Published : 15 Aug 2025, 01:42 AM
‘অন্তর্ভূক্তিমূলক’ শিক্ষা কমিশন গঠনের পাশাপাশি জুলাই গণ আন্দোলনকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করাসহ শিক্ষাখাতে ৩০টি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
একইসঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আধুনিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়ে সংগঠনটি শিক্ষায় বহুমাত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় (এসটিইএম) অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এসব সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি পাশ্চাত্য সভ্যতার আগ্রাসন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রভাবকে দেশের নিজস্ব শিক্ষা কাঠামো তৈরিতে অন্তরায় বলে তুলে ধরেন। বলেন, ১৯৭২ সালে ড. কুদরত- ই -খুদা শিক্ষা কমিশন স্বাধীনতার মূলমন্ত্র (সাম্য, মানবিক মর্যদা ও সামাজিক সুবিচার) উপেক্ষা করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি প্রণয়ণ করে, যা ছিল দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা, চিন্তা-চেতনা, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক জীবনবোধের পরিপন্থি।
তিনি কাঙ্ক্ষিত গুণগত শিক্ষার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং ‘ফ্যাসিবাদের’ ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া শিক্ষাব্যব্স্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে এসব সংস্কার প্রস্তাব করেন।
উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রস্তাব হল
>> অন্তর্ভূক্তিমূলক শিক্ষা কমিশন গঠন
>> জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তকরণ
>> ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আধুনিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন
>> বহুমাত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ
>> বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় (এসটিইএম) অগ্রাধিকার প্রদান
>> ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা
>> সামরিক ও শারীরিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
>> শিক্ষা বাজেট অগ্রাধিকার।
>> শিশুদের জন্য আনন্দায়ক স্কুলিং পদক্ষেপ।
>> উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন।
>> স্বাধীন ও স্বতন্ত্র নিয়োগ কমিশন গঠন।
>> নারী শিক্ষার প্রসারে উপর্যুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
>> শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষাঙ্গন বাস্তবায়ন।
>> গবেষণামুখী উচ্চশিক্ষা।
>> ছাত্ররাজনীতির যথাযথ চর্চা ও নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন।