Published : 24 Sep 2025, 07:27 PM
ডাকসু নির্বাচনের সিসিটিভি ভিডিও ও ভোটারদের সই থাকা তালিকা প্রকাশের যে দাবি উঠেছে, তাতে ‘অপারগতা’ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কারণ হিসেবে তারা বলছে, এগুলো ‘পাবলিক’ কোনো নথি নয়; এগুলো ‘গোপনীয়’ ও ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের ভোট হয় ৯ সেপ্টেম্বর, তাতে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার তথ্য দেয় নির্বাচন কমিশন।
ভোটের লড়াইয়ে ছাত্রশিবিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থীরা। তবে কোনো পদেই তারা জয়ের মুখ দেখেননি। সম্পাদকীয় যে তিনটি পদ শিবিরের হাতছাড়া হয়, সেগুলোতে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ভোটের ১৩ দিনের মাথায় গেল সোমবার কারচুপির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ছাত্রদল থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। তারা ডাকসু নির্বাচনের ১১টি অনিয়ম-অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপস্থিতির আগেই ভোটার তালিকায় ভোটারের স্বাক্ষর থাকা এবং নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার সরবরাহসহ নানা জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ভিডিও চেয়ে আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদলের প্রার্থীরা।
নির্বাচনে নানা অনিয়ম কারচুপির অভিযোগে জানাতে সবশেষ মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে সাক্ষাত করে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ ও ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল।
সেখানেও তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দাবি নিয়ে গড়িমসি করছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এল। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সবার সব অভিযোগের জবাব দেয়নি প্রশাসন। কেবল ছাত্রদলের অভিযোগের জবাব দেওয়ার আভাস রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। তবে সবার জবাবই দেওয়া হবে বলে সেখানে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকটি আবেদনপত্র বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা জবাব দেব।
“কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গত সোমবার একটি ছাত্রসংগঠন সংবাদ সম্মেলনে (মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি) উচ্চারিত কিছু অভিযোগের জবাব এই মুহূর্তে দেওয়াটা সমীচীন মনে করছি। সেক্ষেত্রে দুটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, “একটি হলো, কয়েকজন আবেদনকারী আমাদের কাছ থেকে নির্বাচনের দিন ধারণকৃত এবং পরবর্তীতে সংরক্ষণকৃত সিসিটিভি ফুটেজের পুরোটাই চেয়েছেন। আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছি এবং আইনজীবীদের মতামতও নিয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ কোনো পাবলিক ডকুমেন্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণ করা এবং সংরক্ষণ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত আমানত, যা নির্বাচনসংক্রান্ত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহায্যকারী সাক্ষ্য হিসেবে বা ডকুমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করতে পারি।
“আমরা আবেদনপত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছি। আবেদনপত্রগুলো অনেকটাই অস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কী কারণে, কোন সময়ের, কোন বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে হবে, তা দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়নি। এমতাবস্থায় কতিপয় দরখাস্তে কতগুলো সাধারণ প্রশ্নমালা কিংবা কতগুলো অত্যন্ত ব্যাপকতর বিষয়ে প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছে, যেগুলোতে তেমন কোনো সারবত্তা নেই এবং আবেদনকারীদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। তার পরও কোনো প্রার্থী যদি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ের কোনো একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা পর্যালোচনা করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান, তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ বা মনোনীত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত কোনো স্থানে তা দেখতে বা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।”
ভোটারদের সই করা তালিকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, “এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ মনে করে, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিতে এর কপি দেওয়ার বিধান নেই। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভোটকেন্দ্রে এসে, প্রাথমিক তথ্যাদি দিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে যে তালিকায় সই করেছেন, সে তালিকাটি অত্যন্ত গোপনীয় তালিকা। এটাও কোনো ‘পাবলিক ডকুমেন্ট’ নয়। সুতরাং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংরক্ষণের স্বার্থে এটি দেওয়া কর্তৃপক্ষ যথাযথ মনে করে না।
“এছাড়া ওই তালিকা কেন দরকার, সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। ফলে কতগুলো অস্পষ্ট, সারবত্তাহীন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সবিনয়ে অপারগতা প্রকাশ করছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রতিষ্ঠান বা ভেন্ডারদের পরিচয় সচেতনভাবে গোপন রাখা হয়েছে। এই গোপনীয়তা রক্ষা একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। এখানে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে, সমস্ত নিয়ম মেনে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বা দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি পরীক্ষিত ও দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
“যে ওএমআর মেশিনে স্ক্যানিং করে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়, তা নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্ভব নয়। সুতরাং যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ করা হয়েছে, তাতে এটি অরক্ষিত থাকার সুযোগ নেই।”
আরও পড়ুন
ডাকসু: ব্যালট পেপারে ক্রমিক নম্বর না থাকায় ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগ ছাত্রদলের