১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যাশনাল ব্যাংককে এবার ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

আমানতকারীদের বৃহস্পতিবার থেকে চাহিদা মতো টাকা দিতে ব্যাংকটিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংককে এবার ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 10:27 PM

Updated : 13 Oct 2026, 10:27 PM

তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে এবার ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক।

তিন মাসের জন্য ১০ শতাংশ সুদে এই অর্থ ধার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টাকার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি আছে। এই অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের তাৎক্ষণিক তারল্যের চাহিদা মেটানো এবং ব্যাংক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে যাতে সব আমানতকারী চাহিদা মতো অর্থ তুলতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে ন্যাশনাল ব্যাংকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জামিনদার হয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে বড় অংকের টাকা ধার নিতে ন্যাশনাল ব্যাংককে সহায়তা করল, যারা কয়েক বছর ধরে লোকসানে রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো টাকা ধার দেয়নি। কিন্তু কোনো ব্যাংক যদি সমস্যায় পড়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চায় তাহলে তো আমরা তাকে ফেলে দেব না। চাহিদা মত ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ যেন তুলতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে।

“এখন ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ সংগ্রহ করবে। কোথা থেকে করবে সেটা তারা (ন্যাশনাল ব্যাংক) ঠিক করবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা থাকতে পারে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিডিনিউজে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোনালী ব্যাংক যে অর্থ দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংককে, তাতে তিন মাসের গ্যারান্টি রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। তিন মাসের মধ্যে এই অর্থ ফেরত দিতে হবে ন্যাশনাল ব্যাংকে। গভর্নরের নির্দেশনায় দুই ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই গ্যারান্টির মানে হল, কোনো কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ ফেরত দিতে না পারলে সোনালী ব্যাংকের টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের টাকা ধার নেওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

ঋণ অনিয়ম ও অনাদায়ী খেলাপি ঋণের চাপে বেশ কয়েক বছর থেকে লোকসানে ন্যাশনাল ব্যাংক। তারল্য সংকটে ব্যাংকটি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দিতে পারছে না। আরও কয়েকটি ব্যাংকের মত এ ব্যাংকও টাকা ফেরত দিতে পারছে না বলে আমানত পাওয়াও কমে যায়। এতে ব্যাংকটি আরও চাপে পড়েছে।

এ অবস্থায় গেল ৮ অক্টেবার বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

সেই বৈঠকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, “আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা যাতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারে, সে লক্ষ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির সকল শাখা, এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন (গভর্নর)।”

সারা দেশে ব্যাংকটির ২৮৫টি শাখা রয়েছে। গভর্নরের এমন নির্দেশনা জনসম্মুখে এলে গত সোমবার পর্যন্ত ব্যাংকটিতে আমানত তুলে নিতে সাড়ে ৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে।

সবশেষ অনীরিক্ষীত প্রতিবিদেন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি লোকসান গুনে ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান গুণে ৭ টাকা ১০ পয়সা।

২০২৫ সালের এই সময়ে লোকসান ছিল শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৬ পয়সা ও মোট লোকসান ছিল ৯৮৫ কোটি টাকা

২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়, তখন এর পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের হাতে।

পরে এ ব্যাংকের পুরনো উদ্যোক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ২১ বছর পর ২০২৪ সালের অগাস্টে চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ন্যাশনাল ব্যাংকের শুরু থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন মিন্টু। ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন চেয়ারম্যান।

পরে উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ছেলে ব্যবসায়ী তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন ২০০৭ সাল পর্যন্ত।