Published : 29 Jun 2026, 09:37 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
তবে নিয়মে পরিবর্তন আসায় এই বাজেটে গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এবার আলাদাভাবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বরাদ্দের বিষয়টি ফয়সালা হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বাজেট প্রস্তব উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চাহিদা ছিল ১৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে পুরোটা বরাদ্দ না পাওয়ায় মূল বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ।
এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেবে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, যা চাহিদার ৬৬.৭৩ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা।
অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “বাজেট স্বল্পতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ন্যূনতম পর্যায়ে পরিচালনার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আর্থিক ঘাটতি থাকবে কমপক্ষে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
“এই বাজেটে মূলত ব্যয়ভিত্তিক পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেটের উদ্দেশ্য খরচ কমানো নয়, বরং অপচয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় নিশ্চিত করা।”
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রথম সারির গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে, তখন অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় প্রতিযোগিতা করা ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও মনে করেন কোষাধ্যক্ষ।

গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পূর্বশর্ত অনুপ্রাণিত ও সুরক্ষিত শিক্ষকসমাজ মন্তব্য করে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, “বাস্তবতা হল এখানকার শিক্ষকদের বেতন কাঠামো আন্তর্জাতিক মান তো বটেই, প্রতিবেশী দেশের সমমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনাতেও পিছিয়ে। পর্যাপ্ত গবেষণা ভাতা, ল্যাবরেটরি সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগের ঘাটতি প্রকট।
“এর ফলে মেধাবী শিক্ষক গবেষকরা নিরুৎসাহিত হন এবং উন্নত সুযোগের সন্ধানে দেশত্যাগ করেন; যা মেধা পাচার ত্বরান্বিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যোগ্য মানবসম্পদ ধরে রাখতে শিক্ষকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বেতন, প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ভাতা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। দুঃখজনকভাবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে ইউজিসি থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক। অন্যদিকে, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শুধুমাত্র মৌলিক ও ফলিত গবেষণার জন্য ব্যয় করে থাকে।”
এর আগে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাবি গবেষণায় বরাদ্দ পায় ২১ কোট টাকা, যা ছিল মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ।
অনুমোদিত বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার মোট বাজেটের ৫৩.২২ শতাংশই ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। পেনশন ও অবসর সুবিধা সহায়তা খাতে ব্যয় হবে ১৪.৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া মোট পণ্য ও সেবা সহায়তার মধ্যে ২১.৫৮ শতাংশ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবার থেকে আসা ‘মেধাবী’ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুরক্ষার জন্যও এ বছর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে তথ্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুরক্ষার প্রদান একান্ত প্রয়োজন। মেধা থাকা সত্ত্বেও কেবল আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা ন্যায়ভিত্তিক সমাজের দায়িত্ব। এ বছর এ খাতে ইউজিসি থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।”
বাজেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গত অর্থবছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
সেখানে গত একবছরে বিভিন্ন বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩১টি চুক্তি, ১১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও বলেন তিনি।