Published : 25 Aug 2025, 12:05 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কয়েকজন প্রাধ্যক্ষ যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সেটাকে মতের ভিন্নতা হিসেবে দেখতে চাইছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন।
রোববার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা তো নেতিবাচক কিছু পাই নাই। আমরা তো পজিটিভলি যাচ্ছি। একটা মিটিং হলে সবাই কি একমত থাকে সব কিছুতে?
“সব কিছুতে একমত হয় না। অধিকাংশের মত যেদিকে থাকে, সেদিকে হয়। আপনাদের এটা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই।”
৯ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর তফসিল ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা টানানো হবে।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা অনুযাযী, ২৮টি পদের বিপরীতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬২ জন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ভিপি পদে; ৪৮ জন। জিএস পদে ১৯ জন ও এজিএস পদে ২৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসের ভোটের আমেজের মধ্যে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় কয়েকজন প্রাধ্যক্ষ ভোটের পরিবেশ নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। ভোট পেছানোর কথাও বলেছেন তাদের কেউ কেউ।
ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপে বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক জানতে পেরেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তবে, তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।
প্রাধ্যক্ষরা জানিয়েছেন, সভায় কয়েকজন প্রাধ্যক্ষ নির্বাচনে সবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন করার ব্যাপারেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তাদের কেউ।
নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতের বিষয়ে উদ্বেগ আসার কথা তুলে ধরে একজন প্রাধ্যক্ষ বলেন, “পাঁচই অগাস্টের পর থেকে ছাত্র প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছে, তারা মব ক্রিয়েট করে বিভিন্ন রকম হেনস্তার সঙ্গে জড়িত ছিল।
“তারা এসে বিভিন্ন প্যানেল থেকে নির্বাচন করছে। এতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। কেননা, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে।”
আরেকজন প্রাধ্যক্ষ বলেন, বিভিন্ন হলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধিদের কেউ বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবগুলোতে ছাত্রদের কেউ কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেটাও পরিবেশের একটা অন্তরায়।
এর আগে প্রভোস্ট স্টান্ডিং কমিটির পৃথক বৈঠকেও একই ধরনের আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে একজন প্রাধক্ষ্য বলেন, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সভায় অনেক কথা এসেছে, তিনি একা কিছু বলেননি। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ কেমন আছে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সব মিলিয়ে। কোথাও ভালো, কোথাও সমস্যা আছে; অর্থাৎ ভালো-মন্দ মিলিয়ে মতামত এসেছে।
“সমস্যাগুলো কীভাবে কাটানো যায়, সেই বিষয়ে স্যার বলেছেন। ওভারঅল পরিবেশ ভালো রাখার জন্য বলা হয়েছে। সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যেন কারো জন্য সমস্যা তৈরি না হয়।”
প্রাধ্যক্ষদের একটি অংশের এমন বক্তব্যের মধ্যে শনিবার সংবাদমাধ্যমে আসা উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের একটি বক্তব্য ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যটি ‘বিকৃতভাবে’ প্রকাশের কথা তুলে ধরে তার একটি বক্তব্য পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর।
সেখানে উপাচার্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “এ আয়োজনে যতক্ষণ সবাই আমার হাত ধরবেন, ততক্ষণ আমি মাঠে থাকব। যেখানে আমার হাত ছেড়ে দেবেন, আমি পরিষ্কার আপনাদেরকে ডেকে বলে দেব যে, এই জায়গাতে আমার বাধা হচ্ছে।”
পরে শনিবার রাতে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ভোট নিয়ে কিছু শঙ্কা দেখলেও শিক্ষার্থীদের সমর্থনও তিনি পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, “শঙ্কাতো আছেই, আছে দেখেই আমি চেষ্টা করছি, সবাই চেষ্টা করছি। আবার এটাও সত্যি কথা, অনেক সমর্থনও আছে। সমর্থন না থাকলে টিকতে পারতাম না। এ ধরনের একটা আয়োজন, যেটা কোনো অর্থে জাতীয় নির্বাচনের চাইতেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি সাড়া জাগাচ্ছে।
“সেজন্য এসব ক্ষেত্রে কিছু ষড়যন্ত্র থাকবে, কিছু সংঘাত থাকবে। আবার সমর্থনও আছে। শক্তিটাতো আমাদের ওটাই। আমি যদি কোনো লুকোচুরি না করি, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে সফল হব।”
ভোটের বিষয়ে বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন উপাচার্য।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রোববার প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম বলেন, “আপনি বলেন কোন প্রভোস্ট বলছে? এই নির্বাচন আমাদের একার কমিশনের পক্ষে সম্ভব না, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লাগবে, হল প্রশাসন লাগবে, প্রক্টরিয়াল প্রশাসন লাগবে। এমনকি আমাদের শিক্ষকরা এখানে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হবেন।
“তাহলে এ গ্রুপটার সঙ্গে আমাদের সারাক্ষণ মিটিং হবে। এটা আমাদের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সেখানে মত-দ্বিমত, ডাইভার্সিটি- সব থাকবে। দিনশেষে আমরা ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিই।”