Published : 07 Sep 2025, 07:30 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভোটের নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘অপেশাদার আচরণ’ ও ‘একটি দলের প্রতি’ পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
কোনো ছাত্র সংগঠনের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা অনেকগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছি, সেটা একদম নির্বাচনের শুরু থেকে; আমরা প্রথমত বলেছিলাম, নির্বাচন কমিশনের অপেশাদারিত্বমূলক আচরণ এবং তারা একটা দলকে অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে।
“আমরা বলেছি তারা আমাদের শিক্ষক তাদের রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু যখন তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ছাত্রদের উপরে তাদের অবস্থান তৈরি হয়ে যায়, তখন এটা সবার জন্য অনেক বেশি আশঙ্কা তৈরি করে।”
বিশ্ববিদ্যালয় মূল প্রশাসন ও প্রক্টর-প্রাধ্যক্ষ একটি রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্ব করছে বলে অভিযোগ করে সাদিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যদি দেখি, আমাদের হলগুলোর প্রভোস্ট, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল প্রশাসন তারা একটা রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমাদের ফর্ম উত্তোলনের সময় একদিন বাড়ানো হয়েছিল, সেটাও একটা রাজনৈতিক দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য।
“এবং যখন থেকে প্রচারণা শুরু করেছিলাম, আমাদের একজন নারী প্রার্থীর ছবি বিকৃত করা হয়েছিল, সাবিকুন নাহার তামান্না। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম এবং এটার সাথে যারা জড়িত প্রত্যেকেই চিহ্নিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে নাই।”
শিবির প্যানেলের নারী প্রার্থীদেরকে ‘সাইবার বুলিং ও স্লাটশেমিং’ করার অভিযোগ এনে শিবির মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, “তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা জানিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। এবং একই সাথে আমরা দেখতে পেয়েছি, রাতের বেলায় গায়েবি নোটিস এবং বিভিন্ন যে নোটিসগুলো সেটাও একটা বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে অনেক বেশি ফেভার দিচ্ছে।”
বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা ফোন দিয়ে ভোট চাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রতি আপনারা দেখতে পেয়েছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদেরকে ফোন দেওয়া হচ্ছে এবং এ বিশেষ করে নারী ভোটারদেরকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন দলীয় পরিচয় বলে তাদেরকে ফোন দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত অনুভব করছে।
“তো আমরা যে বলছি একটা স্বতঃস্ফুর্ত নির্বাচন। সেই স্বতঃস্ফুর্ত নির্বাচনের পথে এগুলো হচ্ছে অন্তরায়।”
টিএসসি ও অন্যান্য জায়গায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রুমে ছাত্রদলের সামগ্রী রাখার অভিযোগ করে সাদিক কায়েম বলেন, “একটা ছাত্র সংগঠন তাদের দলীয় যে প্রচারণা সামগ্রীগুলো আছে, সেগুলো রেখেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে মৌনসম্মতি দিয়েছে। তো এটার মাধ্যমে লেভেল ফ্লেয়িং ফিল্ড এনশিওর হয় না।”
অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা নিযে শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সে জায়গা থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি তারা যেন দায়িত্বশীল আচরণ করে।”
শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সৎ, দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।