Published : 21 Nov 2025, 04:18 PM
মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের একদল আবাসিক শিক্ষার্থী কর্মচারীদের এক ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার পর সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংলগ্ন কর্মচারী ভবনের নিচে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে কয়েকটি ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ সময় তারা ‘আমার ভাই মেডিক্যালে, প্রশাসন কী করে’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এসব স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এর আগে সকালে ভূমিকম্পে হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের দুই শিক্ষার্থী আতঙ্কে তিনতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয়। বিভিন্ন হল থেকে নিচে লাফিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ জন বলে মুহসীন হলের শিক্ষার্থী সোহরাব হোসেন জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন গুরুতর আহত। এছাড়া বাকিরা সুস্থ আছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন সোহরাব হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা একটা মৃত্যপুরীতে আছি। অথচ কর্মচারীরা আছে আলিসান ভবনে। তাই, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন পর্যন্ত না মুহসীন হলের নতুন ভবন নির্মিত না হবে, আমরা ততদিন পর্যন্ত কর্মচারীদের ভবনে থাকবো।”

মুহসিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এম সালাম বলেন, “মৃত্যপুরীতে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। ধিক্কার জানায় কর্মচারীবান্ধব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের সাথে জড়িত থেকে তারা কীভাবে বলে ‘যা ইচ্ছা তাই করো’।
এছাড়া, মুহসিন হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাইফুল্লাহ বলেন, “কর্মচারীদের ভবন থেকে আমরা ফিরছি না। যতোদিন পর্যন্ত না মুহসীন হলে নতুন ভবন না হচ্ছে ততোদিন আমরা জহু হলের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ভবনে থাকবো।”
তিনি অভিযোগ করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার জাহাঙ্গীর সাহেব এবং প্রক্টর সাইফুদ্দিন সাহেব বলে শিক্ষার্থীরা মরে গেলেও আমাদের কিছু করার নাই, ‘তোমরা যা ইচ্ছা করতে পারো’।
“তাদের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। এই ট্রমাটাইজড মোমেন্টে উনারা কিভাবে এ ধরনের কথা বলে? আমার মুহসীন হলের শিক্ষার্থীরা আর মুহসীন হলে ফিরবেনা।”

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে যান উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ।
তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের আলাপ-আলোচনা চলছে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে দেশের তিন জেলায় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ।
ছুটির দিনের সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭; উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে।
২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক ছড়ায়, বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এরপর আসতে থাকে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।
এই ভূখণ্ডে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রাণঘাতি ভূমিকম্প দেশের মানুষ আর দেখেনি।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”