পর নতুন করে আরো অনেক ফাটল পরিলক্ষিত হয়।
"শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় দুই দফা ভূমিকম্পের পর ফাটলগুলো আরো বেড়ে যায়। রাত ৮টার পর আমরা হলে অবস্থান করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিছানা বালিশ নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছি।"
ছয় মাস আগে হলটির চতুর্থ তলা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগও তার।
তার ভাষ্য, "শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের পর নতুন একটু ফাটল চোখে পড়লে আমরা তা কর্তৃপক্ষের নজরে আনি৷ এ প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাত্রাবাসটি পরিদর্শন করেন, তাদের ভাষ্য ছিল ছাত্রাবাসটি ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর সন্ধ্যায় ফের ভূমিকম্প আঘাত আনে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কিত।"
পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে সড়কে আসার আগের দিন শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের একদল আবাসিক শিক্ষার্থী নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে কর্মচারীদের এক ভবন দখল করে রাত্রিযাপন করেন।

সেখানে শুক্রবার রাত দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরতরা। তবে নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস না পাওয়ায় কর্মচারীদের ভবনেই রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
শনিবার পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে সড়কে রাত্রিযাপনের জন্য অবস্থান নেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাহেলা পারভীন এখন জাপানে অবস্থান করছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
শনিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রাত ১১টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্ট্যাকচারাল ডিজাইন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম সাফিন হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শনিবার পরিদর্শন করে আমাদের দল লতিফ হলটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পেয়েছি। ৭০ বছর পুরনো এবং জরাজীর্ণ ছাত্রাবাসটির চতুর্থ তলার কলাম, ছাদের বিমের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ছাদের বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টারসহ কংক্রিট খসে পড়েছে এবং স্লাব এর রিইনফোর্সমেন্ট বের হয়ে গিয়েছে।
"গত জুন মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন রেঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফ হলটির চতুর্থ তালা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে তা সংস্কার করার সুপারিশ করেছিলেন। আমরা আমাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ কারি অধিদপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
নতুন হল ভবনের দাবি: কর্মচারীদের ফ্ল্যাটে রাত্রিযাপন ঢাবি শিক্ষার্থীদের
দাবি নতুন ভবনের: কর্মচারীদের ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী