হিটলারের জন্মবাড়ি এখন পুলিশ স্টেশন
জার্মানির সীমান্ত সংলগ্ন অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ আম ইন শহরে হিটলারের জন্মবাড়ি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এবার সেখানে উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন এক পুলিশ স্টেশন।
জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের জন্মবাড়িটি পুলিশ স্টেশন বা থানায় রূপান্তর করেছে অস্ট্রিয়া সরকার। হিটলারের জন্ম হয়েছিল জার্মানির সীমান্ত সংলগ্ন অস্ট্রিয়ার ইন নদীর তীরে ব্রাউনাউ আম ইন শহরের ওই বাড়িতে।
তার এই জন্মস্থানকে ঘিরে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বুধবার সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন পুলিশ স্টেশন। এই রূপান্তরের ফলে স্থানটি নব্য নাৎসিদের আরাধ্য স্থানে পরিণত হওয়া ঠেকানো যাবে বলেই আশা করছে অস্ট্রিয়া সরকার।
বাউনাউ আম ইন শহরের বাড়িটি কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল এবং একসময় প্রতিবন্ধীদের জন্য দাতব্য সংস্থা হিসাবেও এটি ব্যবহার হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ি কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা নিয়ে বছরের পর বছর বিতর্কের পর, অস্ট্রিয়া সরকার ২০১৭ সালে এটি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করে এবং ২০১৯ সালে এটিকে একটি পুলিশ স্টেশনে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাড়িটির সংস্কার কাজ শেষের পর ভবনের সাদা সম্মুখভাগে কেবল একটি 'পুলিশ' লেখা সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।
এর আগে, সেখানে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চিহ্ন ছিল ফুটপাতে রাখা মাউথাউসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের একটি স্মৃতিফলক, যেখানে লেখা ছিল ‘ফ্যাসিবাদকে কখনও ফিরতে দিও না’। তবে সেখানে সরাসরি হিটলারের নাম উল্লেখ ছিল না। ফলকটি সেখানেই রয়ে গেছে।
অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান স্টিফেন ম্লচোক ভবনটি পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, “এটিকে পুলিশ স্টেশন বানানোর লক্ষ্য হল, ভবনটির সঙ্গে অ্যাডলফ হিটলারের যে রহস্যময় ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, সেটি মুছে ফেলা।
স্টিফেন ম্লচোক জানান, ১৮৮৯ সালে হিটলার তার জন্মের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহ ওই বাড়িতে ছিলেন। এরপর তার পরিবার অন্যখানে চলে যায়।
নাৎসি আমলে ওই ভবনটিকে হিটলারের জন্মস্থান হিসেবে মহিমান্বিত করে শিল্প জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি নব্য নাৎসিদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। নতুন উদ্যোগের ফলে ভবনটি এখন স্থানীয় ও জেলা পুলিশের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেরহার্ড কার্নার থানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, "আজকের পুলিশ, আমাদের অস্ট্রিয়ান ফেডারেল পুলিশ, এই জায়গার সঙ্গে জড়িত প্রতীকের ঠিক বিপরীত। আমাদের পুলিশ... গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।"
পথচারীরা প্রায়শই এই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি নেওয়ার জন্য থামে। তবে হিটলার সম্পর্কে তাদের ধারণা কি তা জানা যায় না। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন দর্শনার্থী তেমন আসে না। আগের থেকে তাদের সংখ্যা এখন কমেছে।
তাছাড়া, অস্ট্রিয়ায় হিটলার স্যালুট এবং নাৎসি প্রতীকের ব্যবহার উভয়ই আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রাউনাউ আম ইন শহরের মেয়র বলেছেন, অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা ভবনটিকে পুলিশ স্টেশনে রূপান্তরের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন বলেই তিনি মনে করেন।
তারপরও এই সিদ্ধান্তটি কয়েকটি হলোকস্ট স্মৃতি সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছে। অস্ট্রিয়ায় হলোকস্ট থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা মাউথাউসেন কমিটি বলছে, সেখানে পুলিশ স্টেশন স্থাপন করা উচিত হয়নি বরং হিটলারের অপরাধগুলোর দিকে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সরকারের আরও বেশিকিছু করা উচিত ছিল।
মাউথাউসেন কমিশন এবং বর্ণবাদ ও উগ্র-ডানপন্থা বিরোধী নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি রবার্ট আইটার বলেন, “বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত গণহত্যাকারী হিটলারের জন্মস্থান ভুলে যাবে না। আর ব্রাউনাউকে তীর্থস্থান বানাতে নব্য-নাৎসিদের সংখ্যাও কমবে না।”
